পাতা:বিপ্লবী সুভাষচন্দ্র - প্রফুল্লরঞ্জন রায় - শ্যামদাস বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৩২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

বিপ্লবী সুভাষচন্দ্র

৩০১

 ভারতের মুক্তিলাভকল্পে নেতাজী যে পথ বাছিয়া লইয়াছেন, সেই পথে মৃত্যুর আনাগােনা অবারিত—প্রতিমুহূর্ত্তে মৃত্যুর সম্মুখীন হইতে হয়। অতএব,মুক্তিসংগ্রাম-প্রচেষ্টায় নিরন্তর বিপদসঙ্কুল জীবনযাত্রার অনিশ্চয়তার মাঝে মহাবিপ্লবী নেতাজী যদি বীরের মৃত্যু বরণ করিয়া থাকেনই, তবে অদৃষ্টের সেই নির্মম বিধানকে স্বীকার করিয়া লইবার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকিতে হইবে। নেতাজী বলিয়াছেন—“If I die what does it matter?” “The leaders are incidental. They can come and go. It is the movement that must flow on for ever.” এই মহাপ্রাণ মহামানবের অভ্রান্ত নির্দ্দেশ ও মহাবাণীই আমাদের শোকে সান্ত্বনা দান করিয়া পতন-অভ্যুদয়-বন্ধুর যাত্রাপথে চলিবার প্রেরণা যােগাইবে।

 আজাদ হিন্দ্ ফৌজরূপ বিরাট কীর্ত্তি সাধন করিয়া দেশগৌরব নেতাজী সুভাষচন্দ্র নবতম ও ভাস্বরতম মহিমাষ আমাদের নিকট উদ্ভাসিত হইয়াছেন। ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাসে তাঁহার সাধনা ও অক্ষয় অবদান স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকিবে। যুগ যুগ ধরিয়া ভাবী ও বর্ত্তমান ভারতের সন্তানগণ তাঁহার অতুলনীয় স্বদেশপ্রেম, ত্যাগ ও আজীবন সাধনা হইতে নব নব প্রেরণা লাভ করিবে। নেতাজীর পূত জীবন ও সাধনার মহত্ত্বের উদ্দেশে কবির ভাষায় বলিতে পারি―

“আজো যারা জন্মে নাই তব দেশে
দেখে নাই যাহারা তােমারে, তুমি তাদের উদ্দেশে
দেখার অতীতরূপে আপনারে করে যাবে দান
দূর কালে। তাহাদের কাছে তুমি নিত্য-গাওয়াগান
মূর্ত্তিহীন।”

বন্দেমাতরম্ 

জয় হিন্দ্