পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ه/چl কিন্তু উপলখও তা নয়। এর বেশির ভাগ কাহিনীতে বিভূতিভূষণের পরিণত লেখনীর ছাপ আছে। বিশেষ করে 'আহান গল্পটি বিভূতিভূষণের শ্রেষ্ঠ রচনাগুলির অন্যতম বলেই গণ্য হবে চিরকাল। গ্রন্থপঞ্জী-লেখক বলেছেন এমন একটি স্ত্রীলোককে তিনি জানতেন ; কেউ কেউ বলেন হিন্দু-মুসলমান-সম্প্রীতি বৃদ্ধির জন্যই বিশেষ ভাবে এটি লেখা—তবে কল্পনাই হোক আর সত্যই হোক, রচনাটি যে প্রথম শ্রেণীর গল্প হয়ে উঠেছে তাতে সন্দেহ নেই। বিভূতিভূষণের সহজাত মানবতা-বোধ ও দরিদ্র সরল সাধারণ মানুষদের প্রতি ভালবাম এতে পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান। এই কাহিনী অবলম্বন করে পরে একটি পূর্ণাঙ্গ সার্থক চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছিল । 會監 .‘একটি ভ্রমণ কাহিনী তার স্বভাবসিদ্ধ কৌতুক-বোধের উৎকৃষ্ট নিদর্শন। একটা কথা বলা এক্ষেত্রে বোধহয় অপ্রাসঙ্গিক হবে না। এই গল্পটির বাজচিন্তা আমাদের সামনেই পরিকল্পিত হয় । মিত্র-ঘোষের স্বহৃদগোষ্ঠীর মধ্যে সেই সময়টা প্রায়ই বিদেশ ভ্রমণের জল্পনা হ’ত, কাগজ কলম নিয়ে বসে নানা হিসাব ও ফর্দ হ’ত প্রত্যেক দিন । বেশির ভাগ সে ভ্রমণই কল্পনাতে থেকে যেত শেষ পর্যন্ত । একদিন এমনি এক আলোচনার মধ্যে-এই শেষ অবধি না যাওয়ার কথা নিয়ে কে একজন বিদ্রুপ করাতে বলে উঠলেন, “ঠিক হয়েছে, আমি একটা গল্পের প্লট পেয়ে গেলাম “একটি ভ্রমণ কাহিনী” বলে একটা গল্প লিখব।” এইভাবেই একদিন এক বন্ধুপত্নীর সঙ্গে কৌতুক প্রসঙ্গে তিনি ‘র্তার ভালো মনোহরপুর খারাপ মনোহরপুর কল্পনা করেন। 鷺 = উপলখণ্ডের মধ্যে সর্বাপেক্ষ বিচিত্র কাহিনী হল—নিম্নমামা ও আমি’। এতে বিভূতিভূষণের সমস্ত ভঙ্গী বজায় থেকেও এটি ভিন্ন স্বাদের গল্প হয়ে উঠেছে। এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে তারাশঙ্করের ‘হাম্বলী বাকের উপকথায় যে পুরুষটি মেয়ে সেজে ঘুরে বেড়ায়— সেও নিজেকে পরিচয় দেয় নম্ববালা বলে।-- * * এই গ্রন্থের শেষ গল্প 'আইনস্টাইন ও ইন্দুবালা’ আর একটি কৌতুক-রসের গল্প। ফিল্মস্টারদের দেখার জন্য ভীড় ও মারামারি দেখেই এই ধরনের গল্প লেখার কথা মনে আসে । একদিন এমনি এক ভীড়ের প্রসঙ্গেই তিনি প্রথম বলেছিলেন, “অথচ দেখুন এর মধ্যে এখানে যদি স্বয়ং আইনস্টাইনও এসে দাড়ান, কেউ পুছবে না!" তার অল্প কদিন পরেই এই গল্প লেখা হয় । মোটের ওপর উপলখও তার কয়েকটি সার্থক—এবং নিজস্ব বিশিষ্ট ভঙ্গুর গল্প-সঙ্কলন। অখ্যাত, অপেশাদার লেখক, যাদের রচনায় কোন দিন পাঠকদের চোখের আলো পড়ল না, যারা কি লিখছে, কী তার মূল্য তাও বোঝে না—তাদূের প্রতি মাঝে মাঝে কোথাও সস্নেহ কৌতুক কি সপ্রশ্ৰয় বিরক্তি প্রকাশ করলেও—তাদের সেই নিষ্ঠ ও সাহিত্যপ্রতিকে বিভূতিবাৰু আন্তরিক শ্রদ্ধার চোখেই দেখতেন । বিধু মাষ্টার’ গ্রন্থের কবি কুণ্ডু মশায় সেই মনোভাবেরই এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ‘বেচারী’ ও ‘অসমাপ্ত দুটিই লেখকের টিপিক্যাল গল্প। “অভিশাপ' বিভূতিবাবুর লাইন ছাড়া, এ ধরনের গল্প তিনি লিখতেন না, হয়ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা