পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/২১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান Ssసి পুপ একবার নীচের দিকে চেয়ে দেখলে, তারপর পৃথিবীর সন্ধ্যায় দেহ মিলিয়ে নেমে এল কোলা-বলরামপুর গ্রামে। যতীনের মা রান্নাঘরের মধ্যে ভাত চড়িয়ে উন্থনের পাশে বসে আলুবেগুন কুটচে। সে আর ঠিক তরুণী নয় এখন, বিগত যৌবনের চিহ্ন সারা দেহে পরিস্ফুট। নতুন, ধান এসেচে সামনের উঠানে, শীতের সন্ধ্যা, পাশের বাড়ীর আমতলায় ছোট ছোট ছেলেমেয়ের আগুন জেলে পোয়াচ্চে । যতীনের মা রান্নাঘর থেকে বল্লে-ও অভয়—কোথায় গেলি ? পাশের বাড়ীর আমতলায় যে সব ছেলেমেয়ে আগুন পোস্নাচে, তাদের ভেতর থেকে একটি আট-ন বছরের বালক উত্তর দিলে—কেন, কি হয়েচে ? —ঠাও লাগাস নি বাইরে । ঘরের মধ্যে আয় । বালকের এখন সম্পূর্ণ অনিচ্ছা সমবয়সীদের মজলিস ছেড়ে এসে রান্নাঘরে ঢুকতে। সে বল্লে—আমি বাইরে বলে ধান চৌকি দিচ্চি যে - --না, তোমায় ধানচোঁকি দিতে হবে না। চলে আয় ঘরে। এই উকুনের পাড়ে বসে আগুল পোয় । ছেলের লেগেই আছে সর্দি কাসি—আবার রাত পজুস্ত বাইরে বসে থাকা— আর একটি ছেলে ওকে বল্লে—যা, কাকিমা বকবে--- অভয় মুখ ভার করে মায়ের কাছে উন্সনের পাশে এসে বসলো। ওর মা বল্লে—সেই গরম জামাট আজ গায়ে দিস নি ?” —আহাঁ-হাঁ-সে তো ছেড়া ! —ত হোক, নিয়ে আয়, বডড শীত পড়েচে । -नl भीं । অভয়ের মা ছেলের গালে এক চড় কষিয়ে দিয়ে বল্পে—তোমার একগুয়েমিগিরি ঘুচিয়ে দেবো আমি একেবারে । দুষ্ট ছেলে—এখুনি বলবেন, মা আমার জর এয়েচে-তখন নিয়ে এসে সাৰু, নিয়ে এসো ওষুধ—যা নিয়ে আয় জামা, মাঝের ঘরের আলনায় আছে— পুষ্প খিলখিল করে হেসে উঠে বল্লে—ও যতুদা, কেমন মজা ? এ আমি নয় যে একগুয়েমি করে নিস্তার পাবে— পুপ এই সময়টা মাঝে মাঝে এখানে এসে কাটায়। অভয়ের মা ছেলেকে খুওয়ায়, কাছে বসে পড়ায়-প্রথমভাগ, ধারাপাত—পুষ্প বসে বসে দেখে । বেশ লাগে ওর। স্বপ্নের মত মনে হয় সংসারের জীবন মৃত্যু...সুন্ন্যাসীষ্ট জ্ঞানী, সব মায়া আর স্বপ্ন।. আশা-বোঁদিকেও একদিন সে দেখে এসেচে। সে এখন বহুদূর মুরশিদাবাদ জেলায় এক মাঝারি গোছের গেরস্তবাড়ীর ছোট একবছরের খুকি। 娜 সে করুণাদেবীকে বলেছিল সেদিন—এরা মিলবে কি করে দেবী ? কি করে জানবে এর । দেবী ছেসে উত্তর দিয়েছিলেন—ওদের সাধ্য কি ? আমরা সে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেবে। সময় এলে । দেখতেই পাবি, পুষ্প । 歇 愛 অভয়ের মা ছেলেকে খাইয়ে দাইয়ে পাশের ঘরে ঘুমুতে পাঠায় । পুষ্প এসে সেই সময়