পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


مه ۶ی ক্রমাগত পিছিয়ে গেছে । শেষ পর্যস্ত বর্তমান নিবন্ধকারের নিবন্ধেই তিনি এই রচনায় হাঙ দেন । কারও কারও মতে—তার মধ্যে বিভূতিবাবুর ভক্তরাও আছেন অনেকে—এই বই লেখা তার উচিত হয় নি। এ তার মতো লেখকের অনুপযুক্ত, এ বই লিখে তিনি নাকি হাস্যাম্পদ হয়েছেন । ••• আমি সামান্ত ব্যক্তি, তবু ভরসা করে ইতিপূর্বেও প্রতিবাদ করেছি, এখনও করছি। আমার মতে এ বই তার এক অপূর্ব স্বষ্টি । কল্পনার বিশালতু ও বৈচিত্র ছাড়াও এর মধ্যে তিনি যে কারিগরির পরিচয় দিয়েছেন তা এক মহান লেখকের পরিণত লেখনী ছাড়া সম্ভব হ’ত না । কী অনায়াসেই তিনি এর মধ্যে স্বর্গমর্ত্যকে মিলিয়েছেন, সম্পূর্ণ বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য ভাবে । কত সহজে দুটি স্বরকে একই যন্ত্রে ধরেছেন । মৃত্যুর পরেও মানুষের মানসত বদলায় কিনা এ সত্য প্রমাণ করা সম্ভব নয় কিন্তু লেখক যে ছবিগুলি একেছেন—যেমন পুষ্পর গ্রেমের একনিষ্ঠত এবং যতীনের দোলাচলচিত্তত, কেবলরাম কুণ্ডুর ক্যাশবাক্সর পাশে বসে থাকা, রামলালের স্ত্রীলোক অন্বেষণ— তাতে পাঠকদের এ মত সম্পূর্ণ সত্য বলে বিশ্বাস করতে কোন অসুবিধা থাকে না । যতীন জীবিতকালে যা ছিল মরার পরও তাই, অত্যন্ত দুর্বলচিত্ত, যখন পুষ্পর কাছে থাকে তখন একরকম, পুপ সরে গেলেই পৃথিবী ও অবিশ্বাসিনী স্ত্রী আশা তাকে দুর্বার আকর্ষণে টানে, সে স্থির থাকতে পারে না। আশা তাকে ত্যাগ ক’রে এসেছিল, খবর নিতে গেলে দেখা করে নি—এক লম্পটের প্রেমে মুগ্ধ হয়ে মা ছেলে-মেয়ে সব ছেড়ে অকুলে ভেসেছে – তৎসত্বেও—হয়ত বা সেই জন্যেই—আশার প্রতিই তার আকর্ষণ সমধিক । পুপকে সে ভালবাসে—কিন্তু পুষ্প তার মানসতার অনেক উধেব, ওকে যেন ধরা-ছোওয়ার মধ্যে পায় ন৷ যতীন। আশা তার মানসিক স্তরের মাচুর্য, আশাকে তাই কামনা করা যায়, সম্ভোগ করার কথা কল্পনা করা যায়। যে কারণে ‘শেষের কবিতা’র লাবণ্যকে ঘরে আনা যায় না, সে সরোবর, তাতে মন সাতার কাটতে পারে কিন্তু ঘর করার জন্যে কেটির মতো ঘডায় তোলা জল দরকার—সেই কারণেই পুষ্পকে ভালবাসলেও ঘর করার জন্যে, কামনা করার জন্যে আশাকে দরকার । এই বইতেও বিভূতিবাবুর সেই দরিদ্র সংসারের প্রতি লোভই যতীনের মনোভাবে প্রকাশ পেয়েছে। মোক্ষ নুয়—জন্মান্তর-গ্রহণেই তার আগ্রহ বেশী, কোলাবলরামপুরের দুঃখিনী মা, যে নিজেই খেতে পায় না, কলাইয়ের ডাল, মোচা-ছেচকি ও কাচকলা ভাজা যার রাজভোগ —গেরস্তালী বলতে যার সম্বল ময়লা কঁথা, ছেড়া মাদুর ও মাটির হাড়িকুড়ি—তার কোলেই পুনরায় জন্ম নিয়ে খেজুখে বড় হয়ে উঠবে, বড় হয়ে রোজগার করে ভাঙ্গাবাড়ি সারাবে, সজনেতলায় পাকা রান্নাঘর করে দেবে, মাকে স্কুল গড়িয়ে দেবে, তার সেবা করবুে-যতীনের এই ইচ্ছাই প্রবল। তার মনে হয়, পুষ্প তাকে যতই টাহুক, উচ্চস্বর্গের উপযুক্ত নয় সে । মাটির পৃথিবী তাকে স্নেহময়ী মায়ের মত অঁাকড়ে ধয়ে রাখতে চায় শত বন্ধনে। তার মনে