পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/২৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উপলখও Woo দেখা, তবুও বিষ্ণু চিনতে পারল । —ও সতীশ, ভাল আছ ? চিনতে পার ? সতীশের মাথার চুলে পাক ধরেছে, চেহারাখানি বেশ স্থল ও হৃষ্টপুষ্ট। সে ঠাওর করে দেখে বলে উঠল—আরে, আমাদের সেই বিষ্ণু না ? কোথায় আছ আজকাল ? —থাকি অনেক দুর, উড়িায় সম্বলপুর জেলা । —সে আবার কোথায় ? —অনেক দূর। সে তুমি বুঝতে পারবে না। —কোন রেলে যেতে হয় ? —হাওড়া থেকে উঠতে হয় । —কি কর সেখানে ? কত মাইনে পাও? —ছেলে পড়াই। গোটা পঞ্চাশেক টাকা পাই । সতীশ তাচ্ছিল্যের ভঙ্গি করে বললে—মোটে । এলতলা বেলতলা, শেষ বুড়ির বটতলা ! তার চেয়ে যে আমরা দেশে থেকে ভালই করছি । এবার ধানের কাজ করে—তোমায় বলতে কি—চারটি হাজার টাকা তোমার মা-বাপের আশীর্বাদে— সতীশের রোজগার-পুষ্ট জুড়ির ভারে বিব্রত বলদ দুটি গাড়ী বহন করে ক্রমে দূরে চলে গেল। সে আর সতীশ কলু। একদিন ক্লাসে ভাল ছেলের অধিকারে গুরুমশায়ের নির্দেশমত সে সতীশ কলুর কান মলে দিয়েছিল, হাতে নাডুগোপালের ইট তুলে দিয়েছিল। আজ সতীশ তার শোধ তুলে নিলে । তবুও তো সে সতীশকে আসল মাইনের চেয়ে কিছু বাড়িয়ে—বেশ কিছু বাড়িয়ে—বলেছে। পরের বাড়ীতে থাকা খাওয়া আর ত্রিশ টাকা মাইনে শুনলে সতীশ না জানি কি বলত । 轎 অনেক দিন না এলেও সে চিনতে পেরেছে, দূরের ওই বটগাছটা সোনাখালি-বাকসার কুঠিবাড়ীর বটগাছ। বেলা পড়ে এসেছে—সন্ধ্যে হবার দেরি নেই। সোনাখালিতে রাত্রে কারও বাড়ী থাকতে হবে। কিন্তু ও গ্রামে তদ্রলোকের বাড়ী বেশি নেই বলেই তাঁর জানা আছে । যা হক, একজনের কারও বাড়ীতে থাকার যোগাড় করতেই হবে। গ্রামে ঢুকে প্রথমেই তার নজরে পড়ল, রাস্তার বাদিকে যেখানে আগে বাশবন ছিল, এখন সেখানে একটা ছোট ঘর । বাইরে লেখা আছে—ইউনিয়ন বোর্ড দাতব্য চিকিৎসালয় । নতুন ব্যাপারটা ; এ গ্রামের ত্রিসীমানায় কোনদিন ভাষ্কারখানা ছিল না। একজন লোককে জিজ্ঞেস করে জানলে, একটু দূরে গিয়ে পুকুরপাড়ে যে খড়ের ঘর, সেটাই ডাক্তারবাবুর কোয়ার্টার্স। ডাক্তারবাবু ব্রাহ্মণ শুনে বিষ্ণু ভাবলে অন্য কোথাও আশ্রয় প্রার্থনা করার চেয়ে ওখানে যাওয়া ভাল। ডাক্তারবাবুর বাসা খুজে বের করতে দেরি হল না। বাইরেই ডাক্তারবাৰু বসে ছিলেন, হাত-কাটা ফতুয়া, ন-হাতি ধুতি পরনে। পাড়াগায়ের ইউনিয়ন বোর্ডের ডাক্তার, ওর চেয়ে কি ভাল বেশভূষা বা হবে। বিষ্ণুকে বললেন-কোথা থেকে আলছেন ?