পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/২০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S గి বিভূতি-রচনাবলী . —বা রে, বাডউলি মাসি এলো, কথা বলে গেল, ও-ও কিছু নয় ? পরে বিভ্রান্তকে বোঝাবার স্বরে সদয়ভাবে বঙ্গে—ও সব তোমার মাথার ভুল । সব সত্যি — দেখচো না বাড়াউলি মাসী এসে কি বলে গেল । একবার তোমাকে হোমিওপ্যাধিক ওষুধ খাওয়াতে হবে । রাত্তিরে ভাল ঘুম হচ্চে না, না কি ? আশা বল্লে—তবে মাঝে মাঝে পাই আবার হারাই কেন ? অনেকটা অন্যমনস্ক স্বরে কথাটা বলে ফেলেই ও চাপতে চেষ্টা করলে ৷ বল্লে—কি জানি, যা বলচো, তাই বোধ হয় হবে । আচ্ছা আমরা এখানে কতকাল থাকবো ? কবে চলে যাবো এখান থেকে ? —কেন যাবো ? বেশ আছি । —আমাকে আমার গায়ে রেখে এসো—লক্ষ্মীটি ! . নেত্য রেগে উঠে বল্লে—মেরে হাড় গুড়ো করবে। সেই শক্ত বাক্ষরটার জন্যে মন কেমন করচে বুঝি ? আমি সব জানি । —ন না, সত্যি না নেত্যদা । তোমার দুটি পায়ে পড়ি । আমার এখানে থাকতে ভাল লাগচে না । ভয় হচ্চে । মনে হচ্চে যেন একটা জায়গায় এসে পড়েচি, এখান থেকে বেরুবার পথ নেই। এই ছোট ঘরট, ওই তক্তপোশটা---এ বাড়ীর, যেন চারিদিকে দেয়াল দিয়ে আমাদের কে আটকেচে । এখান থেকে কেউ বেরুতে দেবে না। এ সবও সত্যি নয়, এ সব মিথ্যে, সব ছায়াবাজি । যা এই সব দেখচি না ?...সব ভুল। নেত্য ব্যঙ্গের স্বরে বল্লে- আবার আবোল-তাবোল বকুনি ? মাথা কি একেবারে গেল ? আশা আপন মনেই বলে যাচ্ছিল---এ.থেকে তোমার আমার কোনোদিন উদ্ধার নেই । জানো, আমি অনেক চেষ্টা করেচি পালাবার, বাইরে যাবার । কিন্তু পারিনি-কে আবার এই সবের মধ্যে আমায় এনে ফেলেচে । অথচ আমি চাই উদ্ধার পেতে এ সব থেকে, এখান থেকে অনেক দূরে চলে যেতে-যেখানে এসব নেই। কেন পারিনে জানো ? অনেক চেষ্ট করেচি আমি পালাবার-পারিনি। * আশা অসহায় কান্নায় ভেঙে পড়লো । নেত্য না-বোঝার দৃষ্টিতে ওর দিকে চেয়ে রইল উদ্বিগ্ন ভাবে। নেত্য নানারকম অত্যাচার শুরু করলে ক্ৰমে ক্রমে আশার ওপর। ঘরের মধ্যে বদ্ধ করে রাখে, মারধোর তো করেই। বাড়ীউলি মাসী যোগ দিয়েচে নেত্যদার দিকে । ওকে বলে— বল্লুম এক মাড়োয়ারী বাবু জুটিয়ে দিচ্ছি—ত হোল না। লোকে কি যার সঙ্গে বেরিয়ে আসে, তার সঙ্গেই ঘর করে চিরকাল ? কত দেখন্থ আমার এ বয়সে। ওই যে পাশের বাড়ীর বিলি, আপন দেওরের সঙ্গে বেরিয়ে এসেছিল, তা কই এখন ? কোথায় গেল সে রসের নাগর দেওয় ? নোৱাওলা খোটা বাৰু রাখেনি ওকে ? কেমন ছাপর খাট, গদি, এক পিরুত্বত রূপোর বাসন ! দু’পয়সা গুছিয়েচে–