পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२b' বিভূতি-রচনাবলী বেলা তিনটার সময় আমাদের মোটর নাগপুর হইতে ফিরিয়া গোরেওয়ারার ওপারে আসিয়া ভেপু দিল। সকালে পৌছাইরা দিয়া গাড়ী ছখান চলিয়া গিয়াছিল। আমরা যাওয়ার উদ্যোগ রুরিতে মিস সোরাবজি বলিল—স্বৰ্য্যাস্তটা দেখে যাবেন না ? —ওদিকে দেরি হয়ে যাবে ফিরতে—আপনার বাবা কি ব্যস্ত হয়ে উঠবেন না ? —কিছু না মিঃ রায়, ভাববেন না। আমি বলে এসেছি—আমি ওই পাথরের ওপার থেকে দেখব স্বৰ্য্যাস্তটা। তুমি এস না শুকরাম। —যেমন ইচ্ছে আপনার । শীগগির আসবেন । অদ্ভুত স্বৰ্য্যাস্ত । এখানে আসিয়া অবধি হাইল্যাণ্ড ড্রাইভ হইতে সাতপুর শৈলমালার দিকে প্রায়ই দেখিতেছি। সন্ধ্যার ছায়া নামে, আমি সামান্ত শৈত্যের জন্য গরম আলোয়ান ভাল করিয়া গায়ে টানিয়া দিই, হাইল্যাণ্ড ড্রাইভে সাহেব মেমদের মোটরের ভিড় বাড়ে, আম্বাসিরি লেকে পার্কে দলে দলে সুসজ্জিতা নরনারীর বেড়াইতে আসিতে আরম্ভ করে, আমি বড় একটা শাল গাছের তলায় নির্জনে প্রস্তরখণ্ডে বসিয়া দেখি ধীরে ধীরে সাতপুর শৈলশ্রেণীর আড়ালে লাল সুৰ্য্যট নামিয়া পড়িতেছে। আজও দেখিলাম। গোরেওয়ারা হ্রদের বিস্তীর্ণ জলরাশি যেন আবীর-গোল টকটকে লাল । যেমন স্বৰ্য্য অস্ত গেল, অমনি চারিধারে ঘনছায়া নামিল, মোটর ছুখানা অধীর ভাবে ভেপু বাজাইতে লাগিল, বাজুড়ের দল পাহাড়ের দিকে ফিরিতে লাগিল, ক্রমে ছায়া ঘন হইয়া অন্ধকার নামিল । নবীনদা বলিলেন,—কই, মিস সোরাবজি কোথায় ? —এই তো ছিল, সুৰ্য্যাস্ত ভাল দেখা যাবে বলে পাথরটার ওপারে গিয়াছে বোধ হয় । এমন সময় মুলোর সঙ্গে মিস সোরাবজি পাথরের ওপাশের ঘাট থেকে উঠিয়া আসিল। উভয়েই স্নান করিয়া আসিল এই অবেলায়, দেখিয়া আশ্চৰ্য্য হইলাম। মূলে কৈফিয়তের স্বরে বলিল—বড় গরম, তাই জালু বললে, বেশ স্নান করা গেল । নবীনদা বাংলায় বললেন—তার পর তোমার জালুর নিউমোনিয়া হলে তার বাবা দেখে নেবে তোমাকে—মূলোগিরি খাটবে না তখন— মূলে বললে—কি ? আমি উত্তর দিলাম, জালু নামটা বড় চমৎকার! মিঃ বোসের মতে। অবশু আমারও সেই মত । o মিস সোরাবজি সলজ হাসিয়া মেমসাহেবী স্বরে বলিল—ও, ইউ হরিড ক্রিচারস্! আমরা গাড়ীতে উঠিয়া চলিলাম। সাউথ টাইগার গ্যাস রোডের কিছু পূৰ্ব্বে পাহাড়ী ঢালুতে অনেক বনশিউলি ফুল ফুটিয়া” আছে দেখিয়া মেয়েটি বলিল—ও মিঃ রায়, কি চমৎকার ফুল ফুটেছে! শেফালি—না ? মোটর থামাইয়া মূলে গোটাকয়েক ডাল ভাঙিয়া আনিল। তথন সন্ধ্যা হইয়াছে, জ্যোৎস্নার ক্ষীপ লেশ মাটির বুকে । সাউথ টাইগার গ্যাস রোডের এদিকটা নির্জন, এ সময় খুব বেশি লোকজন নাই। হঠাৎ মেয়েটি বলিল-চলুন, আম্বাসিরি লেক দেখে আসি ।