পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান סיסל হবে কোথা থেকে ? কাজেই মহাযুগ মম্বন্তর চলে যায় স্বাভাবিক নিয়মে মামুষের মুক্তি পেতে। স্বারোচিষ মন্বস্তরে যারা মানুষ হয়ে জন্মেছিল পৃথিবীতে সর্বপ্রথম—এইবার তারা মানব-আবর্ত কাটিয়ে দেবযান-পথে মহলোকে যেতে শুরু করচে। ওদের এতদিন পরে পৃথিবীতে গতাগতি শেষ হোল । —এর চেয়ে আগেও হয় ? —তুমি বুঝলে না—এ তো হোল স্বাভাবিক নিয়মে, লক্ষ বৎসর পরে। এক জন্মেই মুক্তি হয়—যদি সত্যের জন্যে তীব্র আকাজক্ষা জাগে, ভগবৎপ্রেমে বহ্নিশিখা জলে ওঠে মনে । এদের জন্যে ভগবান কত সাহায্যের ব্যবস্থা করেচেন, তা যদি জানতে ! যে সত্যকে জানতে চায়, ভগবান তাকে জানবার সব রকম স্বযোগ দেন। চলে তোমাদের একটা জিনিস দেখিয়ে আনি—ক’দিন থেকে আমি দেখছি তোমাদের পৃথিবীতে— যতীন ও পুষ্পকে নিয়ে সেই উচ্চলোকের পুরুষটি চক্ষের নিমিষে পৃথিবীতে নেমে এলেন । স্বন্দর জ্যোৎস্নারাত্রি পৃথিবীতে, ভারতবর্যে। যে নদীতীরে এসে ওঁরা দাড়ালো, সে নদীটি খরস্রোত, তীরে শস্তক্ষেতের মধ্যে এক জায়গায় বড় একটা গাছ । পুপ ও যতীন নদীটি চিনতে পারলে না। বুক্ষের তলে একটি তরুণ যুবক ধ্যানমগ্ন। যুবকের রং টকটকে গেীর, মুখের চেহারা লালিত্যপূর্ণ, বেশ বড় বড় চোখ--কিন্তু এই অল্প বয়সেই সে দাড়ি রেখেচে—রেশমের মত নরম, চকচকে দাড়ি। যতীনের মনে হোল ৰীশুখ্ৰীষ্টর ছবির মত মুখখানা ওর দেখতে । পুষ্প জিজ্ঞেস করলে—এ কি নদী দেব ? —এ রাভি নদী। এটি ভারতবর্ষের পাঞ্জাব প্রদেশ । ছেলেটির বাড়ী ওই জনপদে, সবাই ঘুমুলে গভীর রাত্রে নদীতীরে বৃক্ষতলে ও রোজ একা এসে ভগবানের চিন্তা করে, গান করে আপন মনে । ওই দ্যাখে ওর মা খাবার দিয়ে যায় এ সময়—আসচে– একটি মেয়ে—মেয়েটি প্রৌঢ় বটে, কিন্তু স্বন্দরী-দুরের গ্রাম থেকে একটা পাত্রে খাবার নিয়ে এসে ছেলেটির সামনে রাখলে । জিজ্ঞেস করলে—বাড়ী যাবি ? ছেলেটি বল্লে—তুমি যাও মা, আমি এক ঘণ্টা পরে যাবো। —ঠাগু| লাগাসনে বেশি, বাচ্চা । ওর মা সস্নেহে ছেলের দিকে দু’তিন বার চেয়ে যে-পথে এসেছিল সেই পথে চলে গেল এবং অতি অল্পক্ষণ পরে এক অপূর্ব দৃপ্ত চোখে পড়লো যতীন ও পুপর। আকাশপথ আলো হয়ে উঠলো ক্ষণকালের জন্যে এবং সেই আলোর রেখা ধরে এক দিব্য জ্যোতির্ময় পুরুষ নেমে এসে ওই ধ্যানরত যুবকের পাশে দাড়ালেন। আগন্তুক দেবতার রূপে ও দেহজ্যোতিতে স্থানটি যেন আলো হয়ে উঠলো, যদিও যুবকটি তার কিছুই বুঝতে পারলে না । পুষ্প ও যতীন সবিস্ময়ে বল্লে—উনি কে ? —উনি সত্যলোকের প্রাণী । পৃথিবীতে ওঁর তো দূরের কথা, আমাদেরই আসতে কষ্ট হয়, অথচ ভাখে ওই সত্যপ্রিয় ভগবভক্ত যুবকটিকে প্রেরণা দিতে নিজে এসেচেন। যেখানে ভগবানের নামগান হয় যেখানে ভগবান স্বয়ং আসেন-এ তোমরা অবিশ্বাস ক’রো না ।