পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/২৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উপলখণ্ড Y (t গোপীকৃষ্ণবাৰু অধীরভাবে বললেন—আহা—আহা মুখে কেন, কাগজে লিখে ফেলে। না ? কাজ পাকা করা দরকার । মশারি, বালিশ —তারপর ? গায়ে দেবার কম্বল— —কম্বল । y —স্বজনি । একজন লোক ফুটপাৰে দাড়িয়ে বললে—এটা কি ডাক্তারখানা ? শম্ভু ডাক্তার হাতের কলম ফেলে ব্যস্ত-সমস্তভাবে উঠে দাড়িয়ে বলে উঠলেন—ষ্ঠ্য, ষ্ট্যা— ডাক্তারখানা – ডাক্তারখানা--কি দরকার ? লোকটা বললে –হোমিওপ্যাথিক ? — স্থ্য, হ্যা,—হোমিওপ্যাথিক –ভাল হোমিওপ্যাথিক--কার অমুখ ? —অস্থখ কারো না । এমনি জিজ্ঞেস করছি-- সে চলে গেল। শঙ্কুবাবু আবার এসে টেবিলে বসে কলম ধরলেন, বিরক্তির স্বরে বললেন —মিছিমিছি জালায় ! * যেমন সব কাও—হঁ্যা--তারপর বলে, স্বজনি- - রাত দশটার সময় ব্যাপারটি অমীমাংসিত ও মুলতুবী রেখে দুই বন্ধু বাডী রওনা হন। কথা হয় আগামীকাল আবার বিকেলে একত্র হয়ে পুনরায় আজকার খেই ধরা হবে । চলবে পরামর্শ। বাড়ী ফিরে গোপীকৃষ্ণবাবু আহারাদি করে শয়ন করেন, কিন্তু উত্তেজনায় ঘুম আসে না। চিত্ৰকূট কতদূর না জানি! কত পাহাড় জঙ্গল দিয়ে যাওয়া ! অনেক দূরের ট্রেন-জানি। কত মজা হবে রাস্তায় ! ভাল কথা, এক টিন ভাল সিগারেট নিতে হবে সঙ্গে । কত পয়সা তো কত দিকে যাচ্ছে । জীবনের একটা স্বথ। বড় বড় পাহাড় দেখা যাবে পথে । পাহাড়ই কখনও দেখা হয়নি। ছুটির আর কতদিন দেরি ? গোপীকৃষ্ণবাৰু ক্যালেণ্ডার দেখলেন উঠে । ছব্বিশ দিন বাকী মোটে। টাকার যোগাড় দেখতে হয় এখন থেকেই । গোপীকৃষ্ণবাবুর স্ত্রীর পিত্রাপর কোলাঘাটের কাছে। তার এক খালক মিলিটারিতে কি চাকরি পেয়ে কানপুরে চলে গিয়েছিল, আজ ছুদিন যাবৎ চিঠি এসেছে যে সে তালকটি বাড়ী এসেছে । তার সঙ্গে একবার দেখা করতে যাওয়া দরকার। গোপীবাবুর স্ত্রী স্বামীকে তাগাদ দিতে লাগলেন । কবে সেখানে যাওয়া হচ্ছে ? এবার পূজোর সময়ে কোলাঘাট নিয়ে চল। কতদিন তো ধাওয়া হয়নি। তাইটার সঙ্গেও দেখা হবে। গোপীকৃষ্ণবাৰু বিরক্ত হয়ে বল্পেন—হঁ্য, ঘাচ্ছি এখন তোমার সেই অজ গগুমুখ ধু ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে সেই ধপধপি জায়গায়— গোপীকৃষ্ণবাবুর স্ত্রী বাঝালো স্বরে বলে উঠলেন—হোক গগুমুখখ, তোমার চেয়ে জার তোমার সেই হোমাপ্যাখি জল-বেচা ডাক্তার বন্ধুর চেয়ে অনেক ভাল। সে তবুও আছে কানপুয়ে-দেড়শো টাকা রোজগার করছে। তুমি বি-এ পাশ করে বাট টাকায় ঘৰছে, আজ সেই জামার বিয়ে হয়ে পর্যন্ত । বেলুড়ের ওদিক কখনও মাড়ালে না ছজনে তোমাদের চেয়ে সে অনেক ভাল ।