পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


e বিভূতি-রচনাবলীטb স্থূল জগতের স্কুল প্রবৃত্তি সূক্ষ্ম দেহে কি করে চরিতার্থ করবে ? কাজেই ওই সব আসক্তি যেমন তোমার মনে আসন গেড়ে বসবে, তখনই তোমাকে স্কুল দেহ ধারণ করতে বাধ্য করবে। স্বতরাং আবার পুনর্জন্ম । so —তাতে আমার কোনো দুঃখ নেই তোমার মত । —সে আমি জানি । সেজন্তেই তো তোমার জন্যে ভয় হয়—চলে তোমাকে মহর্লোকে নিয়ে যাই— ওরা বোমপথে অনেক উধের এমন এক স্থানে এল, যেখানে উচ্চলোকের জ্যোতির্ময় অধিবাসীদের যাতায়াতের পথ। তার পরেই এক অদ্ভুত স্বন্দর দেশ ; অতি চমৎকার বনপর্বভের মেলা, বনকুসুমের অজস্ৰতা । অথচ এখানে কোনো অধিবাসী নেই, অনেকদূর গিয়ে একটা নীল হ্রদ, চারিদিক পাহাড়ে ঘেরা । পুষ্প বল্লে—চলে যতু-দা, ওই হ্রদের ধারে বনের মধ্যে একটি গ্রাম আছে, অনেক জ্ঞানী মেয়ে-পুরুষ একসঙ্গে বাস করেন—তোমায় দেখিয়ে আনি । ● বনবীথির অন্তরালে শুভ্র ফটিকসদৃশ কোনো উপাদানে তৈরী একটি বাড়ী, দেখতে অনেকটা গ্ৰীক মন্দিরের মত। হ্রদের নীলজলের এক প্রান্তে কুমুমিত লতাবেষ্টিত এই মুন্দর গৃহটি যতীনের এত ভাল লাগলো ! এমন স্বন্দর পরিবেশ আর্টিস্টের কল্পনায় ছাড়া যতীন অস্তত পৃথিবীতে কোথাও দেখেনি। আপন মনেই সে বলে উঠলো—কি স্বন্দর । " একজন সৌম্যমূর্তি পুরুষ ঘরের মধ্যে বসে। কিন্তু ঘরের আসবাবপত্র সবই অপরিচিত ধরনের। পৃথিবীতে ব্যবহৃত কোনো আসবাব সে ঘরে যতীন দেখলে না। লোকটিকে দেখেই মনে হোল অনেক উচ্চ অবস্থার আত্মা ইনি। ওদের অভ্যর্থনা করে বসিয়ে তিনি বল্পেন— তোমরা কোথা থেকে আসচো ? . যতীন বল্লে-ভুবর্লোকের সপ্তম স্তর থেকে । তিনি বিস্মিত হয়ে বল্পেন—না, তা কেমন করে হবে ? তা হোলে তো আমাদের এই জনপদ, এই ঘরবাড়ী বা আমাকে কিছুই দেখতে পেতে না ? নিশ্চয় তোমরা উচ্চতর স্তরের অধিবাসী । যতীন বল্লে—এটা কোন লোক ? —মহলোকের প্রথম স্তর। ভুবর্লোকের অধিবাসীদের পক্ষে এখানকার বাড়ীম্বর, মাহৰ, বন, পর্বত সব অদৃত । আমার অবস্থার আত্মা না হোলে আমার এ গৃহে জামাকে পাবেই না । মহলোক কোনো একটা স্থানও বটে, বিশেষ একটা অবস্থাও বৃটে। স্থান ও অবস্থার একত্র যোগ না ঘটলে এ লোকে চৈতন্য জাগরিতই হবে না যে। তা নয়, তোমাদের মধ্যে একজন কেউ উচ্চ অবস্থা প্রাপ্ত হয়েচ, নইলে এখানে আসতে পারতে না । —সে এই মেয়েটি । আমি নই— পুরুষটি হেসে বল্লেন-আমিও তা অনুমান করেচি । পুষ্প সলজ প্রতিবাদের স্বরে বল্লে-আমি কি-ই বা—ওঁর জন্যেই—