পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান Σ Φ & যতীন একা বলে ছিল বাড়ীতে । পৃথিবীতে আবার জন্ম নিতে হবে । শত সুখদুঃখের বন্ধনে আবার জড়ানো, মদ কি? সেই গরীব ঘরের বেটির কোল আলো করে আবার শিশু হয়ে কত বাল্যলীলা করবে, নতুন স্বাস্বাদ, আবার আসবে আশ। --হতভাগিনী আশা—নববধুরূপে তার ঘরে, আবার কত বর্ষারাত্রি, কত বসন্তপ্রভাত ওর সাহচর্বে কাটবে। পৃথিবীতে যেতে তার কষ্ট নেই, মধুর সেখানকার শৈশব, মধুর কৈশোর, মধুর যৌবন। চিরযৌবনের হাওয়া যেন বয় তার অমর আত্মায়, পৃথিবীতে মাস যাবে মাস আসবে, নতুন ধানের গন্ধ বেরুবে ক্ষেতে ক্ষেতে, ক্ষুধায় বনের মেটে আলু তুলে মুন দিয়ে পুড়িয়ে খাবে, তার মা যখন বৃদ্ধ হয়ে যাবে তাকে খাওয়াৰে, আশা সংসার পাতবে নতুন লক্ষ্মীর হাড়িতে ধান দিয়ে ।... ... কেৰল কষ্ট হয় পুষ্পের জন্তে । এতদিন ওর সঙ্গে থেকে কি মায়াই হয়েচে ওর ওপরে। কেন এমন বিচ্ছেদ ? কি কষ্ট পাবে পুষ্প, তা সে জানে। আশা যদি কষ্ট না পেতো, যতীন কিছুতেই যেতো না । o পুষ্প এসে ওর হাত ধরে বল্লে-যতীনদা ! --কি পুপ ? —আমায় ভুলো না । —আচ্ছা, পুষ্প—তুই বলতে পারিস, কেন আমাদের জীবনে এ দুর্ভাগ্য, কেন বার বার তোকে হারাচ্চি ? তোর বৌদিদিকে হারাচ্চি ? —আমার নিয়ে যাও সঙ্গে— —ছি, পুপ। দেবী যা বলেন তাই তোমার আমার পক্ষে গুভ। ওঁর কথা শোনে । —আমি কারো কথা শুনবে না, আমি যাবে। —কি, এবারও একসঙ্গে খেলা করবি পুপ ? তেমনিধারা সাগঞ্জ-কেওটার ঘাটে ? বেশ— অদ্ভূত সে সব দিন। . যতীন চোখ বুজে ভাবতে লাগলো । পুপ ওর হাত ধরে বসে রইল, বল্লে—তাই তো সীগঞ্জকেওটার বুড়োশিবতলার ঘাট ও লোকেও ভুলতে পারিনি। জন্মান্তরের স্মৃতিতেও অক্ষয় যেন হয়। তোমার যাওয়ার পথে দেবতারা ফুল ফেলুন যতুদা—আমি হতভাগিনী চিরকুলি একাই থাকবো । এই আমার ভাগ্য । যতীন ওর মুখের দিকে চেয়ে বল্লে—আমার মুক্তিতে দরকার নেই, কোনো কিছুর দরকার নেই। সমাধিস্টমাধি, দেৰী-টেৰী সব বাজে i তোকে ছেড়ে যাবে না । —আশা ? 聯 —তার অদৃষ্টে যা হয় হবে পুষ্প । —ঠিক কথা ষতুল্লা ? —প্রাণের সত্য কথা বল্লাম। এখন আমার আস্তর বা বলচে। সব তুচ্ছ হয়ে গিয়েচে জামার কাছে—তুই থাক পুষ্প আমার ! —জগতের, বিশ্বের বহুদূর সীমানায় চলে যাও যতুঙ্গা, তোমার মুক্তি দিলাম। ভালবেলে',