পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/২৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ԳՀ বিভূতি-রচনাবলী হরিচরণ ব্রেসলেট-জোড়া ঘুরাইয়া ফিরাইয়া ভাল করিয়া দেখিল, তারপর বলিল—ত যদি হয় তাহলেও কিন্তু এর দাম তিনশ’ টাকার এক পয়সা বেশি নয় । , বীণাপাণি সন্দিগ্ধম্বরে বলিল—তুমি কি করে বুঝলে ? জেঠামশায় যে বললেন পাথরগুলোর দাম খুব বেশি ? হরিচরণ বলিল—ঐ রকমই হবে । তিনশ’ না হক, সাড়ে তিনশ-ই হল—তার বেশি আর কত হবে । আজকাল পাথরের দাম কি । আর পাথরেই তো সব জায়গা ছেয়ে ফেলেছে, সোনা আর ওতে কতটুকু আছে ! বীণাপাণির একথা বিশ্বাস হইল না। এক জোড়া অনন্ত গড়াইতে সে শুনিয়াছে পাচশ টাকার বেশি পড়ে, আর এক জোড়া দামী পাথর বসানো ব্রেসলেট যে তিনশ’ টাকায় হইবে, ইহা তাহার আদৌ সম্ভব বলিয়া মনে হইল না। রাত্রি বেশি হইবার ভয়ে বীণাপাণি খুব শীঘ্র শীঘ্ৰ খাবার প্রস্তুত করিয়া ফেলিল। তারপর জেঠামশায়কে ও স্বামীকে খাওয়াইয়া নিজে খাইয়া গুইতে গেল । o 緩 পরদিন ভোরে জেঠামশায় নীপুকে দেখিয়া অত্যস্ত আশ্চর্য হইলেন। সেদিনকার বীণু— তাহার ছেলে অত বড় হইয়াছে ! সমস্ত সকাল নীপুর সঙ্গছাড়া হইলেন না ; দুঃখ করিতে লাগিলেন, বীণুমার খোকা হইয়াছে জানিলে তিনি তাহার জন্ত একটা চেন গড়াইয়া আনিতেন। কলিকাতায় কৃষ্ণলালবাবুর জরুরী কাজ। দুপুরের ট্রেনে রওনা হইবার ইচ্ছা থাকিলেও, বীণাপাণির চোখের জল এড়াইতে না পারিয়া তিনি বৈকাল পর্যন্ত রহিয়া গেলেন । সন্ধ্যার পূর্বে হরিচরণ র্তাহাকে স্টেশনে পৌছাইয়া দিতে গেল । সাত-আট দিন হইয়া গেল । বীণাপাণি ব্রেসলেট-জোড়া মাত্র বৈকালে কিছুক্ষণের জন্য পরিত, অন্ত সময়ে বাসন মাজা, উঠান, বাট, রান্নাবান্না করা-ইহার মধ্যে কখন সে ব্রেসলেট পরে। ব্রেসলেট-জোড়া তাহার কাছে যেন নিত্য নূতন ঠেকিত । প্রদীপের মৃদু আলোয়, নীল-লাল-সবুজ আলো যখন ব্রেসলেটের গ৷ হইতে ঠিক্রাইয়া পড়িত, বীণাপাণি মুগ্ধদৃষ্টিতে তাহার দিকে চাহিয়া থাকিত। তাহার উজ্জল খামবর্ণ স্বগঠিত হাত দুটিতে ব্রেসলেট-জোড়াটি বড় স্বন্দর মানাইয়াছিল। হরিচরণ একদিন রাত্রে থাইতে বসিয়া বলিল—বোঁ, তোর হাতে বড় সুন্দর দেখাচ্ছে কিন্তু। বীণাপাণির মুখ লজ্জায় ও আনন্দে রাঙা হইয়া উঠিল। সাত-আট দিন পরে মাঘ মাসের মাঝামাঝি রায়-বাড়ীতে একটা বড় নিমন্ত্রণ উপস্থিত হইল। বীণাপাণির অনেক দিনের একখানা জরিপাড় কাপড় তোরঙ্গের ভিতর তোলা ছিল। নিমন্ত্রণ-আমন্ত্রণে এই কাপড়খানা সে বাহির করিয়া পরিত। হরিচরণ মুখে যতই আস্ফালন করুক, স্ত্রীকে ভাল কাপড় কিনিয়া দিবার ক্ষমতা তাহার ছিল না। অত্যন্ত পুরাতন হইলেও বীণাপাণি কাপড়খানাকে অতি যত্বের সহিত ব্যবহার করিত। এই নিমন্ত্রণে যাইবার সময়