পাতা:বিপ্লবী সুভাষচন্দ্র - প্রফুল্লরঞ্জন রায় - শ্যামদাস বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/২৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

২৫০

বিপ্লবী সুভাষচন্দ্র

গঠনেই এই বিষয়ে তাঁহার কর্মপন্থার পরিচয় পাওয়া যায়। ভারতবর্ষ সমাজতান্ত্রিক ভিত্তিতে একটি Federal Republic হইবে—শাসনতন্ত্র সম্বন্ধে ইহাই তাঁহার আদর্শ। ভারতের স্বাধীনতা অর্জ্জনকল্পে প্রয়োজন হইলে সুভাষচন্দ্র বৈদেশিক সাহায্য গ্রহণ করিতে কুণ্ঠিত নন—এমন কি, “ব্রিটিশবিরোধী শক্তির সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সঙ্কটের সুযোগ গ্রহণ” এই নীতি সুভাষচন্দ্রের সংগ্রামপদ্ধতির একটি অপরিহার্য্য অঙ্গ। এই উদ্দেশ্যেই তিনি ১৯৪১এ ভারত ত্যাগ করিয়াছেন। ভারতের অভ্যন্তরে অহিংস ব্যাপক গণ-আন্দোলনেই তিনি বিশ্বাসী। সর্বোপরি, চিরবিদ্রোহী ভারতসন্তান সুভাষচন্দ্র স্বাধীনতা অর্জ্জনের জন্য নিরন্তর আপোষহীন সংগ্রামেই বিশ্বাসী। আলাপ আলোচনায়, আপোষ রফায় পূর্ণ স্বাধীনতা আসিতে পারে, ইহা তিনি বিশ্বাস করেন না। ভারতের এই অশান্ত ও অশ্রান্ত সন্তান স্বীয় আদর্শে অবিচলিত নিষ্ঠা রাখিয়া চূড়ান্ত ত্যাগ ও দুঃখবরণ করিয়াছেন—ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁহার অক্ষয় অবদান চিরকাল তাঁহাকে অমর করিয়া রাখিবে। তাঁহার ত্যাগ, নিষ্ঠা, চরিত্রবত্তা ও দুঃখবরণ ব্যর্থ হইবে না—এই বিশ্বাসেই ভারতবর্ষ তাঁহার আদর্শ অনুসরণ করিয়া চলিবে। তাঁহারই অমরবাণী আবৃত্তি করিয়া আমরা বলিব—“No sacrifice is ever futile. It is through suffering and sacrifice alone that a cause can flourish and prosper and in every age and clime the eternal law prevails—the blood of the martyr is the seed of the church. In this mortal world every thing perishes but ideals and dreams do not. The individual must die, so that the nation may live.” কবির ভাষায় এই বাণীই সুভাষচন্দ্র দেশবাসীর সমক্ষে রাখিয়াছেন—

“আমার জীবনে লভিয়া জনম জাগরে সকল দেশ।”