পাতা:বিপ্লবী সুভাষচন্দ্র - প্রফুল্লরঞ্জন রায় - শ্যামদাস বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/২৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

২২০

বিপ্লবী সুভাষচন্দ্র

অর্জ্জন করা। স্বাধীনতা অর্জ্জিত হইলে জাতীয় পুনর্গঠনের কাজ আরম্ভ হইবে—সেই যুগকে আমরা বলিব সমাজতন্ত্রের যুগ। আমাদের আন্দোলনের বর্ত্তমান ক্রমে যাঁহারা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আপোষ হীন সংগ্রাম চালাইবেন তাঁহারাই বামপন্থী বলিয়া অভিহিত হইবেন। পক্ষান্তরে যাঁহারা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এই সংগ্রামে সন্দেহ ও সংশয়ের প্রশ্রয় দিবেন এবং উহার সহিত আপোষ মীমাংসার চেষ্টা করিবেন তাঁহারা কখনই বামপন্থী নহেন। আমাদের আন্দোলনের পরবর্ত্তী ক্রমে বামপন্থী ও সমাজতন্ত্রবাদ একার্থবোধক হইবে। সাম্রাজ্যবাদের সহিত সংঘর্ষে বামপন্থীরা যদি বলিষ্ঠ ও আপোষহীন নীতি অনুসরণ করিয়া চলিতে পারেন তবে তাঁহারাই ভবিষ্যৎ ভারতের ইতিহাস রচনা করিবেন।

 যাঁহারা এখনও আপোষের কথা ভাবিতেছেন তাঁহাদের নিকট আয়রল্যাণ্ডের সাম্প্রতিক ইতিহাস এবং ইঙ্গ-আইরিশ চুক্তির পরিনামফল বিশেষ শিক্ষাপ্রদ হইবে। এদেশে যদি সাম্রাজ্যবাদের সহিত কোনরূপ আপোষ সংঘটিত হয় তাহা হইলে বামপন্থীদের ভবিষ্যতে কেবল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যেবাদের সহিত সংগ্রাম করিতে হইবে না, সাম্রাজ্যবাদের নবলব্ধ ভারতীয় মিত্রদের সহিতও সংঘর্ষে প্রবৃত্ত হইতে হইবে। আপোষ বিরোধী জাতীয় আন্দোলন সেক্ষেত্রে দারুণ অন্তর্যুদ্ধে পরিণত হইবে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভারতীয় মিত্রদের উদ্দেশ্যে এই সম্মেলন হইতে আমি এই সতর্ক বাণী উচ্চারণ করিতেছি।”