পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


సెU বিভূতি-রচনাবলী আশা, এদিকে আমার মা – --পৃথিবীর মানুষ তুমি এখন আর নও এই কথাটা ভুলে যাচ্চ । পৃথিবীর মানুষ যখন ছিলে, তখন যে কথা বলচো তা বল্পে মানাতো। বিধাতার নিয়মই এই পৃথিবীর জীবন থেকে এখানে আসতে হয় । সকলের জন্তে কষ্ট করবো বল্পেই তোমার শুনচে কে ? নিয়মের অধীনে তোমাকে চলতে হবে । ভগবান তোমার আমার চেয়ে ভাল বোঝেন । তার আইন মেনে নিতেই হবে । কেন এরকম হোল, এর জবাব তিনিই দিতে পারেন। আমার সেই গুরুদেবের কাছে যাবে ? তিনি তোমায় বোঝাতে পারবেন। — না, আমার গুরু-টুরুতে দরকার নেই পুষ্প, তুমি ক্ষ্যামা দাও—ঢের হয়েচে । আমার বড় ইচ্ছে সেই মায়াবাদী সমাধিবাজ সন্নিসিটার সঙ্গে – মহাপুরুষদের সম্পর্কে তোমার মুখের ভাষাগুলো একটু ভক্স করে যতীনদা— এমন সময়ে বুড়োশিবতলার ঘাটে এক অদ্ভুত ব্যাপার ঘটলো । হঠাৎ দুজনেই আশ্চর্য হয়ে চেয়ে রইলো, পশ্চিম দিকের আকাশ যেন প্রজলন্ত উস্কার মত কোন আলোতে আলোকিত হয়ে উঠেচে বহুদূর পর্যন্ত । আরও একটু পরে ওরা দেখতে পেলে, বহুদিন আগেকার দেখা সেই পথিক দেবতা শূন্তপথে চলেচেন। মনে হোল যেন তিনি ওদের দিকেই আসচেন, সেই রকম একটা নীল আলো ওদের সাগঞ্জ-কেওটার ঘাট অবধি এসে পড়লো, কিন্তু পরক্ষণেই তার পথ গেল বদলে । তিনি আরও দূরের কোন গ্রহলোকের দিকে যাত্রা করলেন। যতীন প্রথমটা চিনতে পারেনি। বল্লে—উনি কে পুষ্প ? —চিনতে পারলে না যতীনা ? উনি সেই পথিক দেবতা, এককল্প পূর্ব থেকে যাত্রা করেচেন এই বিশ্বের শেষ দেখবেন বলে কিন্তু এখনও এর একাংশও দেখে উঠতে পারেননি— কত নীহারিকা, কত নক্ষত্ৰলোক, কত গ্রহলোক তিনি ঘুরেচেন, এমন কত লক্ষ লক্ষ পৃথিবী— তবু এর কোনো হদিস তিনি পাননি। মনে নেই, সেই এখানে ক্লাস্ত হয়ে এসে পড়েছিলেন ? পৃথিবী শুনে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, সেটা আবার কোন গ্রহ ! স্বর্য কোনটা চিনতে পারেননি । -হ্যা, হ্যা, মনে পড়েচে । পুষ্প একটু প্রচ্ছন্ন তিরস্কারের স্বরে বল্পে, তাই তো বলচি যতীনদী, এই সামান্য সৌরজগতের এই ক্ষুদ্র গ্রহ পৃথিবীর মায়া তুমি কাটাতে পারচো না, অথচ শেখ তুমি যে লোকে এসেচে সেখানে একটু সাধনা করলেই তুমি অমনি কত লক্ষ লক্ষ সৌরজগৎ, তার কোটি কোটি গ্রহের জীবনযাত্রা দেখতে পাবে ! কত দেখবার অাছে, কত্ব জানবার আছে যতীনদী, সে সব তোমার দেখতে জানতে ইচ্ছে করে না ? 尊 যতীন তখনই কোন জবাব দিতে পারলে না, কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে রইলো। তারপর সহসা উত্তেজিত স্বরে বল্লে—আমি সব দেখব, বুঝবো পুষ্প । আমার চোখ উনি অনেকখানি যেন খুলে দিয়ে গেলেন। চলো করুণাদেবীর কাছে— —এখুনি? —এতটুকু দেরি নয়।