পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/২৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উপলখও 8} হয়ে এসেছিল যার স্বতি-আজ এতদিন পরে সে এভাবে এত কাছে এসে পড়বে, এ কে ভেবেছিল ? ভাক্তারবাৰু এই সময় চা ও একটা বাটতে দুটি চিড়েভাজা নিয়ে ঘরে ঢুকে বললেন— একটু চা খান। আর এই সামান্ত কিছু মুখে দিন। পাড়াগ জায়গা, কি বা আছে ? নতুন পাটালি এনে দেব একটু ? ভাল পাটালি আছে। আমার স্ত্রী বললে, যদি খান, জিজ্ঞেস করে এস । বিষ্ণু হেসে বললে—আমাকে কি শহরে বাবু পেয়েছেন ? এ সময় খেজুরগুড়ের পাটালি তো দেবভোগ্য জিনিস—নিশ্চয় খাব। নন্দি বলেছে তাকে পাটালি দিতে । সে কি জানে, এতদিন পরে কে এসে তার বাড়ীতে অতিথি হয়েছে ? বিষ্ণুর মনে পড়ে অনেকদিন আগের বিকচোমুখ একটি রজনীগন্ধার ছড়ি, প্রভাতের সোনালি স্বর্যালোক এসে পড়েছে শিশিরসিক্ত আধফোটা কুঁড়ির ওপর । এমনিতর জ্যোৎস্নারাতে ধুতরোবেড়ে গ্রামে আজ ষোল-সতের বছর আগে বাড়জ্যে-বাড়ীর বেলতলার একটি কিশোরীর ছবি আবার মনে আসে । তার স্বপ্নের মায়াকাজল পর। ডাগর চোখের স্মৃতি হয়তো কিছু অস্পষ্ট হয়ে এসেছিল, কিন্তু আজ হঠাৎ এই সন্ধ্যায় সেগুলো এত স্পষ্ট হয়ে উঠল একেবারে এখানে এসে পড়েছে বলেই । একবার তার প্রবল আকাঙ্ক্ষা জাগল, ডাক্তারকে সে বলে—আপনি কালিদাস বঁাড় জ্যের মেয়ে নন্দিনীকে বিয়ে করেছেন বুঝি ? তখুনি ডাক্তার অবাক হয়ে বলবে—আপনি, আপনি চেনেন নাকি ? —হঁ্যা, আমি ওই গায়েরই ছেলে—মানে, ছিলাম— —ও বটে, বটে। মশায়ের নামটা কি? --বলুন গিয়ে ধুতরোবেড়ের বিষ্ণু ঘোষাল এসেছে বাইরে। নন্দি তখনি ছুটতে ছুটতে আসবে, কিশোরী নন্দিনী যেমন তার আসবার খবর পেলে বাড়ীর ভেতর থেকে ছুটে বাইরে আসত। e —বিষ্ণুদা ? —কি রে নন্দি, কেমন আছিস । —এতকাল পরে কোথা থেকে ? তুমি কি করছ, কেমন আছ ? গায়ে আর যাও না কেন ? 尊 —সেসব কথার উত্তর দিচ্ছি—তুই বোস আগে, কথা বলি। ষোল বছর পরে দেখা, একগাদা কথা জমে রয়েছে। —বল বিষ্ণু দা, সব শুনব । কতকাল তোমার সঙ্গে দেখা নেই। আগে তোমায় খাওয়াই, তার পর সারারাত বসে গল্প করব—কেমন তো ? কিন্তু এসব কি সত্যি হবে ? নন্দি কি এখনও সেই চঞ্চল তরুণী আছে, লঘুগতি হরিণীর মত জস্তব্যস্ত হবে তার পদক্ষেপ আজও ? কিংবা নন্দির মোতারমন্থর মনে সে ব্যাকুলত