পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>>o বিভূতি-রচনাবলী ন!—সে মানুষকে সে কথা জোর করে শোনানো হয় না। স্বাতী নক্ষত্রের জল বিস্তুকে পড়লে মুক্ত হয় –কিন্তু ধুলোয় পড়লে ?...ভগবান মহাজ্ঞানী। যা হয় না, তা তিনি করেন না । পুষ্প বলে -তবে মানুষের মুক্তি কেমন করে হবে ? —মানুষ যখন স্বেচ্ছায় এগিয়ে যাবে। র্তার প্রতি উন্মুখ যে মন, সে মনের সকল ভ্রান্তি তিনি ঘুচিয়ে দিয়ে সত্যের প্রদীপ জালিয়ে দেন । --দেব, সহজ কথায় বলুন আমরা কি করবো ? আমাদের কি কর্তব্য ? —ত্বমেব বিদিত্বাতিমৃত্যুমেতি-ৰ্তাকে জেনেই মৃত্যুকে অতিক্রম করতে হবে । —কি ভাবে প্রভু ? মৃত্যুকে অতিক্রম করা মানে কি ? * -—সাধারণ মানুষে মরচে, আবার জন্মাচ্চে, আবার মরচে । একে বলে মানব-আবর্ত । একে জয় করাই মৃত্যুকে অতিক্রম করা । তাকে না জানলে কিছুতেই এ আবর্ত এড়ানো যায় না । নান্যঃ পন্থা বিদ্যতে অয়নায়--আর দ্বিতীয় কোনো পথ নেই । —পথ বলে দিন দেবতা—আমরা শরণাগত । * গ্রহদেব গম্ভীর মুখে বল্লেন–র্তাকে ডাকে, তার কাছে আলো ভিক্ষা চাও। তার কাছে প্রার্থনা কর সর্বদা । পরকে ভালবাসো। যেখানে প্রেম, ভক্তি, মেহ, ক্ষম—সেখানে তিনি। তিনিই তাকে বুঝবার শক্তি দেবেন। তার জন্যে যে সর্বত্যাগী, তাকে হাত ধরে তিনিই নিয়ে যান। পরের জন্যে যে সর্বত্যাগী, তাকে হাত ধরে তিনিই নিয়ে যান। —এই মামুষের ধর্ম ? —এর চেয়ে বড় ধর্ম নেই পৃথিবীর মামুষের । যারা নিরলস হয়ে তাকে ডাকে, ভালবাসে– পরের সেবা করে, এক অমানৰ পুরুষ তাদের হাত ধরে দেবযান-পথে জন্মমৃত্যুর দুস্তর অকুল মহাসমুদ্র পার করে নিয়ে যান। ভগবান নিজেই সেই অমানব পুরুষ, অপার করুণায় যিনি নিজেই এগিয়ে এসে হাত ধরেন অসহায়ের, শরণাগতের । পৃথিবীর স্বষ্টির আদিকালের বাণী এ । কারণ যা সত্য, তা চিরযুগেই সত্য—এই একই বার্তা যুগে যুগে পৃথিবীতে প্রচার করা হয়েচে; দূতের পর দূত এসেচে গিয়েচে, ‘অন্ধ জাগো !’ না—কিবা রাত্রি কিবা দিন! চোখ আছে, কেউ দেখে না ; কান আছে, কেউ শোনে না ! ওরা সে পৃথিবীর একটি স্বরম্য হ্রদ-মত জলাশয়ের ধারে বসেচে। যতীন চেয়ে চেয়ে দেখছিল, ওদের দক্ষিণে পৃথিবীর দেবদারুজাতীয় বৃক্ষের মত এক প্রকার ঘন সবুজ বৃক্ষের সারি, কিন্তু তাতে খাবাদোপাটির মত রঙীন ফুল এত ফুটেছে যে, বড় বড় শাখাপ্রশাখা নির্মল স্ফটিকের মত জলরাশির কুলে কুলে হয়ে পড়েচে। বেলা উত্তীর্ণ হয়েছে, নীলকৃষ্ণ দিগন্তরেখার দিকে চেয়ে হঠাৎ সে দেখলে বিশালকায় এক দশমী কি একাদশীর চন্দ্র উদয় হচ্চে। অত বড় চন্দ্র। আকাশের এক দিক জুড়ে আলোয় আলো করে তুলেচে সারা দিকৃচক্রবাল । সে অবাকৃ হয়ে বল্লে—ও কি রকম চাদের মত ওটা-অত বড়— করুণাদেবী হেসে বল্পেন—বৃহস্পতি । ওর জ্যোৎস্না পড়বে এখুনি। পৃথিবীর জ্যোৎস্নার চেয়ে অনেক বেশি জ্যোৎস্না আর অদ্ভুত শোভা । আর একটা ব্যাপার, তোমাদের পৃথিবীর