পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিধু মাষ্টার 8AL হবে না তোমায়—তুমি আমাকে আমার শ্বশুরবাড়ী রেখে এস, সেখানে বাচি আর মরি। ঢের হয়েছে । এখানে এই সময় একদিন আসিলেন প্রকাশদ । প্রকাশদা সতীশের বন্ধু এবং ছাত্রমহলে নাম-করা স্বদেশী। অ্যানার্কিস্ট বলিয়া খ্যাতিও তাহার ষথেষ্ট রটিয়াছে তখন পুলিশের কৃপায়। প্রকাশদ। স্বলোচনাব ইতিহাস সব শুনিলেন এবং প্রধানত র্তাহারই চেষ্টায় মুলোচনা বেথুন স্কুলে ভৰ্ত্তি হইল। প্রকাশদা মাঝে মাঝে র্তাহার পড়াশুনার তত্ত্বাবধান করিতে আসিতেন। এদিকে সতীশ বড় বিবক্ত করিয়া তুলিল । একই বাউীতে থাক, সৰ্ব্বদা দেখা সাক্ষাৎ, সামনে না আসিয়া উপায় নাই। নানারকম দামী জিনিসপত্র কিনিয়া দি৩ে আরম্ভ করিল— সেন্ট, সাবান, কাপড-জামা ইত্যাদি। স্বলোচনা বলিল—মাম, এসব কেন দিস ? তুষ্ট বড় স্বার্থপব । এ-সব আমি নেব না । • মাকে বলিত—ম, জীনেক মানুষ দেখলাম এ বয়সে, প্রকাশদব মত মানুষ এ পর্য্যস্ত আর দেখি নি। অন্ত ধাতেব একেবারে । উনি মানুষ না দেবতা তাই ভাবি । সতীশ দিত দামী দামী কাপড়, একবার পূজায় একখানা ভাল বেনারসী শাড়ী দিল । প্রকাশদ দিলেন একজোডা মোটা স্বদেশী তাতের শাড়ী। স্বলোচনার কি আহলাদ প্রকাশদাব দেওয়া সেট মোট শাড়ী পরিয়া । সতীশদাব দেওয়া ভাল শাড়ী সে কদাচিৎ ব্যবহার করিত, কিন্তু মোট তাতের শাড়ী দুখানা পরিয়া রোজ স্কুলে যাইত । একদিন সে প্রকাশদাকে সতীশের ব্যবহার সব খুলিয়া বলিল। প্রকােশদা বলিলেন— এখানে তোমাদের আর থাকা উচিত না । তোমার লেখাপড এখানে থাকলে কিছু হবে না, অন্ত জাযগায় বাসা কর, খরচ যা হয় আমি তার ব্যবস্থা করব । মুলোচনার এক দূরসম্পর্কের ভগ্নীপতি কানাই ধরেব গলিতে সস্ত্রীক বাসা কবিয়া থাকিত । মুলোচনারা সেই বাসায় উঠিয়া আসিল । আসিবাব সময় মুলেচন প্রকাশদীর দেওয়া মোট শাড়ী পরিয়া, সতীশের দেওয়া দামী কাপড জামা সেখানেই রাখিয়া আসিল । সতীশ এই ব্যাপারে দিনকতক নিজেকে অত্যন্ত অপমানিত বিবেচনা কবিয়া প্রকাশদাব সঙ্গে পর্য্যন্ত দেখাসাক্ষাৎ ছাডিয়া দিল। মা মেয়েকে বলিল—কেন সতীশকে আমন কবে চটিয়ে দিলি ? ওর মনে কষ্ট দেওয়া হল না ? o মুলোচনা বলিল—কষ্ট না পেলে মামার জ্ঞান হবে না মা । তা ছাড, দেখছ না, আমাদের জন্যে ও সৰ্ব্বস্বাস্ত হতে বসেছিল, ওর দেওয়া জিনিস আর নেব না । তা সত্ত্বেও সতীশ ওদের মূতন’ বাসায় যাতায়াত করিত, জিনিসপত্রও দিতে ছাড়িত না। স্বলোচনা বলিত–মাম, আবার কেন আসিল ? তুই বড় স্বার্থপর—স্বার্থের জন্তে সব করিস বলে আমার ভাল লাগে না। দেখ দিকি প্রকাশদীকে ? একদিন সতীশ বলিল—আচ্ছা, আমি কি করলে তুই খুশী হবি স্বলোচনা ? বল, আমি তাই করব । o