পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


le ততই যুদ্ধ বিক্ষিত-শেষ পর্যন্ত বিহ্বল হয়ে পড়েছেন, মনে হয়েছে এই ধারণাতীত বিপুল (?–কোন সংজ্ঞা দেওয়া যায় একে ) বিশ্বের স্বষ্টিকর্তা কে, যার ইচ্ছায় ও নির্দেশে সীমাহীন পরিধিহীন বিশাল নীহারিকা এই লক্ষ লক্ষ নক্ষত্র, কোটি কোটি তারকাপুঞ্জের জন্ম দিচ্ছে অথচ যে সব নক্ষত্রের মধ্যেও অযুত অযুত যোজনের ব্যবধান ! মন আপনিই বার বার নত হয়েছে তার চরণে । 曾 এবং এই ঈশ্বর-বিশ্বাসই ক্রমে ঈশ্বরের প্রতি প্রেমে পর্যবসিত হয়েছিল। এ প্রেম যত দৃঢ় হয়েছে, ততই পার্থিব সমস্ত কামনা বাসনা লোভ থেকে তার মন সরে এসেছে। তার চেয়েও বড় কথা-অভিমানশূন্য হতে পেরেছেন। তার কোন প্রধান রচনাকে কেউ নিন্দ করলে অনায়াসে হেসে ‘চ্যান করুক গে যাকৃ’ বলে উড়িয়ে দিতে পেরেছেন । বোধ করি চোঙ্গটি তালি দেওয়া কেডস জুতে পায়ে দিয়ে তার জন্তে বিশেষ-ব্যবস্থায়-প্রেরিত গাড়িতে উঠে সভাপতিত্ব করতে যেতে পেরেছেন ; কয়েক হাজার টাকার নোট কীটদষ্ট হয়েছে, হাজার দুই-তিন টাকার চেক তারিখ পেরিয়ে বাতিল হয়ে গেছে, সে ঘটনাকে স্মিতহাস্তে পরমুহূর্তেই মন থেকে সরিয়ে দিতে পেরেছেন ; তার আমলে টাকার অনেক মূলা ছিল তবু পয়তাল্লিশ টাকা বেতনের ইস্কুল মাস্টারের পকেটে সাতশ টাকার নোট সাত মাস পড়ে থেকেছে—সেটা তুলতে বা কাকেও বলতে মনে পড়ে নি। জ্যোতিষতত্ত্ব ও উদ্ভিদতত্ত্বের মতো আরও একটি বিষয়ে তার কৌতুহল ছিল, সেটা হচ্ছে পরলোকতত্ত্ব। এ বিষয়ে বিস্তর পড়াশুনে করেছেন, যখনই যেখানে কোন ৰই বা প্রবন্ধের জুমান পেয়েছেন—তা সংগ্ৰহ ক’রে পাঠ করেছেন, ফলে কৌতুহল নেশায় পরিণত হয়েছে। মানুষের মৃত্যুর পরও তার সেই বিশেষ আত্মার অস্তিত্ব থাকে, সে আত্মার সঙ্গে এই পৃথিবীর যোগাযোগ থাকে, এবং কেউ কেউ আবার জন্মান্তর গ্রহণ করে—এটা তিনি সম্ভবত বিশ্বাস করতেন। সম্ভবত বলছি এই জন্যে যে, এই জিনিসগুলো ঠিক কেউ নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করতে পারে কিনা সন্দেহ আছে । শুনেছি যে বিখ্যাত নাস্তিক হাৰ্বাট স্পেন্সার, ঈশ্বর যে নেই সারা জীবন এই সত্যটা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন, সেই ব্যক্তিই মৃত্যুকালে ‘যদিই ঈশ্বর থাকেন তো তার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছিলেন। বিভূতিবাবুও আমাদের কাছে যে পরিমাণ উৎসাহ সহকারে বিভিন্ন পুথিপত্র নজিরের সাহায্যে পরলোকের অস্তিত্ব প্রমাণ করার চেষ্ট করতেন—তাতে মনে হয় তার নিজের মনে একটু সন্দেহের বীজ কোথাও থেকেই গিয়েছিল। ঘা মানুষ তর্কাতীতভাবে সত্য বলে জানে তা প্রমাণ করার জন্যে এত কাণ্ড কুরে না। আর, এ সন্দেহ তো স্বাভাবিকও । সে যাই হোক, জ্যোতিষতত্ত্ব আলোচনা এবং পরলোকতত্বে ও ঈশ্বরে বিশ্বাস এই তিনেরই ফলশ্রুতি—“দেবযান গ্রন্থের স্বষ্টি। তার ডায়েরী পড়লে জানা যায় যে দেবযানের পরিকল্পনা বইদিন থেকেই বীজাকারে তার মাথায় ছিল, হয়ত সেই পথের পাচালী’ রচনার আমল থেকেই, শুধু-রোধ করি ভাল ক’রে ভেবে-চিন্তে লিখবেন বলেই---দীর্ঘকাল ভাবনার মধ্যে এই কল্পনাটাকে জীইয়ে রেখেছিলেন, অথবা অন্য অপেক্ষাকৃত সহজ রচনার তাগিদেই এই রচনা