পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/২৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


令é বিভূতি-রচনাবলী আমার চেয়ে সামান্য কিছু বড় হবে । অতুল মামার বয়েস হয়তো ছিল বোলো-সতেরো । নস্থ হাসলে তার মুখ দিয়ে যেন মুক্তো ঝরতো-দিদিমার সেই গল্পের মত। এমন স্বন্দর মুখ আমার আট বছরের জীবনে এ অজ পাড়াগায়ে কটাই বা দেখেছি! দিদিমার কাছে এসে বসে মাঝে মাঝে সেও গল্প করতে, সে যা বলতে তা যেন মধুর, অতি মধুর। আমি ই করে ওর মুখের দিকে চেয়ে একমনে ওর কথাগুলো যেন গিলতাম। অতুলও তো কথা বলে, কিন্তু তার কথা এত ভালো লাগতো না তো ? দিদিমা বলতেন—অতুলের সঙ্গে পাচীর বিয়ে দেবে, বেশ মানাবে। আমি মুখ ভারি করে বলতাম—ছাই মানাবে। দিদিমা হেসে বলতেন—ওমা মেয়ের কাগু ছাখে । কেন মানাবে না ? —তুমি তো সব জানো ! —তবে তোর মনটা কি শুনি ? কাকে বিয়ে করবি তুই ? —ওই নমুকে । দিদিমা হেসে গড়িয়ে পড়ে বলতেন—এর মধ্যেই মেয়ে নিজের বর বেছে নিয়েচে । ধন্তি যা হোক, একালের মেয়ে কি না ! শুনলে সই, নস্ক নাকি ওর বর হবে । অতুলের মা হেসে বলতেন—কেন রে, অতুলকে তোর পছন্দ হয় না কেন ? —অতুল মামার বয়েস বেশি। —বেশি আর কত ? ষোল বছর । —ত যাই হোক, ষোল বছরের বুড়োকে আমি বুঝি বিয়ে করবো ? নক্ষ ছেলেমানুষ । দিদিমা বলতেন--দ্যাখো সই একালের মেয়ের কাও ৷ নম্বর বয়স বারো, ওকেই বেশি পছন্দ । তোমার আমার কাল চলে গিয়েচে । তেরো বছর বয়সে আমার বিয়ে হলো, উনি তখন বিয়াল্লিশ, দোজপক্ষে আমার ঘরে আনলেন । তোমারও তো— 蔓 অতুলের মা বল্লেন—আমার অত না । উনি তখন উনত্রিশ, আমার এগারো । —দোজপক্ষ তো বটে 1. —শুধু তাই ? সতীন বেঁচে । —আমার ভগবান সেদিক থেকে নিষ্কণ্টক করেছিলেন তাই খানিক রক্ষে । মাঝে মাঝে নম্বকে অনেকদিন দেখতাম না। আমাদের পাড়ায় সে আসতো না খেলতে । আমার প্রাণ ইপিয়ে উঠতে, ছুটে যেতাম মুখুয্যেবাড়ীতে । . নস্থমাম উঠোনে বসে কঞ্চি কেটে খেলাঘরের বেড়া বাঁধছে। সঙ্গে আরও তিন-চারটি ছেলে, ওরই বয়সী। আমি বলতাম—ও নম্বমামা, আমাদের বাড়ী যাওমি যে ? —কি রোজ রোজ যাবো ! তুই এতদূর এলি যে ? আসতে ভয় করে না ? -નઃ । — খেলা করবি ? 鹽