পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিধু মাষ্টার సి চিঠিগুলো পড়ে দেখবার ইচ্ছে হল প্রতুলের, কে লিখেছে, মেয়ে না পুরুষ। শেষ পৰ্য্যন্ত সে ইচ্ছা সে দমন করলে। দরকার নেই পরের চিঠি পডবার। ওটা অন্তায় । সারা দিনরাত কেটে গেল বটে, কিন্তু প্রতুলের মন থেকে মেয়েটির চিন্তা কিছুতেই যেঙে চায় না। ষত সে অন্যদিকে মন দেবার চেষ্টা করে ততই সেই একই চিন্তা—সেই বালুরঘাটের মেয়ে, তার সুটকেস । পরদিন সে মেয়েটিকে একখানা চিঠি দিলে । ‘মাননীয়াসু’ পাঠ ব্যবহার করে সে সুটকেস বদলের সব অবস্থা খুলে জানালে। স্বটকেসের মধ্যে যা যা ছিল, গহনা টাকা বস্থাদির একটা তালিকাও দিলে চিঠিতে। অনিচ্ছাকৃত ক্রটির জন্ত মার্জনাভিক্ষাও বাদ গেল না। সে যে কি ভীষণ লজ্জিত ও দুঃখিত হয়েছে এজন্তে, অন্তত তিনবার সেকথা লিখলে তিন জায়গায়। তার নিজের সুটকেসটি কি ওখানে আছে ? চিঠি ডাকে দিয়ে স্থা তিন দিন দুরু দুরু বক্ষে উত্তরের প্রতীক্ষায় রইল প্রতুল। না জানি কি উত্তর আসে, খুব রাগ করে কি চিঠি লিখবে? পুলিসে খবর দেবার ভয়-টয় দেখিয়ে ? নয় দিনের দিন উত্তর এল — মাস্তবরেষু, মহাশয়ের পত্রে অবগত হইলাম, হিলি স্টেশনে মোটর হইতে নামিবার সময় আমার ভাগিনেয়ী শ্ৰীমতী অমিয়ার মুটকেসটি ভ্রমক্রমে আপনার সহিত বদল হইয়া গিয়াছে। আপনার সুটকেসটিও আমার ভাগিনেয়ীর সহিত আসিয়াছে। জিনিসপত্রাদির কথা যাহা উল্লেখ করিয়াছেন, সুটকেসের মধ্যে উহার অতিরিক্ত কিছুই ছিল না। মহাশয় ভদ্রলোক, আপনাকে এই অসুবিধায় ফেলিবার নিমিত্ত আমার ভাগিনেয়ী যথেষ্ট লজ্জিত, তাহার পক্ষ হইতে আমিও আপনার নিকট বার বার ক্রটি স্বীকার করিতেছি। বাক্সটি ইনসিওর্ড আনপেড রেলওয়ে পাসেলে পাঠাইয়া দিবেন। আপনার মুটকেসটিও সেইভাবে পাঠাইব । রেলের রসিদট উপরের ঠিকানায় পাঠাইয়া বাধিত করিবেন। e বিনীত শ্ৰীভবতারণ চক্রবর্তী পত্র পেয়ে প্রতুলের বে কিছু আশা-ভঙ্গ না হয়েছিল এমন নয়। প্রথম তো এ মেয়েটি যে কোনটি, তা কিছুই বোঝা গেল না। বালুরঘাটের সেই মেয়েটিই যে এই অমিয়া মজুমদার, তার কোন প্রমাণ নেই। চিঠি একখানা মেয়েটির কাছ থেকে আসবে এমন আশা করা নিতাস্ত অসংগত ছিল না, কোথা থেকে আবার মেয়ের মামা শ্ৰীভবতারণ চক্রবর্তী এসে জুটল মাঝখানে । তবে মামা থাকাতে একটা ব্যাপার খানিকট পরিষ্কার হয়ে গেল, মেয়েটি ব্রাহ্মণ। সেও ব্রাহ্মণ। তাতে অবিপ্তি এমন কিছু সুবিধে যে কি, প্রতুল ভাল করে যখন ভাবলে, তখন বুঝেই পেল না ।