পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৪২ বিভূতি-রচনাবলী মত—দুষ্ট লোকের চোখ পড়িল মেয়ের উপর। একদিন সন্ধ্যাবেল বাড়ী ফিরিয়া মা মেয়েকে বলিল—চল আজ গঙ্গায় ডুবে মরব দ্বজনে— ঐখানে আর কোনও মুবিধে নেই—এবার মান যাবে। গরিবের কেউ নেই। মেয়ে তৎক্ষণাৎ রাজী হইল । রাত নটার সময় মেয়ে বলিল—কখন আমরা ডুবব মা? অন্নপূর্ণার ঘাটে চল যাই । মা বলিল—এখনও সব ঘাটে লোক। এখন না, দেরি কর— রাত দশটার সময় মা মেয়ের হাত ধরিয়া বাগবাজারের অন্নপূর্ণার, ঘাটে সিড়ি দিয়া নামিতে নামিতে চুপিচুপি জিজ্ঞাসা করিতেছে—ই রে, পারবি তো ? বল আগে থেকে, পারবি তো ? মেয়ে এতটুকু ভয় খায় নাই। সে দৃঢ়কণ্ঠে বলিল—তুমি সঙ্গে থাকলে মা ঠিক পারব। সেই সময় যামিনী ঘোষ বলিয়া একটি ছোকরা, আপিসের কেরানী, ঘাটের কাছেই কোথায় বসিয়া হাওয়া খাইতেছিল। সে আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল—আপনার এত রাত্রে এখানে কেন ? আর ব্যাপারই বা কি ? কি বলাবলি করছেন আপনার ? বাসা কোথায় আপনাদের ? যামিনী ঘোষের প্রশ্নের স্বরে বালিকা থতমত খাইয়া কাদিয়া ফেলিল। মা সব খুলিয়া বলাতে সে-রাত্রে যামিনী মা ও মেয়েকে নিজের বাসায় লইয়া গেল। দিন পনের কাটিল মন্দ নয়। যামিনী ছেলেটি খুব ভাল, কিন্তু ইহার এক বন্ধু সম্ভবত যামিনীর মুখে ইহাদের ইতিহাস শুনিয়া একবার দেখিতে আসিল । সেই যে আসিল, আর সে বাড়ী ছাড়িতে চায় না। তার আসা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপারের মধ্যে দাড়াইয়া গেল । সুলোচনাও সকলের সামনে চিরকাল বাহির হয়, তখন তো আরও ছেলেমানুষ। ছোকরা মাথার পিছন দিকে চুল ফিরাইত বলিয়া স্বলোচনা আড়ালে মার কাছে তাহার নাম রাখিয়াছিল—কাকাতুয়া। একদিন মেয়ে মাকে বলিল—ম, কাকাতুয়া ভারি দুষ্ট, আমাকে গহনার বাক্স দেখিয়ে বলে কিনা—আমার সঙ্গে যাবি ? তোকে এই সব গহনা দেব —আমি ওর সামনে আর বেরব না। মা বলিল,—হতচ্ছাড়া মেয়ে, তুই বা যাস কেন সকলের সামনে ? বাড়ীর মধ্যে থাকবি, যার-তার সামনে বৈরনো, গল্প করা কি ভাল ? আমরা গরিব লোক, আমাদের কত বিপদ জানিস ? • যামিনীর আর এক বন্ধু ছিল, সতীশ রায়। সতীশ মু ও মেয়ের ছখ শুনিয়া তাহদের, নিজের বাসায় লইয়া আশ্রয় দিল বটে কিন্তু দিনকতক পরে সেখানেও গোলযোগ বাধিল । সতীশ মুলোচনাকে দেখিয়া পাগল হইল। এমন কি, সতীশের মা মুলোচনা বিবাহিত জানিয়াও ছেলের সহিত তাহার বিবাহের প্রস্তাব করিলেন ; মুলোচনার মায়েরও অনিচ্ছা ছিল মা, কিন্তু মুলোচনা একেবারে বাকিয়া বসিল । মাকে বলিল—মেয়েমানুষের ক-বার বিয়ে হয় ? তোমাদের সব মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে—আমায় আর লেখাপড় শেখাতে