পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৬ বিভূতি-রচনাবলী ক্লাসের ভাল ছাত্রী, তাহার কথাবাৰ্ত্ত হইতে এতটুকু তাহা বুঝিবার উপায় নাই। আমাকে বলিল—মিঃ রায়, একটা বাংলা গান করুন না ? , আমি গান গাহিতে ভালই পারিতাম। এখন চর্চার অভাবে গলায় মুর নাই—সে আপত্তি বলা বাহুল্য টিকিল না, পর পর তিনটি রবীন্দ্রনাথের গান গাহিতে হইল। বাঙালী-সলাজ নয়, বিশেষত কলিকাতা হইতে বহুদূরে, কাজেই ভুল ধরিবার কেহ নাই—বেপরোয় হইয়া গাহিলাম। প্রশংসাও অর্জন করিলাম মূলো ও মিস সোরাবজির কাছে। মূলো বলিল—ওয়াণ্ডারফুল। এমন গান যে আপনি গাইতে পারেন, তা জানতাম না বাস্তবিক । Įs মিস সোবাবজি বলিল—টাগোরের কবিতা মুখস্থ আছে। -छू-५कछेH—আবৃত্তি করুন না! আমাদের কলেজে মিঃ সেনের মেয়ে একবার করেছিল, বন্ড ভাল লেগেছিল আমার । 尊 ‘জীবনদেবতা’ কবিতাটি মুখস্থ ছিল ভাল, আমার মুখে শুনিয়া মিস সোরাবজি উচ্ছ্বসিত স্বরে বলিল—ভারি মুন্দর ৷ তাহার পর সে তাহাব শুভ্র গ্রীবাটি জুলাইয়া আবদারের সুরে বলিল—মিঃ রায়, আর একটা আবৃত্তি করবেন দয়া করে ? —আগে আপনি একটা ইংরেজি আবৃত্তি করুন! —করবেন তাহলে ? মিস সোরাবজির খড়েগর মত সুক্ষ্ম ও উগ্ৰ নাসিকাকে ক্ষমা করিলাম, মেয়েটি অত্যন্ত চালবিহীন ও অমায়িক, তখনই সে ব্রাউনিঙের বৈয়ংকরণের শবযাত্রা’ নামে বিখ্যাত কবিতাটি সুন্দরভাবে আবৃত্তি করিয়া আমাদের মুগ্ধ করিল। পুনরায় আমাকে একটি রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি কবিতে হইল। এবার হাত-মুখ নাড়িয়া শিশির ভাদুড়ীর অনুকরণে বন্দীবীর আবৃত্তি করিয়া ইংরেজিতে ভাবাৰ্থ বুঝাইয়া দিলাম। পূর্বের কবিতাটি অপেক্ষ এইটিই মিস সোরাবজির বেশি ভাল লাগিয়াছে, তাহ ভাঁহার কথার স্বরে ও চোখ-মুখের ভাবে আমার বুঝিতে দেরি হইল না। আমায় বলিল—দেখুন রায়, টাগোরের কবিতার ইংরিজি অনুবাদ পডেছি কিন্তু বাংলা ভাষাব ধ্বনি আর ঝংকারের মধ্য দিয়ে যে ওসব কবিতা এমন চমৎকার শোনায়, তা আমি আজ এই প্রথম জানলাম। এর আগে একবার বাংলা আবৃত্তি শুনেছিলাম কলেজে, সে তেমন কিছু নয়। আমার বাংলা শেখার বড় ইচ্ছে, কি করে শেখা যায় বলতে পারেন ? 象 g মুলো দেখিলাম খুব খুশী হইয়াছে--কবিতা শুনিয়া নয়, কারণ সে স্বল্প রসবোধ তাহার ছিল না—বাংলা কবিতা ও প্রকারাস্তরে বাঙালীর প্রশংসা করা হইতেছে, এইজন্য। লোকটা অন্ধ বাঙালীভক্ত । বলিল—জালু, তুমি মি৯রায়ের কাছে কেন বাংলা শেখ না ? বেশ ভাল হবে—