পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S ybo বিভূতি-রচনাবলী দাউ দাউ করচে শুধু আগুন—অথচ পৃথিবীর আগুনের মত নয় ঠিক—জলন্ত বাষ্পরাশি হয়তো । অগ্নিমগুলের চারিদিকে শুভ্র- ও রক্ত-আগুনের ছটা—গ্রহণ যোগে দৃশ্যমান স্বর্যের চারিপাশে দৃষ্ট গৌরকিরীটের (corona । মত। কোন কন্দ্র ভৈরবের প্রচণ্ড আবির্ভাব এ! এখানে না আছে নারী, না আছে শিশু, না আছে ৰনকুম্বমের শোভা, না আছে জীবের জীবনস্বরূপ বারি। কিন্তু এই রুত্রের বামমুখ প্রত্যক্ষভাবে দেখবার স্বযোগ ঘটে না কারো—এ ভয়ঙ্কর মূর্তিকে দেখতে পেয়ে অস্তরাত্মা যেমন থর থর কেঁপে উঠলো ওদের, তেমনি ওদের মনে হোল, এই অদ্ভূত ভয়স্করের আবির্ভাবের ও অস্তিত্বের সামনে তাদের সকল ক্ষুদ্রত্ব ও সংকীর্ণতা এখানকার বাষ্পমণ্ডলের কটাহে বিগলিত বহু লৌহ, তাম্র, মিকেল, এলুমিনিয়ম, কোবাল্ট, প্রস্তর, স্বর্ণ, রৌপ্যের মতই দ্রবীভূত হয়ে নয় শুধু, বাষ্পীভূত হয়ে যায়—যেমন যাচ্চে ঐ সব ধাতু নিমেষে তাদের দৃষ্টির সম্মুখে । দেবতা বল্লেন—এ একটা নক্ষত্র । কিন্তু কামচারী বা বিদ্যুৎচারী না হোলে তোমরা এর বিরাটত্ব কিছুই বুঝতে পারবে না । তোমাদের জড়জগতের অবস্থানকালের কোনো মাপকাঠি ব্যবহার করে এ নক্ষত্রের সীমা পাবে না । চেষ্টা করো—চলো— পুষ্প ও যতীন যে বেগে যেতে ইচ্ছা করলে, তাকে পৃথিবীতে রেলগাড়ীর বেগ বলা যেতে পারে। দেবতা গতির বেগ কমিয়ে ওদের সঙ্গে চলেছেন । ওরা সবেগে যেন উড়ে চলেচে একটা অগ্নির মহাসমুভ্রের ওপর দিয়ে ও একটা জলন্ত অগ্নিকুণ্ডের অগ্নিশিখাব মধ্যে দিয়ে—ওদের চারিপাশে ঘিরে অগ্নি-দেবতার রক্ত-চক্ষু । বস্তৃক্ষণ ওরা গেল, পৃথিবীর হিসেবে দশ বারো ঘণ্ট । ওদেরও ক্লান্তি নেই, যাত্রাপথেরও শেষ নেই-মহা অগ্নিসমূদ্রেরও কূলকিনারা নেই। দেবতা বল্পেন—তোমরা যদি জড়বস্তুর উপাদানে তৈরি হতে এই জলন্ত নক্ষত্রের বহুদূর থেকে তোমাদের দেহ জ্বলে পুড়ে বাষ্প হয়ুে উড়ে যেতো- আকর্ষণের বলে সে বাষ্পটুকু এই বৃহত্তর বাষ্পমণ্ডলে প্রজলন্ত অবস্থায় প্রবেশ করে মিশিয়ে যেতে--- পুষ্প বল্লে—আর সহ করতে পারবো না—আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে চলুন দেব দয়া করে । দেবতা প্রসন্ন হেসে বল্পেন—বিশাল বিশ্বের রূপ সবাই সহ্য করতে পারে না, দেখতে চায়ও না। শক্তিমতী হও । ভগবান তাকেই এসব দেখান, যে তার বিশ্বের বিরাটত্ব দেখে ভয় পাবে না। আমি সুদীর্ঘ জন্ম-জন্মান্তর ধরে এ সাধনা করেছিলাম—তারপর জড়জগৎ থেকে এসে বহুকাল ধরে শুধু বিশ্বভ্রমণ করে বেড়াচ্চি । এই আমার সাধনী—এতে আমি সিদ্ধিলাভ করেচি। কিন্তু আমিই দিশাহারা হয়ে যাই সময় সময়। •তোমরা কী দেখেচ, এক কণিকাও নয়। পুষ্প বল্লে—আর কী দেখাবেন বলুন দেব, এ আগুনের দৃপ্ত আমার আর সহ হচ্চেনা— —তোমাকে এর চেয়েও বৃহত্তর নক্ষত্রের অগ্নিমগুলে নিয়ে যাবে চলো। শক্তিমতী হও । এবার চোখ চেয়ে চলে । তোমাকে চোখ তখন মুদ্রিত করতে বলেছিলাম কেন জানো ? তোমাদের জড়জগতের অতি নিম্ন স্তর অতিক্রম করতে হবে আসবার পথে । সে অতি কুশ্রী স্তর। তোমরা দেখলে ভয় পেতে—তাই দেখাই নি । \যতীন আগ্রহের স্বরে বল্লে—নরক ? সে দেখতে বড় ইচ্ছে, দেব ! দয়া করে—