পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান Y S S মত অমাবস্তা এখানে নেই, উপগ্রহের ক্ষুদ্র দেহ অতবড় বৃহস্পতি গ্রহকে ঢাকতে পারে না, স্বতরাং সপ্তমী থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত কলা হয়—কিন্তু দু'বৎসর ধরে শুক্ল রাত্রি চলে। সে মুগ্ধ হয়ে গেল এই স্বতের পৃথিবীর অদ্ভুত জ্যোৎস্নাময় রজনীর শোভায় । হ্রদের ওদিকে জলজ ঘাসের আড়ালে তরুদলের ভ্রষ্ট কুসুমরাশি পদদলিত করে একদল পরমা রূপসী নারী জলে নামলে স্নান করতে । কে জানতো আবার এমন সব স্থান আছে, সেখানেও মানুষ আছে ! ভগবানের যে কথা গ্রহদেব কিছু আগে বলছিলেন, তাতে তার মন ভরে আছে। যে আদিত্যবর্ণ পুরুষের মানস থেকে এই সব পৃথিবী, এই জ্যোৎস্না, পাহাড় পর্বত, বেণু-বীণার ঝঙ্কারের মত স্বস্বরা ওই স্বন্দরীদের উৎপত্তি, তাতেই লয় কল্পাস্তে, স্বষ্টি আর প্রলয় যার নিঃশ্বাস আর প্রশ্বাস—তিনি কোথায় ? কে র্তাকে জানে ? কি ভাবে তাকে জানা যায় ? কে দেখিয়ে দেবে তাকে ? হঠাৎ চমক ভেঙে সে দেখলে তারা তিনজনে মাত্র আছে । গ্রহদেব বৈশ্রবণ কখন অন্তহিত হয়েচেন । করুণাদেবী বল্পেন—উনি এ সব পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে বেশিক্ষণ থাকতে পারেন না । পুপ বল্লে—আমাদের বড় সৌভাগ্য যে ওঁর দেখা পেয়েচি—অবিত্যি আপনার দয়ায় । ফেরবার পথে আকাশে উঠে পুপকে দেবী দেখালেন, পৃথিবীটার চারিদিকে আকাশে কুয়াশার মত, মেঘের মত পিঙ্গল প্রভায় আবেষ্টিত করে রেখেছে কি সব। বল্পেন—পৃথিবীর তাবৎ অধিবাসীদের বাসন কামনী মেঘের মত জমা হয়েচে ও বায়ুমণ্ডলে। ওদের কাছে অদৃত, যেমন আমরা ওদের কাছে অদৃষ্ঠ । তোমাদের পৃথিবীতেও আছে এই রকম–এর চেয়েও বেশি । এই সব ঠেলে আমাদের যাতায়াত বড় কষ্টকর—তোমাদের পৃথিবীর শহরগুলোতে তো আরও বেশি। টাকার নেশা, স্বরার নেশা, রূপের নেশা—ওর আকাশ ধূসর বাম্পে ছেয়ে রেখেচে—তাতে বিধ আছে, আমাদের পক্ষে সে ঠেলে যাওয়া কত কষ্ট ! কি করি, পৃথিবীর মত স্থল দেহের আবরণ তৈরি করে যেতে হয়। কিন্তু গেলে কি হবে, আমাদের পর্যন্ত বুদ্ধি আচ্ছন্ন করে ফেলে, ভালভাবে কিছু দেখতে পাইনে, নিজের স্বরূপ আবৃত করে গিয়েও কিছু করতে পারিনে। যাও তোমরা তাহলে--- 碧 ওদের পায়ের তলায় বুড়োশিবতলার ঘাটে দেখা গেল দিবি দুপুরবেলা । দুর পৃথিবীর জ্যোৎস্না ছায়াবাজির মত গিয়েছে মিলিয়ে, তার অপরূপ রূপসী জলকেলিরতা নারীদের নিয়ে । যতীন বল্লে—না, এতদিনে বুঝলুম জগৎটা মায়া ! পুষ্প কৌতুকের স্বরে বল্লে—অত বড় দীর্ঘনিঃশ্বাসটা ফেল্পে যে ? ওটা কি দার্শনিক দীর্ঘা, না সেখানকুার ওই স্বন্দরীদের অদর্শনে— —যাও, ওসব ভাল লাগচে না। মন বড় চঞ্চল—আমি এখুনি যাবো। আমার ম কাদচেন আমার জন্তে । —কোন মা ? —আরে, কোন মা আবার ? পৃথিবীর এই সেদিনের— পুষ্প খিলখিল করে হেসে বল্লে—জগৎটা মারা বলছিলে না যতীনদা ?