পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SU)8 বিভূতি-রচনাবলী তারপরে ওরা তিনজনেই দূর থেকে সত্যলোকের সেই মহাপুরুষকে প্রণাম করলে। তিনি ওদের দিকে চেয়ে সদয় হাস্য করলেন ও দুটি আঙুল ওপর দিকে তোলার ভঙ্গিতে আশীৰ্বাদ করলেন । পুষ্পর চোখে ভুল এল । কি স্বন্দর রূপ দেবতার। পরক্ষণেই তিনি অস্তহিত হয়ে গেলেন । পুষ্পদের সঙ্গী পুরুষটি বলেন- দেখলে ? নীলনদের তীরে বহু হাজার বৎসর পূর্বে যাপিত আমার একটি গোপন রাত্রির কথা আজও আমার মনে হয় । একা ছিলাম সে রাত্রে । বসন্তকাল ছিল, পুষ্পিত হয়ে ছিল নদীতলের ওষধি ও বনতরুরাজি–স্কুদ্র একটি পর্বতের চূড়ায় নদীর অপর পারে আমি জ্যোতির্ময় আবির্ভাব প্রত্যক্ষ করি । আমার সারাজীবন পরিবর্তিত হয়ে যায়-দশ জন্মের প্রগতি একজন্মে সাধিত হয় । ভগবানের কৃপা নইলে হয় কি ? কিন্তু তার জন্য ক্ষেত্র তৈরী হওয়া দরকার। পরকে ভালবাসো, জীবকে সেবা করে । আসক্তি ত্যাগ করে । ভগবানে মন দাও । মনের কুয়াশা না কাটলে সত্যের আলোকপাত কি হয় ? —আপনার দয়া করুন পৃথিবীর জীবকে—তাহোলেই হবে । —আমার ইচ্ছা আছে, আর একবার পুথিবীতে দেহধারণ করবো । যা পারি প্রচার করে করে আসি । —পৃথিবীতে গিয়ে ভুলে যাবেন না ? 輸 —দেহ ধরলেই বিস্মৃতি আসে। তবে তার ব্যবস্থা আছে। অন্য দিব্য পুরুবেরা গিয়ে আমায় বাল্যে ও যৌবনে নানাভাবে মনে করিয়ে দেবেন। ওঁরা দেখা দিতে পারেন আমায় স্বপ্নে কিংবা রাত্রিকালে, নয়তো ঘটনার এমন যোগাযোগ ঘটাবেন যে আমার আত্মা ক্রমশ জেগে উঠে বুঝতে পারবে পৃথিবীতে সে কেন এসেচে ; ভোজ খেতে, নারী ও স্বরা নিয়ে আমোদ করতে আসেনি। ভগবানের বিশ্বে এসবের ব্যবস্থা আছে—যে ভাল কাজ করতে চায়, তাকে সাহায্য দেওয়া হয় । তিনি যে বিরাট মহাশক্তি, সেই শক্তিকে তুষ্ট করতে পারলে জীব পলকে প্রলয় করতে পারে, অসাধ্য সাধন করতে পারে, মহাশক্তির সদয় সাহায্য সে পায়। এ রহস্ত কে বোঝে ? পৃথিবীতে সবাই অর্থ নিয়ে ব্যস্ত, সর্বত্র অনুপ্রবিষ্ট এই করুণাময়ী মহাশক্তির রহস্যভেদ করতে ব্যস্ত ক’জন ? পুষ্প বল্লে—গ্রন্থ, আপনি বলছিলেন আপনার গ্রামে একটি মেয়ে ভগবানের দেখা পায়- সে কি রকম ? —সে উচ্চ অবস্থার মেয়ে। তার শেষ জন্ম হয় পৃথিবীতে, সাতশে बईद्र পূর্বে। মানবআবর্ত কাটিয়েচে । স্বামী-ভাবে ভগবানকে চিন্তা করে । , ভগবানের দেখা পায় সেইভাবে। আমি জানি ভগবানের এসব মায়িক রূপ। তার রূপের কি কোনো সীমা আছে ? ভগবানকে যে আন্তরিকভাবে ডাকে, তিনি তার কাছে যাবেনই। যে রূপে চায়, সে রূপেই যাবেন । এ একটা অমোঘ নিয়ম। যেমন চুম্বকের কাছে লোহা ছুটে যাবেই—তেমনি । ভগবান যাবেনই ভক্তরূপ চুম্বকের কাছে। তাকে টেনে নেবে আকর্ষণ করে । ভগবান লোহ, ভক্ত চুম্বক। এ ওকে টানচে ও একে টানচে । পৃথিবীর লোককে এসকল কথা বিশ্বাস করানো কঠিন।