পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/২৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী سيتعا কিসের টাকা এ ?—সেই টাকা । —তুমি এ টাকার কথা জান ? * —কানাঘুবো শুনেছিলাম যখন প্রথম বিয়ে হয়। কিন্তু আমার বিশ্বাল হয়নি। —আমায় জিজ্ঞেস করোনি তো কোনদিন ? —না । পিসিমা বারণ করেছিলেন । দিদির নাকি বারণ ছিল এ টাকায় হাত দিতে । —এখন তোমার কি মত ? —ভাগিমানী স্বগগে চলে গিয়েছেন বহুকাল। তাদের কাজে যখন আসেনি, তখন এ টাকায় আর হাত দিও না । কার টাকা জানাও যায়নি । —পরের ধন যক্ষির মত আগলে বসে আছি আজ এগার-বারো বছর। এখন ভেবেছি কি শোন। যদি তুমি মত দাও, তবে গ্রামে বড় জলকষ্ট, একটা পুকুর করে দিই এই টাকায়। গ্রামের লোকের এতদিনের জলকষ্ট ঘুচিল । বিড়ম্বন৷ বিষ্ণু অনেকদিন পরে দেশে ফিরল শীতকালে । পৌষ মাসের প্রথম। স্টেশন থেকে নেমে গ্রামে যাওয়ার পথে কলাই-মুগের ক্ষেতে স্থাটি পেকে উঠেছে। কোন ক্ষেত্রে ফসল কাটা হয়ে খালি জমি পড়ে আছে। লোকের বাড়ীর উঠান পর্যন্ত ছোট এড়াঞ্চির ঝোপ । শীতের সময় সাদা সাদা থোকা থোকা ফুলে মাঠ বন ভর্তি । নতুন কাটা খেজুর রসের স্বগন্ধ পথের বাতাসে। গ্রামের নাম ঘুতরোবেড়ে—ছ ক্রোশ দূর স্টেশন থেকে। আজ গ্রামে পৌছনো যাবে না, বেলা পড়ে এসেছে। বেশি দূরও যাওয়া যাবে না, আরামডাংত কিংবা সোনাখালি-বাকসা পর্যন্ত সন্ধ্যের আগে পৌছে আশ্রয় নিতে হবে কোথাও । বিষ্ণু দু বছর আগে দিন-দশেকের জন্যে গ্রামে এসে দিনকতক জাতি ভাইপোর বাড়ীতে ছিল, তার আগে আসেনি বোধ হয় তের কি চোঁদ বছর। সে থাকে বহুদূৰ সম্বলপুর জেলা, টিটলাগড় বলে এক গ্রামে। ওখানকার এক উড়িয়া ব্রাহ্মণ জমিদারের ছেলের প্রাইভেট টিউটর। বয়স হয়েছে বটে, প্রাইভেট টুইশানি করার সময় এখন নয়—কিন্তু ভাগ্য এর চেয়ে কোন ভাল জিনিস ওকে দেয়নি। অনতিক্রম্য অদৃষ্ট কেবল দেশ থেকে দেশান্তরে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে আজ কত বৎসর। উন্নতি হয়নি জীবনে, হবে যে কোনদিন তার আশাও কম। পরের বাড়ী থেকে থেকে পরের ছেলেকে মানুষ করে বয়স প্রায় চল্লিশের কোঠায় ঠেকল । পথে মথুরাপুরের সতীশ কলু গরুরগাড়িতে ধানের বস্তার ওপর বলে আসছে। সেই সতীশ কলু, ঘুতরোবেড়ের হরি গুরুমশায়ের পাঠশালায় দুজনে একসঙ্গে পড়ত—অনেককাল পরে