পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/২৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উপলখও ناوي একটু পরে একটি আট বছরের কালো-মত মেয়ের হাত ধরে ভৈরব বাড়ুজ্যে সেখানে নিয়ে এলেন । রাধামোহন বললে—এ খুঁকি তো নয়, এর দিদি !

  • ভৈরব বাড়জ্যে বললেন-এর দিদির তো বিয়ে হয়ে গিয়েছে। সে তো শ্বশুরবাড়ী আছে। তুমি তাকে দেখনি ।

—তবে আপনার বাড়ীর অন্য কোন মেয়ে— —আমার বাড়ীতে বাবাজি আর কোন মেয়ে নেই। তবে অন্ত কোন মেয়ে–কিন্তু না, আর কোন মেয়ে এ-পাড়ায় নেই ও-বয়সের । ছ ঘর তো মোটে ব্রাহ্মণের বাস । বয়স কত ? রাধামোহনের হঠাৎ মনে পড়ে গেল, বললে—ওর নাম বলেছিল লক্ষ্মী । —লক্ষ্মী ? সে আবার কে ? কই ও-নামের মেয়ে এ-গ্রামেই নেই। তোমার শুনতে-টুনতে ভুল হয়ে থাকবে বাবাজি । —শুনতে ভুল হতে পারে নামটা, কিন্তু সে খুকিটি কে ? সে তো আর ভুল হবে না । —কই বাবাজি, বুঝতে তো পারলাম না । ও-বয়সের ও-নামের মেয়ে আমাদের পাড়ায় কেউ নেই ঠিকই । রাধামোহন চিন্তিত মনে বিদায় নিলে । আশ্চর্য ব্যাপার, খুকিই বা আর দেখা করতে এল না কেন ? স্বগ্রাম থেকে ফেরবার দু বছর পরে রাধামোহন তার পিসির বাড়ী গিয়েছে জব্বলপুরে। সেখানে পুরনো এক ফোটাে-অ্যালবাম খুলে দেখতে দেখতে একটি মেয়ের ফটাে চোখে পড়ল। এই মেয়েটিকে সে যেন কোথায় দেখেছে। ঠিক মনে পড়ল না। পিসিমাকে ডেকে ফোটোটা দেখাতে তিনি বললেন—একে তুই দেখবি কোথায়! ও তো আমার ছোট বোন । তোর ছোট পিসি । বারো বছর বয়সে মারা যায়, তখন তুই কোথায় ? : তোর মার বিয়েই হয়নি। আমরা তখন সব আমাদের গায়ের বাড়ীতেই থাকি । তারপর পিসিমা কতকটা যেন আপনমনেই বললেন—আহ, একটু একটু মনে হয় ওকে। বেশ দেখতে ছিল । সে আজ চল্লিশ বছরের কথা । তারপর তোর বাবাও দেশ ছেড়ে মেদিনীপুর চলে এল। দেশের বাড়ীতে যাওয়াই হয়নি। বিয়ের পর আমি একবার মোটে গিয়েছিলাম, সেও আজ বিশ বছর আগের কথা। রাধামোহন অবাক হয়ে চেয়ে রইল অ্যালবামখানা হাতে করে। হঠাৎ মনে পড়াতে বললে —কি নাম ছিল ছোট পিসিমার ? পিসিমা উত্তর দিলেন—লক্ষ্মী । ,