পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


विधू भागैब्रि ද්ද් --ই্যা । ওরা দাদাকে দলে নিয়েছে। শুনিয়া মনের মধ্যে একটা কৌতুহল ও উত্তেজনা অনুভব করিলাম। অ্যানার্কিস্টদের সঙ্গে এক বাসায় আছি ভাবিয়া ভয়ও হইল। • . এইখানে একদিন প্রথম দেখিলাম স্বলোচনার মাকে । নিজের ঘরটিতে বসিয়া পড়িতেছি, একটি প্রৌঢ় বিধবা স্ত্রীলোক ঘরে ঢুকিয়া আমায় জিজ্ঞাসা করিল-প্রকাশ এখানে কবে এসেছিল ? আজি আসবার কথা আছে ? দেখিলাম স্ত্রীলোকটির পরনে সাদা থান, বয়স পয়ত্রিশ-ছত্রিশের বেশি নয়, গায়ের রং খুব ধপধপে ফরস, বয়স, হইলেও মুখশ্ৰী দেখিতে ভাল। আমার মুখে প্রকাশবাবুর আসিবার সম্ভাবনা আছে শুনিয়া আমারই ঘরে সে বসিল । আমায় বলিল—তুমি কি কর ছেলে ? —পড়ি ফাস্ট ইয়াবে। —এটা তোমাদেব বাড়ী ? —আমার বন্ধুর বাউ.আমি এখানে থাকি। বাড়ীতে মেয়ের আছেন—লুন না বাড়ীর মধ্যে, এখানে কেন বসে থাকবেন ? এই ভাবে স্বলোচনার মার সঙ্গে বাড়ীর মেয়েদেরও আলাপ হইয়া গেল । স্বলোচনার মা কিন্তু প্রকাশদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা ছাড অন্ত কার্য্যে কখনও আসে না, একদিন আমার এ কথা মনে হইল। বাড়ীর মধ্যে মেয়েরাও এ-কথা বলিতে শুরু করিল। স্ত্রীলোকটি যে প্রকাশবাবুব কাছে টাকা লইতে আসে, তাহাও সকলে জানিয়া গেল। ক্রমে আমাদের সামনেই সে প্রকাশবাবুকে বলিত—ও প্রকাশ, বাবা এমাসে আর দশটা টাকা না দিলে মেয়ের বই হবে না। ক্লাসে তাকে বকে, বই না কিনে ইস্কুলে যাবে কি করে ? আমার বন্ধুকে একদিন বলিলাম—ওঁর মেয়ে আছে তা তো এতদিন শুনিনি। ওঁর। প্রকাশদার কেউ হন ? প্রকাশদা টাকা দেন কেন ওঁদের ? বন্ধু বলিল—জানি ওঁব এক মেয়ে এখানে স্কুলে পডে। আমি শুনেছি মেয়েটি সধবা, কিন্তু তার স্বামীর কাছে থাকে না। মা ও মেয়ে কোথায় যেন বাসা কবে থাকে, প্রকাশদ আর সতীশদা দুজনে খরচ দেন। দাদা এসব গল্প সেদিন মার কাছে করেছিল। —ত প্রকাশদা আর সতীশদ টাকা দেন কেন ? —ওঁরা অ্যানার্কিস্ট কিনা, দেশের আর দশের সেবা ওঁদের কাজ, বিশেষ করে প্রকাশদার। দাদা বলে, প্রকাশদ বাড়ী থেকে যে টাকা পান, তার বেশির ভাগ ख्नई দিয়ে দেন, নিজে অনেক সময় টাকা ধার করতে আসেন দাদার কাছে। দুটো টিউশনি করেন, সে-টাকাও ওয়ের দিয়ে দেন। 影 আমার ক্রমে মনে হইল বুড়ী প্রকাশনার কাছে নানা রকম ফন্দি ও ছুতায় টাকা আদায় করিতে আসে। আর সব সময়েই মেয়ের অজুহাতে। আজ আমার মেয়ের এ নাই, আজ আমার মেয়ের তা নাই, একটা না একটা ছুত বুড়ীর লাগিয়াই আছে। প্রকাশদাও যেন কল্পতরু, না বলিতে শুনিলাম না কোনদিন । বুড়ীর উপর হাড়ে হাডে চটিয়া গেলাম।