পাতা:বিপ্লবী সুভাষচন্দ্র - প্রফুল্লরঞ্জন রায় - শ্যামদাস বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১২৬

বিপ্লবী সুভাষচন্দ্র


এর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণেরই পক্ষপাতী ছিলেন। সুভাষচন্দ্রের রাষ্ট্রিক দর্শন ও মতবাদ মূলতঃ সমাজতান্ত্রিক চিন্তা ও কর্মপন্থা দ্বারাই গঠিত—এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নাই।

আঠারো

 সুভাষচন্দ্রের প্রথম রাষ্ট্রপতিত্বের কাল প্রবল কর্মচাঞ্চল্যের ভিতর দিয়া কাটিয়া যায়। ভগ্নস্বাস্থ্য লইয়া তিনি কংগ্রেসের মত বিরাট প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব করেন। সেই সময়েই দেশীয় রাজ্যসমূহে গণবিক্ষোভ দেখা দেয়—নিপীড়িত প্রজাগণ চেতনা লাভ করিয়া দলে দলে কংগ্রেসের পতাকাতলে সমবেত হইতে থাকে ও বৃটিশ অনুগ্রহপুষ্ট অত্যাচারী স্বেচ্ছাতন্ত্রের বিরুদ্ধে তুমুল সংগ্রাম শুরু করে। তালচর, ধেনকানল, মহীশূর হিন্দোল, জয়পুর, রণপুর, রাজকোট প্রভৃতি বিভিন্ন দেশীয় রাজ্যে গণজাগরণের প্লাবন বিপুল আকার ধারণ করে এবং বৃটিশ শাসন ও রাজন্যবর্গের যুক্ত দলন নীতির বিরুদ্ধে ভারতীয় জণগণের ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করে। সেই সময়ে কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট মুসলমান সম্প্রদায়কেও অধিকতর সংখ্যায় কংগ্রেসের পতাকাতলে আনিবার চেষ্টা করেন। রাষ্ট্রপতি হিসাবে সুভাষচন্দ্র মুসলীম লীগের সভাপতি মিঃ জিন্নার সহিত সাক্ষাৎ করিয়া জাতীয় মুক্তি আন্দোলনে মুসলমান জনগণের সহায়তালাভের জন্য কংগ্রেস ও লীগের মধ্যে ঐক্যসংস্থাপনের উদ্দেশ্যে আলাপ-আলোচনা করেন। তাঁহার এই চেষ্টা ফলবতী না হইলেও এই প্রচেষ্টার দ্বারাই তিনি মুসলমান জনগণের হৃদয় অধিকার করিতে সমর্থ হন। সেই সময়েই মহাচীনের মুক্তি সংগ্রামে সহানুভূতি প্রদর্শনের জন্য কংগ্রেসের পক্ষ হইতে চীনে কংগ্রেস মেডিক্যাল মিশন প্রেরিত হয়। চারিজন