পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান Ꮌ ᎼᏄ সেদিন পুষ্পই প্রথম তাকে দেখলে। সেদিন ওরা বুড়োশিবতলার ঘাটে ফিরে আসছিল পৃথিবী থেকে—ফেরবার পথে একটা ক্ষুদ্র পাহাড়ের ওপর বসেচে—হঠাৎ আকাশে বিদ্যুৎলেখার মত উজ্জল জ্যোতি দর্শন করে পুপ বল্লে—দ্যাখে। দ্যাথোঁ—কোন দেবতা আসচেন । যতীনও দেখতে পেলে । একটা বিশাল উল্কা যেন আগুনের অক্ষরে শূন্যের গায়ে তার বার্তা ঘোষণা করচে । . চক্ষের পলকে সেই পথিক দেবতা কায়া ধারণ করে ওদের সামনে আবিভূত হোলেন । পুপ ও যতীন উভয়েই চিনলে—যে দেবতা একবার মহাশূন্যে পথ হারিয়ে ওদের কুটির-প্রাঙ্গণে বিভ্রান্ত অবস্থায় এসে পড়েছিলেন, সেই ভ্ৰাম্যমাণ আবিষ্কারক দেবতা । দেবতা বল্লেন –তোমাদের কথা স্মরণে রেখেচি ! আবার দেখা করবো বলেছিলাম, মনে আছে কন্যা ? পুষ্প ও যতীন দেৱতার পাদবন্দন করলে । পুপ বল্পে --দেব, আপনি ভ্রমণের গল্প করুন। যতীন বল্পে—একটা কথা, দেব । আমাদের পৃথিবীর পণ্ডিতরা অনুমান করচেন আমাদের এই সৌর-জগতের বাইরে অন্য কোনো নক্ষত্রে কোনো গ্রহ নেই। একথা কি সত্য ? দেবতা হেসে ৰল্লেন—ভুল কথা । বিশ্বের এই অঞ্চলেই বিভিন্ন নক্ষত্রে লক্ষ লক্ষ গ্ৰহ বর্তমান। বহু শ্রেণীর জীব”তাতে বাস করচে। তোমাদের পৃথিবী যতটুকু এর চেয়ে অনেক বৃহত্তর ও মুন্দরতর গ্রহ বিশ্বের এই অঞ্চলে বহু নক্ষত্রে বর্তমান । যতীন বল্পে—দেব, বিশ্বের এই অঞ্চল বলে আপনি কতটুকু জিনিসের কথা বলচেন ? --বিদ্যুতের বেগে যদি যাও, তবে এক কোটি বৎসর লাগবে তোমাদের এই নক্ষত্রমণ্ডল পার হতে । এ রকম লক্ষ লক্ষ নাক্ষত্রিক বিশ্ব ছড়ানো রয়েচে চারিধারে । আমি বিশ্বের এ অঞ্চল বলতে তোমাদের ছায়াপথের নিকটবতী অঞ্চলের কথা বলচি। পুষ্প বল্লে—আমাদের একবার নিয়ে যাবেন বলেছিলেন ওই সব দূর দেশে ? –চক্ষু মুদ্রিত কর । গতির প্রচণ্ড তেজ তোমরা সহ করতে অভ্যস্ত নও—জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে । দুজনেই চক্ষু মুদ্রিত করো-প্রস্তুত হও—মধ্যপথের অন্য কোনো নক্ষত্র বা গ্রহলোক তোমাদের দৃষ্টিগোচর হবে না । 季 গতির কোনো অনুভূতিই ওদের গেল না, চক্ষের পলক ফেলতে যত বিলম্ব হয়, ততটুকুও বোধ হয়নি—পথিক দেবতা বল্পেন—চোখ চেয়ে দেখতে পারো-- 鱷 পুষ্প ও যতীন সম্মুখের দৃষ্ঠ দেখে চমকে উঠলো। তারা এ কোথায় এসেচে—এক বিরাট অগ্নিমণ্ডল তাদের সামনে—সে অগ্নিমগুলের মধ্যে বকুলক্ষ বিশালকায় কটাহে যেন লক্ষ কোটি মণ ধাতু বিগলিত হচ্চে একসঙ্গে –লক্ষ লক্ষ মাইল উধেবর্ণ উঠচে রক্তবর্ণ স্বয়ম্প্রভ বাপশিখা— রক্ত-আগুনের শিখার মত । বাল্যকালে জলস্তম্ভের ছবি দেখেছিল যতীন পৃথিবীর পাঠশালার কোনো পুস্তকে —এখন ওর চোখের সামনে ধারণার অতীত বিশালকায় অগ্নি ও প্রজ্জ্বলন্ত বাম্পের খাড়া সোজা উচু স্তম্ভ চক্ষের নিমেষে উঠে যাচ্চে যেন দশ হাজার মাইল, যেদিকে চাওয়া যায়