পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/২০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান S) কি ঝকমারি করেচে আশা। এই কথাবার্তা তার গায়ে ছ’চের মত বেঁধে আজকাল। কেউ ভাল কথা যদি বলতে দুটো এখানে । কালি ঢেলে ঢেলে তার সারা গায়ে কালি মাখিয়ে দেয় এরা। কিন্তু কাটলে বহুকাল। অনেক দিন, বৎসর মাস-অনেক জীবন, জন্ম মৃত্যু যেন জড়িয়ে এক হয়ে গিয়েচে । সত্যিতে স্বপ্নতে জড়িয়ে এক হয়ে গিয়েচে । এমন শক্ত হয়ে পাক জড়িয়ে গিয়েচে এবং আরও যাচ্চে দিন দিন যে, কেউ খুলতে পারবে না। একদিন সে আফিং আনিয়ে নিল পালেদের ছেলের হাত দিয়ে । সেদিন নেত্যনারাণ কোথায় বেরিয়েচে— ভালোই হয়েচে, একেবারে সব যন্ত্রণার অবসান সে অাজ করবে। ঘরে খিল দিয়ে শুয়ে রইল আফিং খেয়ে-তারপর ক্রমে ঝিমিয়ে পড়লো। পেটে কোথায় যেন ভীষণ বেদনা করচে. সব যন্ত্রণার আজ একেবার শেষ হবে । সকলের মুখে অশ্লীল কথা শুনতে হবে না । কিন্তু কোথা থেকে নেত্যনারাণ ফিরে এসে ওর ঘরের দোর ভেঙে খিল খুলে ওর মাথার চুল ধরে সারা বারান্দা হঁটিয়ে বেড়াতে লাগলো। কিছুতেই ওকে বসতে দেয় না, গালে চড় মারেবলে—বসতে চাও? ন্যাকামি করে আবার আফিং খাওয়া হয়েচে ওঠে। বেঁচে, তারপর তোমার হাড় আর মাস – বাড়াউলি মাসী কোন ফাকে কাছে এসে চুপি চুপি বল্পে-বন্ন. বাপু, দিব্যি মাড়োয়ারী বাৰু জুটিয়ে দিচ্চি। অমন কত হুচ্চে আজকাল । কেন মিছিমিছি আফিং খেয়ে কষ্ট পাওয়া । ...দিব্যি মুখে থাকবে । ওই পাশের বাড়ীর বিন্দি । ছাপর খাট, কলের গান বাসনকোসন । ও যে আপন দেওলের সঙ্গে বেরিয়ে এসেছিল – ওর মন আর পারে না । অবসন্ন, ক্লান্ত মন যেন বলে ওঠে -ভগবান, আমি আর পারিনে । আমায় বাঁচাও—এ থেকে উদ্ধার করে-- . কে যেন ওর কথা শোনে । আশার স্বপ্নাচ্ছন্ন, অবসন্ন মন বোঝে না কে সে । অনেক দূরের, অনেক আকাশের পারের কোন দেশ থেকে সে যেন উড়ে আসে পাখায় ভর করে । একবার আশার মুগ্ধ দৃষ্টির সম্মুখে যেন এক অনিন্দ্যম্বন্দরী, মহিমময়ী দেবীমূর্তি ভেসে ওঠে । বরাভয়করা, স্মিতহাস্যমধুরা-অপরূপ রূপসী জ্যোতির্ময়ী নারী । আর মনে আছে এক সাদ বড় পাহাড়ের ছবি, সবাই মিলে তাকে ছুড়ে যেন সেই সাদা পাহাড় থেকে বহুদূরে নীচের দিকে ফেলে দিচে । - o দেবী যেন হাসিমুখে বল্লেন--যাও, ভাল হও–ভুল আর কোরো না । o কে যেন প্রশ্ন করলে—আশা-বৌদি স্বামীর সঙ্গে মিলবে কি করে ? ও তো সব ভুলে যাবে । দেবী বল্পেন--আমি সব মিলিয়ে দিই। ওরা তো নতুন মানুষ হয়ে চললো, ওদের সাধ্য কি ? তারপর গভীর অতলম্পর্শ অন্ধকার ও বিশ্বতি । অন্ধকার...অন্ধকার । পুষ্প একদিন সেই নির্জন গ্রহটিতে এক গেল । ওর বড় ८कोछूश्ल হয়েছিল বনকাস্তার, অরণ্যানী ও শৈলমালায় পরিপূর্ণ ওই ছায়াভরা গ্রহের জীবনযাত্রা দেখতে। এবারও রাত্রি নেমেচে গ্রহটিতে ।