পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান S85 মায়াবন্ধনের অতীত এরা । ভগবানের দেহে লয় না হয়ে ভক্তিসেবার জন্তে চিন্ময় আশ্রমে চিন্ময় বিগ্রহ স্থাপন ক’রে সেবামৃত আস্বাদ করচেন মাত্র। আজ আছেন, কাল হয়তো নাস্তি । দেখাই যাক্ । রঘুনাথদাস আচার্যকে তার বড় ভাল লাগে। প্রেমে স্নেহে বালকস্বভাব বৃদ্ধ সাধু ঠিক যেন তার বাবার মত । আজ তার মনে হোল এ বিপদে এরই আশ্রয় নিতে হবে । অতি উচ্চ স্তরে সাধুর আশ্রম, সেখানে পৌছোনো তার পক্ষে সব সময় সহজ নয়—তবে ভগবানের কৃপা ভরসা । আশ্রমটি একটি বিশেষ মণ্ডলের মধ্যে অবস্থিত। সাধুর আবাসস্থানের মাহীয়ে দূর থেকেই পুষ্পের মনে এক অদ্ভুত ভাবের উদয় হোল—এ ভাব সে পূর্বেও এখানে আসবার সময় গাঢ় ভাবেই অহুভব করেচে। সে অপূর্ব আনন্দরস...বার বার জন্মমৃত্যুর আবর্ত থেকে মুক্ত, কোন লীলাময়ের অনন্ত লীলারাজ্যে সে নিত্য অভিসারিকা চিরযৌবনা প্রেমিক-জগন্মণ্ডলের স্বষ্টিকর্তা প্রজাপতি হিরণ্যগর্ভের পাশ্বচারিণী । সেই শ্বেত স্ফটিকের দুগ্ধধবল গোপাল-মন্দিরটি দূর থেকে দেখেই পুষ্প উদ্দেশে প্রণাম করলে। মন্দিরের চারিপাশের পুপবাটিকাতে কত ধরনের ফুল ফুটে আছে, পূর্ব-পরিচিত এই স্বন্দর লতাকুঞ্জটিতে রঘুনাথদাস বসে নামগান করচেন। এবার তিনি এক নন, দুটি বালক ও দুটি উদ্ভিন্নধেীবন স্বন্দরী কুমারী সেখানে বসে র্তার সঙ্গে হাততালি দিয়ে গানে যোগ দিয়েচে । কেমন চমৎকার স্বগন্ধ এখানকার । সেবারও এখানে আসতেই পুষ্প পেয়েছিল—আগুরু, চন্দন, মুগন্ধি ধূপের ধোয়া, কত কি ফুলের স্ববাস মিলে এই স্বৰ্গীয় স্বগন্ধটার স্বষ্টি করেচে। আশ্চর্য, কোনো পার্থিব ধরনের বাসনা একেবারে থাকে না এই স্বমধুর গন্ধময়, নিস্তব্ধ, চিরশাস্তিময় পরিবেশের মধ্যে । 尊 ওকে দেখে রঘুনাথদাস বল্পেন—এসে মা । আমি তোমার কথা ভাবছিলাম, বোসে । পুপ ওঁকে প্রণাম করতেই আচার্য বল্পেন—অপুনর্ভব হও । বিস্ময়ে পুষ্প শিউরে উঠে বল্লে—কি বজেন আচার্যদেব । ওকি কথা ?•••জানেন— তিনি হেসে বল্পেন–ঠিক বলেচি মা । —আপনি তো জানেন, আমার বাসনা কামনা কিছুই এখনো যায়নি, পৃথিবীতে আমার যাতায়াত বন্ধ হোলে কি করে চলবে ? বলুন আপনি । জন্ম এখন থেকেই বন্ধ হবুে ? রঘুনাথদাস পুষ্পের গায়ে সস্নেহে হাত বুলিয়ে অনেকটা যেন আপনমনে মুর করে বজেন— কিয়ে মানুষ জনমিয়ে পশুপাখী, অথবা কীটপতঙ্গে করমবিপাকে গতাগতি পুনপুন মতি রছ তুয়া পরসঙ্গে । এমন দিব্য মধুর স্বরের সে গান, বিদ্যাপতির বাণী যেন মূর্ত হয়ে উঠলো স্বগায়ক রঘুনাথদাসের কণ্ঠস্বরের মধ্যে দিয়ে। তারপর পুপকে বল্পেন—যাও, গোপালকে দেখা দিয়ে এসো। বড় অভিমানী—সামলে রাখতে হয় ।