পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/২৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ፃ8 বিভূতি-রচনাবলী না । যখন ফিরিয়া আসিল, তখন রাত অনেক । তাহার একইটু ধুলিকাদা, যেন অনেক রাস্ত স্থাটিয়া আসিয়াছে। হরিচরণ চুকিয়াই বলিল—ও, আজ যা ঘোরাঘুরি হল। সেই বেলা, দুটোর সময় তুমি নেমন্তম গেলেই বেরিয়েছি আর অনবরত ঘুরছি। তা তুমি এসেছ কখন ? বীণাপাণি স্বামীর কথা শুনিয়া হাসিয়া ফেলিল, বলিল—আহা, আমি বুঝি কিছু বুঝতে পারিনি, কচি খুকি কিনা! সে তুমি বের হয়ে গেলেই আমি ধরেছি। হরিচরণের মুখ হঠাৎ একেবারে কাগজের মত সাদা হইয়া গেল। একটু পরেই সে কথা বলিল বটে, কিন্তু সে যেন অনেক চেষ্টা করিয়া—কি বল দেখি ? সত্যি বলছি আমি তো বাড়ী ছিলাম না। আমি সেই দুটোর সময়েই চলে গেছি খাজনা আদায় করতে । তুই কিসের কথা বলছিস ? তাহার স্বরে লেশমাত্র কৌতুকের আভাস ছিল না । বীণাপাণি স্বামীর কথায় ও চোখমুখের ভাবে চিন্তিত হইল, বলিল—সেই ব্রেসলেটের বাক্স কোথায় গেল খুজে পাচ্ছি না। সন্ধ্যের আগে নেমস্তন্ন খেয়ে এসে দালানের ওপর রেখে গেলাম, তারপর ঘাট থেকে এসে দেখি আর নেই! তুমি সত্যি জান না ? না, জান । সত্যি সত্যি বল লক্ষ্মীটি ! হরিচরণ লাফাইয়া উঠিল--অ্যা, বল কি ! ব্রেসলেটের বাক্স পাওয়া যাচ্ছে না ? কি সর্বনাশ ! অ্যা ! সে যে অনেক টাকার জিনিস। আমি কি করে জানব বল, আমি তো এখানে ছিলাম না। আমি কি মিথ্যে বলছি ! সেই দুটোর সময় বেরিয়ে গিয়েছি—আমি তে কিছুই জানি না । বীণাপাণি স্বামীর কথা শুনিয়া বুদ্ধি হারাইল । সঙ্গে সঙ্গে তাহার মনে হইল—বেলা দুইটার সময় বাহির হইয়া যাওয়ার কথাটা । স্বামী এত জোর করিয়া বলিতেছেন কেন ? সে যে র্তাহাকে সন্ধ্যার পর বেড়ার পাশে গাবতলায় বসিয়া কঞ্চি কাটিতে দেখিয়াছে । স্বামীর আস্ফালন ও বিস্ময়ের মধ্যে একটা মিথ্যার ধ্বনি তাহার কানে আসিয়া যেন বাজিতে লাগিল। হরিচরণ অত্যন্ত চীৎকার করিয়া হাত-পা নাড়িয়া বলিতে লাগিল—বল কি ! সে তো একজাৰ টাকার জিনিস নয় ; তুমিই বা সেটাকে ফেলে অমন করে যাও কেন ? যায়—সর্বনাশ হয়ে গেল। ভাল করে ঘরদোর খুজেছ ? চল দেখি, আমি একবার খুজে দেখি । ওসব মেয়েলি খোজুর কাজ নয়—যাবে কোথায়, ঘরেই কোথাও পড়ে আছে । বীণাপাণি দালানের মেঝেতে বসিয়া পড়িল। একটা নূতন রকমের ভয় তাহার মনের মধ্যে দেখা দিল । স্বামী মিথ্যা কথা বলিতেছে কেন ? বীণাপাণি কখনও স্বামীকে অবিশ্বাস করে নাই—স্বামীর কথা এবারও সে অবিশ্বাস করিত না, যদি সে সন্ধ্যার সময় তাহাকে না দেখিত। বুদ্ধির দিক হইতে না হইলেও তাহার নারী-হৃদয়ের অনুভূতিশক্তি কেমন করিয়া বুঝির ফেলিল, স্বামী প্রতারণা করিতেছে। তাহার ভয়টা অস্পষ্ট রকমের । কিসের জন্য এ ভয় তাহা সে বুঝিল না। ব্রেসলেট তো