পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S రి বিভূতি-রচনাবলী { দিয়েচে সকলের চেয়ে বেশি। আশা যদি আবার আজ ফিরে আসে—পুরোনো দিনের আশা হয়ে ফিরে আসে–সে নতুন মানুষ হয়ে যায় আজ এই মুহুর্তে। দশটি বছর বয়েস কমে যায় তার । যাক, আশার কথা আর ভাববে না । দিনরাত ঐ একই চিন্তা অসহ্য হয়ে উঠেচে । সে পাগল হয়ে যাবে নাকি ? হঠাৎ সে দেখলে হাউ হাউ করে র্কাদচে । একি ব্যাপার! ছিঃ ছিঃ—না:, সে সত্যিই পাগল হবে দেখচি ৷ যতীন কাঠের গুড়িটা থেকে তাড়াতাড়ি উঠে ব্যস্তভাবে পায়চারি করতে লাগলো। নিজেকে সে সংযত করে নিয়েচে — ৬ার সে ও কথাই ভাববে না । যে গিয়েচে ইচ্ছে করে যে চলে গিয়েচে, তাকে মন থেকে কেটে বাদ দিতে হবে—হবেই। কেটে বাদই দেবে সে । যতীন বাড়ী ফিরে এল । অন্ধকার বাড়ী, অন্ধকার দোর। ভাঙা তক্তাপোশের ওপর তার রাজশয্যা তো পাতাই আছে । সে কেউ ঝাড়েও না, পাতেও না, তোলেও না । অন্ধকারের মধ্যে শয্যায় দেহ প্রসারিত করে শোবার সময় একবার তার মনে হোল—সেই আশা কেমন করে এমন নিষ্ঠুর হতে পারলে ! সেই রাত্রেই যতীনের অাবার খুব জর হোল। হয়তো এতখানি পথ যাতায়াত করা, এত ঠাও লাগানো দুর্বল শরীরে তার উচিত হয় নি। পরদিন দুপুর পর্যন্ত সে অঘোর অচৈতন্য হয়ে পড়ে রইল-কেউ খোঁজখবর নিলে না। দুপুরের পর বোষ্টমদের বে ওদের উঠোনে তাদের পোষা ছাগল খুজতে এসে অত বেলা পর্যন্ত ঘরের দোর বন্ধ দেখে বাড়ী গিয়ে খবর দিলে । সে সকালের দিকে আরও দুবার এদিকে কি কাজে এসে দোর বন্ধ দেখে গিয়েছিল। বিকেলের দিকে সন্ধ্যার কিছু আগে তার জর কমলে সে নিজেই দোর খুললে। কিন্তু এক পাও বাইরে আসতে পারলে না। বিছানায় গিয়েই শুয়ে পড়লো। তৃষ্ণায় তার জিব শুকিয়ে গিয়েচে । কাছাকাছি কারো বাড়ী নেই যে, ডাকলে শুনতে পাবে। বেশি চেচানোরও শক্তি নেই । সকালে কেউ দেখতে এল না। এর একটা কারণ ছিল। যতীনের বাড়ী ইদানীং বড় একটা কেউ আসতো না। এক ছিলিম তামাকও যেখানে খেতে না পাওয়া যাবে, পাড়াগায়ে সে-সব জায়গায় লোক বড় যাতায়াত করে না। কাজেই দুদিন কেটে গেল, যতীনের ঘরের দোর বন্ধ রইল, কেন লোকটা দোর খুলছে না, এ দেখবার লোক জুটলো না। পরের দিন অনেক বেলায় বোষ্টম-বে। আবার ছাগল খুজতে এসে অত বেলায় যতীনের দোর বন্ধ দেখে ভাবলে—যতীন ঠাকুর কত বেলা পর্যন্ত ঘুমুচ্চে আজকে ---বেল দশটা বাজে এখনও সাড়াশব নেই! বেলা বারোটার সময় একবার কি ভেবে আবার এসে দেখলে তখনও দোর বন্ধ । ব্যাপারটা সে বুঝতে পারলে না। পাড়ার মধ্যে খবরটা বল্পে । পাড়ার দু-চারটা ষণ্ডাগুও গোছের যুবক এসে ডাকাডাকি করতে লাগলে । —ও যতীন-দা, এত বেলায় ঘুম কি, দোর খুলুন-ও যতীন-দা—