পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১২৪ বিভূতি-রচনাবলী সব উচ্চ স্তরের জীবজগৎ । জীবে জীবে যুদ্ধ রক্তপাত নেই এই সব গ্রহে । অত্যন্ত পরার্থপর এখানকার মানুষ । পরের জন্যে প্রাণ দেবে। অনেক জাতি নেই, ভেদবুদ্ধি অত্যস্ত কম। সহজে খাদ্য মেলে স্কুল-দেহধারণের উপযুক্ত। আয়ু দীর্ঘ নয় কিন্তু, অল্প সময়ের মধ্যে বেশি কাজ করতে হয়—কাজেই আলস্তের স্থান নেই। অসার বস্তুতে লোভ নেই—যেমন অত্যন্ত খাদ্যসঞ্চয়, বড় আবাসবাটী, উজ্জল পরিচ্ছদ—মান, যশ–অহঙ্কার, অভিমান । যতীন বল্লে—কিন্তু নারী রয়েচে যে প্রভু, ওরা থাকলেই— পুষ্প ভ্ৰকুটি করে বল্লে—কি রকম যতীনদা ? দেবতা হেসে পিতার স্থায় সম্বেহে পুষ্পের পৃষ্ঠদেশ স্পর্শ করে বল্পেন-কন্যার মনে আঘাত দিও না—ও ঠিক বলেচে। ওরা থাকলেই হয় না গোলমাল। বাসনা থেকে পাপ, গোলমাল। এখানকার জীব বাসনা ক্ষয় করে এসেচে বছ জন্ম ধরে । এদের নিম্ন স্তরের বাসনা জাগে না তীব্রতাবে। উচ্চ জ্ঞানের, শিল্পের, সংগীতের সাধনা বা ভগবৎসাধনা নিয়ে এরা থাকে। ভগবানের জ্ঞান বা প্রত্যক্ষ-দর্শন এদের অনেকের হয়েচে । সুতরাং যে সব জিনিস জীবনে স্বপ্নের মত অস্থায়ী তাদের অসারত্ব এরা বুঝেচে । অত্যন্ত সাধু, নিস্পৃহ, সরল উচ্চ স্তরের জীবন এখানকার—মানে, এই সব গ্রহের । যতীন বল্লে—বাঃ, চমৎকার জীবন তো এখানকার--ইচ্ছে হয় জন্ম নিই--- দেবতা ওর দিকে চেয়ে বরেন—তোমাকে এখানে একদিন তো জন্ম নিতেই হবে। কারণ এই স্বৰ্গলোক, যেখানে তোমরা আছ, এও মায়ার অধীন । হয়তো বহুকাল এখানে থাকবে, স্তর থেকে স্তরাস্তরে যাবে—কিন্তু স্বৰ্গও দুদিনের। ব্রহ্মচক্রে জন্ম-মৃত্যু আবর্তিত হচ্চে, মাহুষ আবার জন্মাবে, আবার মরবে, আবার জন্মাবে--যতদিন বাসনার শেষ না হয়, অসত্য থেকে সত্যে, মৃত্যু থেকে অমৃতে, অন্ধকার থেকে জ্যোতিতে না যায়। ভগবানকে জানলে জীব নিজেকে জানতে পারবে—তখন ছুটি । স্কুল দেহে শেষ জন্ম সাধারণত এই সব গ্রহে হয়-এখানে আত্মদর্শনের ও সাধনার স্বযোগ ও সময় অনেক বেশি । দয়া করে বিশ্বের অধিদেবতা জ্ঞানী ও মুমুকু জৗৰদের পুনর্জন্ম গ্রহণ করান। —দেব, আপনি ঘুরে ঘুরে বেড়ান কেন ? আপনি এত উচ্চ— —ঐ রজনীর তারালোকের ব্যাপ্তির মধ্যে, বনপুষ্পের স্বৰাস ও এই সব অদ্ভূত গ্রহের বনানীর নির্জনতা ও বনবিহঙ্গের কুজনের মধ্যে, বিশ্বের রহস্তের মধ্যে আমি তার নিত্যসঙ্গী হয়ে থাকবার প্রার্থনা জানিয়েছিলাম মনে মনে। তিনি অসীম করুণায় সে প্রার্থনা মঞ্জুর করেচেন। নইলে সাধ্য কি এই অগণ্য লোকালোকে ভ্রমণ করি ? এ শক্তি তো সকলের হয় না । আমি দেখচি এভাবে তার লীলা-সৌন্দর্য দেখে বেড়ানোর বাসনা কারো নেই, এ নেশা আর কারো দেখিনি, কেবল বহুকাল আগে আর একটি আত্মার সঙ্গে দেখা হয়েছিল—দুটি নক্ষত্রের বিরাট সংঘর্ষের দৃপ্ত দেখেছিলাম দুজনে—তা থেকে তৃতীয় একটি নূতন প্রজলন্ত তারকার স্বষ্টি হোল। ও, সে সব দৃপ্ত তোমাদের শক্তি নেই সহ করো। আমাকে তিনি ভ্রমণের শক্তি দিয়েচেল, স্বপর্ণের মত BB BBS DBBB BBB BBBB BBBS BB BBB BB BBBBS BB BB BB S