পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিধু মাষ্টার ు এখানে আসা কেহ কল্পনাও করিতে পারিত না । আর একটা জিনিস লক্ষ্য করিতাম। সতীশদার প্রতি মুলোচনা যৈন তেমন সন্তুষ্ট নয়, অথচ সতীশদা মুলোচনা বলিতে অজ্ঞান ছিলেন। আমার বন্ধু শরৎ বলিত মুলোচনাদের কলিকাতার বাসাভাডা ও বাসার সমস্ত খরচ নাকি সতীশদ দিতেন। কিন্তু স্বলোচনা সতীশদাকে কেন যে দেখিতে পারিত না তাহা কি করিয়া বলিব ? একদিনের কথা বলি। সেদিন সতীশদা আসিবার কিছু পরে মুলোচনা তাহার মায়ের সঙ্গে আসিয়া হাজির , স্বলোচনার মা বলিল—সতীশ, আমাকে দক্ষিণেশ্বরে ঘুরিয়ে আনবে বাবা ? স্বলোচনাও বলিল—ই মামা (সতীশবাবুকে স্বলোচনা মামা বলিয়াই ডাকিত ), চল আমিও যাব । সতীশদা হাতে যেন স্বৰ্গ পাইয়াছেন, তাহার চোখমুখের খুশির ভাব দেখিয় তাহাই মনে হইল। উৎসাহের সহিত বলিলেন—ই ই । বরং চল দক্ষিণেশ্বব থেকে আমরা বরানগরে স্বামী অবধূতানদেব আশ্রম দেখে আসব—সেও বড় চমৎকার জায়গা গঙ্গার ধারে। সুলোচনাব মা বলিলেন—তাহলে অমনি পেনেটির দ্বাদশ শিবের মন্দিরও দেখে আসি চল না ? স্বলোচনাও বলিল—বডড মজা হয় মামা। একখানা গাড়ী ডাক । সতীশদী গাড়ী ডাকিতে গিয়াছেন, এমন সময় প্রকাশদা আসিয়া পডিলেন। মুলোচনা তাহাকে অনেক অনুরোধ করিল তাহদের সঙ্গে যাইবার জন্ত । তিনি কেন যাইতে চাহিলেন না তাহা আমি জানি না, সঙ্গে সঙ্গে স্বলোচনাও তাহার মাকে বলিল—সে কোথাও যাইবে না, মায়ের ইচ্ছা থাকিলে তিনি একাই যাইতে পারেন। সতীশদৗ ইতিমধ্যে গাড়ী আনিয়া উপস্থিত করিলেন কিন্তু ঘটনার নূতন পরিস্থিতি দেখিয়া বড় 'নিরুৎসাহ হইয়া পড়িলেন। প্রকাশদও স্বলোচনাকে যাইবার জন্য যথেষ্ট বলিলেন, এমন কি শেষে রাগও করিলেন, সুলোচনা কিন্তু কিছুতেই গেল না। অবশেষে বেচারী সতীশদার শুধু মুলোচনার মাকে লইয়াই যাইতে হইল। অবশ্য আমার বন্ধুর বাড়ীর মেয়ের কেউ কেউ সঙ্গে গেলেন—এতগুলি মেয়ে গেল, তবুও স্বলোচনা এক পাও নড়িতে চাহিল না। বছর দুই এইভাবে নানা মুখদুঃখের ঘটনার মধ্য দিয়া কাটিয়া পরে ১৯০৮ সালে আমাদের বাসা উঠিয়া গেল। আমি কলেজের হোস্টেলে আশ্রয় লইলাম। স্বলোচনাদের সহিত সম্পর্ক ঘুচিয়া গেল। আমার ছাত্রজীবনের বাকি বৎসবগুলির মধ্যে স্বলোচনা বা তাহার মায়ের সঙ্গে চোখের দেখাও নাই একদিনের জন্ত। সতীশদাকেও আর কখনও দেখি নাই। ইহাদের না দেখিবার কারণও যথেষ্ট ছিল, পুলিশের চাপেই বাসা উঠাইতে হইয়াছিল । তবে প্রকাশদার সম্বন্ধে বিশেষ ঘটনা এই যে আমার ছাত্রজীবনের তৃতীয় বৎসরে প্রকাশদ অদ্ভূত ভাবে নিরুদেশ হইয়া গেলেন। আর কেহ কোনদিন তাহাকে দেখে নাই ; পূর্ববঙ্গের কোথায় স্বদেশী ডাকাতি করিতে গিয়া পুলিশের গুলিতে মারা পড়িয়াছেন, কয়েক বছর পরে বিশ্বস্তসূত্রে একথা শুনিয়ছিলাম। o