পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ভক্তিতে তার আস্থা ছিল বেণী ; সেদিক দিয়ে তিনি বৈষ্ণব ছিলেন। অদ্বৈতবাদী সন্ন্যাসীকে র্তার ক্ষেমদাস বার বার ব্যঙ্গ-বিদ্রপ করেছেন তাই, পাঠক তথা পুষ্পকে বার বার নিয়ে গেছেন আচার্য রঘুনাথ দাসের কল্পনাস্তষ্ট আশ্রমে, নিয়ে গেছেন বৃন্দাবনে— গোপালমন্দিরে । ( বৃন্দাবনের প্রধান মন্দির যদিও গোপালমন্দির নয়—গোবিন্দর মন্দিরই । লেখক সম্ভবত: বৃন্দাবনে যান নি, গোপালমূর্তির প্রতি র্তার নিজের আকর্ষণই গোপালমন্দির কল্পনা করিয়েছে। বৃন্দাবনের যা প্রধান দর্শন—গোবিন্দ, গোপীনাথ, মদনমোহন, বন্ধুবিহারী, কৃষ্ণচন্দ্র, শৃঙ্গার বট, বংশীবট, নিকুঞ্জবন, রাধাবল্লভ, রাধারমণ—সব কটিতেই বংশীধারী কৃষ্ণমূর্তি আছেন। সম্ভবত লেখকের পুত্রাকাজাই.ভগবানকে গোপালমূর্তিতে কল্পনা করতে চাইত। পুরীতে একটি মঠ দর্শন করতে গিয়ে গোপালমূর্তি দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি, বর্তমান নিবন্ধ লেখককে বলেছিলেন, ‘আমার বডড ইচ্ছে করছে ওর গালে আস্তে একটি চড় মারি ? সময় পেলেই এই মঠে যেতেন গোপালমূর্তি দর্শন করতে । ) অবত এ ব্যাপারে মনে হয় লেখকের চিন্তার কিছু অস্বচ্ছতা আছে । জ্ঞান ও ভক্তি উভয়ের মধ্যে পড়ে তিনি যেন দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন, ঠিক কোনটিকে দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করবেন তা স্থির করতে পারেন নি। এই দ্বিধা, চিন্তার এই অস্বচ্ছতা, তার পরবর্তী প্রধান উপন্যাস ইছামতী গ্রন্থেও দেখতে পাওয়া যায়। ইছামতীর ভবানী বাড়ুযে লেখকেরই পরিণত মানসমূর্তি। ভবানীর তিন স্ত্রী গ্রহণও যদি তার মানসিক চিন্তারই কিছুটা বহিপ্রকাশ বলি, খুব বোধহয় অসমসাহসিক ভাষণ হবে না। অবধূত সন্ন্যাসী নিত্যানন্দকে মহাপ্রভু যখন সংসারাশ্রম নির্দেশ করেন তখন নিতাই একই সঙ্গে দুটি বোনকে বিয়ে করেন। ভবানী বাড়য্যেও সন্ন্যাসী ছিলেন, পঞ্চাশ বছর বয়সে রিয়ুে করতে এসে একই সঙ্গে তিনটি বোনকে বিবাহ করে ফেললেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় ভবানীচরিত্র স্বষ্টি করার সময় নিত্যানন্দের কথাই তার মনে ছিল । কিন্তু বিভূতি বাড়য্যেও দীর্ঘকাল অবিবাহিত (বিপত্নীক বলা উচিত নয়—এতই অল্পদিনের প্রথম বিবাহিত জীবন ) ভবঘুরে জীবন যাপন করার পর সাতচল্লিশ বছর বয়সে বিবাহ করেন। কে জানে, নিজের বিবাহের সময় জীবনসঙ্গিনী বাছবার প্রশ্নে মেয়েদের তিনটি মূর্তি—সেবিকা, গৃহিণী ও নর্মসহচরী—র্তার সামনে এসে দাড়িয়ে তাকে চিন্তিত ও দ্বিধাগ্রস্ত করে তুলেছিল কিনা, কোনটি তার জীবনে শাস্তি এনে দেবে স্থির করতে না পেরে বিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন কিনা! অথবা সেই সময়কার সমাজ জীবন দেখাবারই নিছক প্রচেষ্টা এটা। কিন্তু বিশুদ্ধ রসিকতা । ஒ_ . আমরা অবত আলোচনা করছিলাম দার্শনিক অস্বচ্ছতার কথা। কিন্তু তবু মনে হয় এ বইতে লেখক প্রেমভক্তির দিকেই আরও বেশী ক’রে ঝুকেছেন । যিনি ভাবছেন— ‘আজ নিভৃত নিস্তব্ধ রসে তার অন্তর অমৃতময় হয়েচে বলে তাকে বার বার মনে হতে লাগল। রহস্যময়ও বটে মধুরও বটে। মধুর ও রহস্যময় ও বিরাট ও স্বন্দর ও বড় আপন