পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/২১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


్సు'లో বিভূতি-রচনাবলী দেখচেন—শেষ করতে পারেন নি । সন্ন্যাসী এসে প্রায়ই বলেন—মহলোকে তোমার আসন, এখানে কি নিয়ে পড়ে আছ কন্তে ? সেই পৃথিবীর গঙ্গা, পৃথিবীর হালিসহর সাগৰু, নৌকো—এসব মায়িক কল্পনা তোমার সাজে না । ছি ছি— পুষ্প সকৌতুকে বলেছিল—নিয়ে যান না তার চেয়েও উচ্চতর লোকে, যাচ্চি এখনি। সন্ন্যাসী বলেন–জ্ঞান থাকবে না বেশিক্ষণ । কারণ এসব লোক আত্মিক অবস্থা মাত্র । কোনো স্থান নয়। সে উচ্চতর চৈতন্ত জাগ্ৰত হোলে পৃথিবীতে জড়দেহধারী হলেও তুমি সত্যলোকের অধিবাসী । যেমন দেখেছিলে আমার সেই গুরুভ্রাতাকে । চিদানন্দময় আত্মা সেখানে আপনার অস্তিত্বের আনন্দে বিশ্বের সঙ্গে এক স্বরে গাথা। মুখে বলা যায় না সে অনুভূতির কথা । পুষ্প বল্লে—বুঝবার ক্ষমতা নেই আমার দেব । তবে শুনলাম বটে। আপনার দয়া । —বিধাতৃপুরুষদেরও উচ্চ স্তরের দেবতাদের দেখা পাওয়ার জন্যে তপস্ত করতে হয় জানো তো ? বিশ্বব্ৰহ্মাণ্ডের সাতজন বিধাতৃপুরুষ আছেন, এদের ওপর ঈশ্বর, বিধাতৃপুরুষের ইচ্ছা করলেই ভগবানের লোকে যেতে পারেন না—গেলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন । এজন্তে তপস্যা দ্বারা শক্তি অর্জন করতে হয়—তবে সেই সাময়িক তপস্তার সাময়িক শক্তি নিয়ে ঈশ্বর সমীপে যেতে পারেন। অথচ বিধাতৃপুরুষের স্বষ্টি স্থিতি প্রলয় করচেন। —ভগবান তবে কি করচেন, তিনি কি ঠুটো জগন্নাথ ? • —র্তার ইচ্ছাতেই সব হচ্চে, কন্তে । একটা তৃণও নড়ে না তার ইচ্ছা না হোলে । —তিনি দয়ালু ? ডাকলে সাড়া দেন ? —এখনও এ সন্দেহ ? এইজন্যে আমি বলি, প্রার্থনা ক’রো না তার কাছে কিছু। প্রার্থনা করলেই তিনি মঞ্জুর করেন । তিনি পরম করুণাময় । জীবের দুঃখ দেখে থাকতে পারেন না । হয়তে এমন অসঙ্গত প্রার্থনা করে বসলে, যা মঞ্জুর হোলে তোমার আত্মার অমঙ্গল । এইজন্যে কিছু চাইতে নেই তার কাছে—তিনি আমাদের মঙ্গলের দিকে দৃষ্টি রেখে সব কিছু করে যাচ্চেন বা বিধাতৃপুরুষদের কর্মে সম্মতি দিয়ে যাচ্ছেন। এইজন্তে অনেক সময় ভগবানকে নিষ্ঠুর বলে মনে হয় । জীবের কল্যাণের জন্যে তিনি ব্যবস্থা করচেন, আমাদের তা মনঃপূত হচ্চে না । —ক্ষেমাস তাই বলেন। —কে ? আমাদের কবি ? ওর কথা বাদ দাও। আজ এত বছরেও ওর ভাবালুত৷ ওকে ছেলেবেলার ওপরে উঠতে দিলে না ! গোপাল আর বৃন্দাবন, আর আরতি, আর চোখের জল—আর চাদের আলো--- সন্ন্যাসী সেদিন বিদায় নিয়ে চলে গেলেন । পুষ্পের হাসি পায় ওঁর সব কথা ভেবে । মেয়েমামুষের মনের কথা এরা কি কবে জানবে ? শুদ্ধ, বুদ্ধ আত্মা ওৱা—ব্রহ্মের মত হয়ে গিয়েচে । শত স্নেহ প্রেম প্রীতির বাধনে যে মেয়েমানুষের মন বাধা । এও সেই বিধাতৃপুরুষদেরই গড় নিয়ম তো, স্বটিছাড়া কিছু নয়। পৃথিৰীতে কি সন্ধা হয়ে এসেচে ?