পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেববান ১৩৭ পুষ্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বল্লেন—এই সেই কন্যা। এর নাম স্বমেধা—ভারতবর্যেরই कछ] । পুপ প্রণাম করে বয়ে-দেবি, ভগবানের সম্বন্ধে কথা হচ্ছিল—. নারী হেসে বল্লেন-আমি সব শুনেচি–র্তার স্বরূপ কি শুনবে ? আমি খুব ভাল করে দেখেচি । তিনি বালকস্বভাব, পথের বঁাকে বসে থাকেন উৎসুক হয়ে, ধরা দেবার জন্যে । কিন্তু র্তার পেছনে ছুটতে গেলে তিনি বালকের মত হেসে ছুটে দূরে পালিয়ে যান— যতীন অভিভূত ও মুগ্ধভাবে বলে উঠলো-বা; মা, বা, কি স্বন্দর অনুভূতির কথা ! পুষ্পও মুগ্ধদৃষ্টিতে সেই অনিন্দ্যমুন্দরী লাবণ্যময়ী ভাবময়ী নারীর দিকে চেয়ে রইল। রুদ্ধনিঃশ্বাসে বল্লে—তারপর ? তারপর ? —তারপর কি জানো ? সেই সময় যদি তুমি হতাশ হয়ে ছুট দেওয়া বন্ধ করে। —তবে ভগবান নিরাশ হবেন, দাড়িয়ে যাবেন, বালকের মত। তিনি চান জীব তার পেছনে পেছনে খানিক ছোটে, হাপাক্ষ। ভগবান জীবের সঙ্গে বালকের মত খেলা করেই মহাখুশি । না থেমে তবুও ছুটলে ভগবান শেষে অকারণেই আবার ফিরে আসবেন, হাসতে হাসতে ধরা দেবেন। অতএব ভগবানকে নিরাশ করে না, তাকে একটু জীবকে নিয়ে খেল করতে দাও তিনি বডড একা— দেবীর চোখ স্নেহে ও প্রেমে ছলছল করে উঠলো। পুষ্প বল্পে-চমৎকার । আজ অতি মুন্দরভাবে বুঝলাম। সহজভাবে বুঝলাম। আপনার অনুভূতি সহজ ৰলেই সহজভাবে বুঝেচেন তাকে । যতীনের মন পুষ্পের এ কথায় সায় দিলে । ওদের সঙ্গী কিন্তু অন্যদিকে মুখ ফিরিয়েছিলেন উদাসীনের মত—যেন তিনি এসব ভাবলুতার বহু উর্ধ্বে, জ্ঞান ও তপস্যার দৃঢ়ভূমির উপর স্বপ্রতিষ্ঠ। যতীন ও পুষ্প তাকেও প্রণাম করে বিদায় প্রার্থনা করলে । মেয়েটি ওদের "হাসিমুখে বল্লে—আবার এসে তোমরা । আমি এখানে শীগগির উৎসব করবো—বনকুসুম-উৎসব। জনলোকের অনেক নারীপুরুষ আসে, সবাই বনফুলের মালা দেন আমার বিগ্রহের গলায় । আমি তোমাদের নিমন্ত্রণ পাঠাবো । 鼎 পুপ বল্পে—দেবি, কল্প-পর্বতের সঙ্গীত শুনতে যান না আপনি ? আবার তো সেদিন আসচে। আপনার সঙ্গে দেখা হবে ? • * @ —অামি প্রতিবারই যাই । আমাদের গ্রামের সকলেই যায়। ভগবানের প্রতি অনুরাগ জন্মায় ওই সঙ্গীত শুনলে—অত্যন্ত সূক্ষ্ম অনুভূতির দরজা খুলে যায় বলে অনেক উচ্চ স্তরের নরনারী আসেন সেদিন । যেও সেখানে—আমিও যাবো । ক্রি গ্রামের প্রান্তে বনবীথির অন্তরালে একটি শুভ্র স্ফটিকের মন্দিরে মেয়েটি ওদের দুজনকেই নিয়ে গেল। সেখানে পা দিয়েই পুষ্প বুঝতে পারলে এ অতি পবিত্র স্থান দেবতার আবির্ভাব দ্বারা এর অণু-পরমাণু, ধন্ত ও কৃতাৰ্থ হয়ে গিয়েচে, এখানে এসেই তারমনে হোল এখানে