পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিধু মাষ্টার 8X —মামা ? মামা বিয়েথা করে দেশে দিব্যি সংসারী হয়ে বসেছে। তার মত মাকুধে আর এর বেশি কি করবে। প্রকাশদার মত কি সবাই ? 蔓 গাড়ী ছাড়িবার ঘণ্টা দিল । স্বলোচনা বিস্ময়ের সুরে বলিল—সত্যি, আসবে না নাকি যদু-দা ? এস বল । বলিয়া আমার হাত ধরিতে গেল । কিন্তু আমার যাওয়া হইল না। যাইবার প্রবৃত্তি হইল না। তা ছাড়া সেই রাত্রেই আমাকে কৰ্ম্মস্থানে ফিরিতে হইবে—স্বলোচনার সঙ্গে গেলে ট্রেন ফেল করি। চাকরি বজায় রাখিয়া তবে অল্প কথা । তখন কি জানি সুলোচনার সহিত এই শেষ দেখা ! সতের-আঠার বৎসর পূর্বের কথা এ-সব। স্বলোচনার মা পার্কে আসিল । তাহাকে বাড়ীভাড়ার টাকা মিটাইয়া দিয়া বলিলাম—এখন বলুন তো, আমি অনেক কথাই জানতাম না আপনাদের সম্বন্ধে। যা জানি, ভাসা-ভাসা ভাবে জানি। সবটা বলুন। বেলা পড়িয়া আসিয়াছিল। পার্কে ছেলেমেয়েরা দোলনায় দুলিতেছে, চেঁচামেচি করিতেছে, ঘুগনি চানাচুর কিনিতেছে। স্বলোচনার মায়ের নিকট হইতে নানারূপ জেরা করিয়া যে তথ্যটি উদ্ধার করিয়াছিলাম সেদিন, তাহ যেমন করুণ, জীবনের গভীর অনুভূতির দিক হইতেও তেমনই অপূৰ্ব্ব । কিন্তু বৃদ্ধার কথায় বলিলে ঠিকমত গুছাইয়া বলা হইবে না। তাই নিজে খানিকটা গুছাইয়া বলিবার চেষ্টা করিলাম।— ওদের বাড়ী বৰ্দ্ধমান জেলায়। মুলোচনার যখন আট বছর বয়স, তখন ওর বিবাহ হয় পাশের গ্রামে। স্বামীর বয়স তখন ত্রিশ-বত্রিশ, স্বামীর চেহারা ভাল ছিল না বলিয়া ছেলেমানুষ মেয়ে তার কাছে বড় একটা যাইতে চাহিত না। স্বামী ছিল মূখ ও গোয়ার প্রকৃতির লোক, আট বছরের স্ত্রীর উপর মারধোর ও নানা রকম অত্যাচার শুরু করে। ফলে ওর মা দেশের জায়গা জমি বিক্রয় করিয়া মেয়ের হাত ধরিয়া কলিকাতায় আসিল—তখন মেলোচনার বয়স দশ বৎসর। উদেখ, মেয়েকে লেখাপড়া শিখাইয়া স্বাধীন ভাবে থাকিবার কোন সুবিধা করিয়া দিবে। কিন্তু তখনকার কালে মেয়েদের লেখাপড় শেখা বা স্বাধীন জীবিক উপার্জন প্রভৃতিকে লোকে ভাল চোখে দেখিত না । মা মেয়ের হাত ধরিয়া নানা জায়গায় বেড়াইল । হাতের পয়সা সম্পূর্ণ নিঃশেষ হইয়া গেল—কিন্তু বিশেষ কোন সুবিধা হইল না। এদিকে আরও নূতন উপসর্গ, মেয়ে অপূৰ্ব্ব রূপসী, দশ বছরের হইলে কি হয়, তাহার্কে দেখায় তের-চোঁদ বছরের