পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৯২ বিভূতি-রচনাবলী সারারাত - কথা বলতে বলতে কাক কোকিল ডেকে রাত ফর্সা হয়ে গেল । পুষ্পের বার বার আহবানেও যতীন সেখান থেকে নড়তে পারলে না । পুরহার! জননীর আকুল কান্না ও আছাড়ি-বিছাড়ির মধ্যে সেই আধ-বুড়ো লোকটি আর দুজন ছেকের মৃত শিশুদেহ নিয়ে বৃষ্টিধারা মাথায় বাশবনের পথে চললো। যতীন, পুষ্প ও পুষ্পের মা গেল ওদের সঙ্গে । বাড়ী থেকে দু রশি আন্দাজ দূরে ছোট্ট একটা নদী, কচুরিপানার দামে আধ-বোজা ; ওরা শাবল দিয়ে গর্ত খুড়ে মৃতদেহটা নদীর ধারে পুতে ফেললে। তখনও ভাল করে দিনের আলো ফোটেনি, বৃষ্টিধারায় চারিধার ঝাপস। পথে-ঘাটে লোকজন নেই কোথাও –বর্ষাকালের ধারামুখর প্রভাতকাল । وانات t পুষ্প যতীনকে সঙ্গে নিয়ে পৃথিবীর বৃষ্টিধারা-মুখর ঝাপসা আকাশে উধেবর্ণ এক স্ব-উচ্চ পর্বতচুডায় এসে বসলো । পুষ্পের মা বল্পে, আমি যাই মা পুষ্প, বসে তোমরা । নিম্নে পৃথিবীর চারিদিকে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎগর্ভ মেঘপুঞ্জ থেকে বিদ্যুৎ খেলচে, দিক্‌চক্রবালে মুনীল আকাশে স্বর্যোদয় হচ্চে, অনেক দূর পর্যন্ত আকাশ রাঙা । ওরা যেন পার্থিব বাসনা কামনার বহু উধের কোনো নির্মল দেবলোক থেকে পৃথিবীর দিকে চেয়ে আছে । বাংলা দেশের উত্তরে এ বোধ হয় হিমালয় পর্বতের চুড়া। দূরে নিকটে তুষাররাশি স্বর্যালোকে ঝকৃমক্‌ করচে। যতীনের মনে হচ্ছিল এই সবই মায়া, ভেলকিবাজি, ভগবানের ভেলকিবাজি । মৃত্যুর অসত্যতা সে ভাল ভাবে বুঝেচে। মৃত্যু বলে তাহোলে কোনো জিনিস নেই ; এই তো সে যশোর জেলায়ই কোলা-বলরামপুর গ্রামে মরে গেল শেষ রাত্রে, অথচ এখানে সে পর্বতশিখরে বাহাল-তবিয়তে সমাসীন। মরণ নেই, বিচ্ছেদ নেই, দুঃখ নেই, আমরা অমর—জীবনমরণের সঙ্গে, স্থখদুঃখের সঙ্গে—সনাতন, নিত্য, অনশ্বর আমাদের এ ক্ষণিক লীলাখেলা।-- পুষ্প যতীনের মনের ভাব বুঝতে পারলে । হাজার হোক, যতীনদ পুরুষমান্বষ, ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিল, জিনিসগুলো চট্‌ করে ধরতে পারে। পেটে একেবারে বিদ্যে না থাকলে অন্ধকার ঘোচে ? সে গষ্ঠীর মুখে বল্পে, এবার বেঁচে গেলে বটে, কিন্তু বার বার আশা বৌদির কাছে যাতায়াতের ফলে তোমার এই বিপদ । অনেকবার তোমায় সাবধান করেছিলাম, শোনো নি। পুনর্জন্মের আবর্ত মাঝে মাঝে আত্মিক স্তরে श:फुद्र মত এসে পৌঁছয়, কোথা থেকে আসে তা জানিনে, ক’টা ব্যাপারই বা বুঝি জগতের ! সেই সময় যে কেউ সামনে পড়ে, তাকে নিয়ে এসে পৃথিবীতে ফেলে ঘুরিয়ে। ও থেকে রেহাই নেই। তাই এসে জন্মেছিলে পৃথিবীতে— — আমার মনে আছে সে ভীষণ টানের কথা—জ্ঞান ছিল না আমার । —তোমার.উচিত হয় নি আশাদের বাসায় অতক্ষণ থাকা । ও একটা ঝড়ের মত, ভূমি কম্পের মত বিপর্যয় ; তবে তৃতীয় স্তরের নীচের অঞ্চলেই ও আবর্তের স্বষ্টি, চতুর্থ স্তরের