পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান 8సి রামলাল বল্লে—আছ কোথায় ? —এখানেই । —মাঝে মাঝে এসো। বডড একা পড়ে গিয়েচি । আচ্ছা; হরিমতিকে দেখতে পাওঁ ? বুঝতে পেরেচ ? গাঙ গোসাই-এর মেয়ে হরিমতি। তাকে এসে পর্যন্ত খুঁজচি—এক সময়ে তার সঙ্গে ছিল কিনা ! যতীন একটু অবাক হয়ে গেল। গাঙ গোসাইএর যে মেয়ের কথা এ বলচে, তাকে নিষ্ঠাবতী বৈষ্ণবী হিসেবে সে জানতো। তবে সে যুবতী এবং স্বন্দী ছিল বটে। আশালত যেবার বাপের বাড়ী চলে গেল, সেই বছর সে কি জানি কেন গলায় দড়ি দিয়ে মারা যায়। হরিমতির চরিত্র ভালো ছিল বলেই তার ধারণা আছে এ পর্যন্ত । যতীন বল্লে—ন, ওসব দেখিনি। তুমি এখন ওসব ছাড় । মরে চলে এসেচ পৃথিবী ছেড়ে । মদ মেয়েমানুষ এখানে কি কাজে লাগবে তোমার ? হরিমতিকে তা হোলে তুমিই নষ্ট করেছিলে, তোমারি জন্যে তাকে গলায় দড়ি দিয়ে মরতে হয় ? —না ভাই । তোমার পা ছু’য়ে বলতে পারি। সে ভালো চরিত্রের মেয়ে গোড়া থেকেই ছিল না। অঘোর কুণ্ডুর সঙ্গে তার গোলমাল হয় তা আমি জানি। জানাজানি পাছে হয় তাতেই সে গলায় দড়ি দিয়ে মরে। আমায় অত খারাপ ভেবে না। ফুর্তিটুর্তি করতাম বটে, তা বলে— —বেশ, তবে ও পথ একেবারে ছেড়ে দাও, নইলে যেমন কষ্ট পাচ্চ এমনি কষ্ট পাবে। যতীন সেইদিন থেকে প্রায়ই রামলালের স্তরে গিয়ে তাকে বোঝাতে । রামলাল বাড়ীম্বর পায়নি, গাছতলাই তার আশ্ৰয়স্থান। যতীন তাকে উপরের স্বর্গের কথা বলতে, ভগবানের কথা বলতে!—কিন্তু রামলাল নিমস্তরের আত্মা, অতি স্কুল আসক্তিতে ওর মন বাধা । সে সব ও কিছুই বোঝে না, ভালও লাগে না । একদিন রামলালের ঠাকুরদাদা ৮কেবলরাম কুণ্ডুর সঙ্গে দেখা । কেবলরাম ঘুঘু ব্যবসাদার, সামান্ত অবস্থা থেকে বিখ্যাত ধনী ও আড়তার হয়েছিল । ওকে দেখে বঙ্গে—জারে, তুমি ভবতরণের ছেলে । খুব মনে আছে তোমায়। আহাহ, অল্প বয়সে তোমরা সব চলে এলে, বড় দুঃখের কথা। আমার নাতির দেখো না, ভরসারাম মরে গেলে অত বড় ব্যবসাটা গেল। কে দেখবে? এই তো সন্দে পর্যন্ত আড়তে বসেছিলাম। রোজ গিয়ে দেখি। বড় মারা ঐ আড়তটার ওপর। ভরসারাম তো বাধী আসরে গাইলে । কষ্ট কাকে বলে তা তো জানলে না। এক লক্ষ আশি হাজার টাকা ক্যাশ রেখে আসি ব্যাঙ্কে, উইলে দুভাইকে সমান ভাগে ভাগ করে— যতীন বল্লে—কুণ্ডু মশাই, এখন ওসব ছেড়ে দিন। আপনি আজ কুড়ি বছর এসেছেন, আজও দোকান আড়ত নিয়ে আছেন কেন ? আপনি না গলা তুলসীর আগ দিতেন। হরিনাম করতেন ? —সে এখনও করি । তা বলে—