পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান । brዓ শেষের কথা ক’টি পৌরুষগর্বে উচ্চারণ করবার সময় তিনি নেত্যনারায়ণদের ঘর থেকে বেশ একটু দূরে বারান্দার প্রায় ওপাশে চলে গিয়েচেন যদিও, তবুও চলতে চলতে একবার পেছন ফিরে দেখে নিলেন, দুর্দান্ত মাতালটা তার কথা শুনলো কিনা ৷ যতীন দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বল্পে—এতদূর নেমেচে ওর অবস্থা ! এ আমি ভাবিনি— পুষ্প বল্লে—ভাবা উচিত ছিল, এ সব জিনিসের এই কিন্তু পরিণাম—এখান থেকে চলো যাই— যতীন চুপ করে বসে ছিল, আশার দুর্দশ তার মনে গভীর রেখাপাত করেচে। সে দুঃখিত ভাবে বল্পে -তুমি-কেবলই এসে চলে যেতে চাও, কিন্তু আমি কোথায় গিয়ে শাস্তি পাবো পুপ ? আমার কর্তব্য পালন করিনি বলেই আজ ওর এই দুর্দশ । আমি যদি স্বামীর কর্তব্য পালন করতাম, যদি আশার জন্যে তেমন টাকাকড়ি রেখে যেতে পারতাম, তাহোলে— —তোমার ভুল এখনো গেল না । —কেন, ঠিক কথা বলচি কি না ? ভুলটা কোথায় ? পুষ্প মৃদু হেসে ওর পাশে এসে বল্পে—তোমাকে এত ভাল ভাল জায়গায় নিয়ে গেলাম, তোমার বুদ্ধিটা যেমন স্থল তেমনই রইল— —কেন ? —আশা বৌদি নিজের কর্ম-ফলে এখনও অনেকদিন এই রকম ভুগবে। তুমি ওর কর্মের বন্ধন কাটাতে পারো সাধ্যি কি ? টাকা রেখে যেতে, টাকা মৃদ্ধ চলে যেতো। বড়লোকের ছেলেদের তো অনেক টাকা দিয়ে বাপ-মা মরে যায়—তারা উচ্ছন্ন যায় কেন ? —আমি এখানে থাকবো পুষ্প । ওকে ফেলে যেতে পারবো না এ ভাবে— —তুমি কেন, দরকার হোলে আমিও থাকবো। এখানে থাকতে আমার রীতিমত কষ্ট হয় —তবুও আমি তোমার জন্তে, যদি আশা বৌদির এতটুকুও উপকার করতে পারতাম তবে এখানে থাকতে কিছু আপত্তি করতাম না । কিন্তু তুমি এখনও অনেক জিনিস বোঝে নি। এসব নিফল চেষ্টা । করুণাদেবীর মুখে শুনেচি করুণার পাত্র মেলানো বড় দুর্ঘট। নয়তো করুণাদেীর মত শক্তিশালিনী দেবী আশা বোঁদিকে এখান থেকে উদ্ধার করতে পারেন না ? এক্ষুনি পারেন— কিন্তু তারা জানেন, তা হয় না। জীব নিজের চেষ্টায় উন্নতি করবে, বাশ দিয়ে ঠেলে উচু করে দিলে জীব উন্নতি করে না ! নয়তো ভগবান এক পলকে সব পাপী উদ্ধার করতে পারতেন । র্তার উদ্বেগু বুঝে কাজ করতে হয়। সে তুমি আমি বুঝিনে, কিন্তু করুণাৰীে, প্রেমদেবীর মত দেবদেবীরা অনেকখানি বোঝেন—তাই তারা অপাত্রে— —আমি না বুঝতে পারি, কিন্তু তুমি ঠিক বোঝে । তোমার দেখবার ক্ষমতা আমার চেয়ে অনেক বেশি। তবুও তোমার সঙ্গে এখানে ওখানে গিয়ে আমার অনেক উন্নতি হয়েচে আগেকার চেয়ে—এখন বুঝিয়ে বল্পে বুঝি। তোমার সেই সন্ন্যাসীর মতে এখন বোধ হয় আমার মুকুলিত চেতন—নয়তে বুঝিয়ে বল্পেও বুঝতাম না, মনে সংশয় জাগতে, অবিশ্বাস জন্মাড়ে, ত হোলে সে সব তত্ত্ব আমার কোনো কাজে লাগতো না ।