পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


¢९ বিভূতি-রচনাবলী ছোকরার কিন্তু আমার উত্তরের দিকে আদৌ মন ছিল না, সে অন্তমনস্কভাবে পূৰ্ব্ববৎ স্বপ্নময় চোখে বলিয়া চুলিয়াছে। একবার রামনগরের মহারাজা কাউন্সিল হাউস হইতে বাহির হইতেছেন, সে কোন বারাদার দুয়ারে দাড়াইয়া ছিল, একেবারে তাহার গা ঘেষিয়া মহারাজা চলিয়া যাইতেছেন, হঠাৎ মহারাজের হাতের লোনা-বাধানো বেতের গুতা তাহার গায়ে সামান্ত ভাবে লাগিতেই খোদ মহারাজা স্বয়ং তাহার দিকে ফিরিয়া চাহিয়া বলিলেন—ও, আই য়্যাম সো সরি –আজও তাহার কানে কথাগুলি লাগিয়া আছে। জিজ্ঞাসা করিলাম—সেখানে কি জন্তে গিয়েছিলে ? —বা রে, দাদাবাবু তো সেখানেই টাইপিস্ট ছিলেন, দেখা করতে গিয়েছিলাম যে ওঁর সঙ্গে । বলিলাম—বা, তুমি তাহলে তো অনেক বড় বড় লোক দেখেছ! ছোকরা উৎসাহের মুরে বলিল—ত আপনার আশীৰ্ব্বাদে সার, অনেক দেখেছি। আজই পড়ে আছি এই অজ পাড়াগায়ে । আই হ্যাভ সীন মেনি মেনি বিগ পিপল্‌—সেই জন্তে আমার ভাল লাগে না এসব জায়গা । এই সময় একটি বিধবা স্ত্রীলোক একখানা র্কাসার থালায় দু পেয়ালা চা সাজাইয়া আনিয়া আমাকে দেখিয়া একটু সঙ্কোচবোধ করিয়া দূরে দাড়াইয়া রহিল। ছোকরা বলিল—এস না, দিয়ে যাও। ইনি পশুপতিবাবুর আত্মীয়। লজ্জা নেই, নিয়ে এস । তবুও মেয়েটি না নড়াতে আমি বলিলাম—তুমি গিয়ে নিয়ে এস। চা খাইতে খাইতে সুরেশ বলিল—আমার একটু ভাল লোকের সঙ্গে কথা বলবার ঝোক আছে চিরকাল । তা এই সব জায়গায় আপনি কোথায় পাবেন বলুন । সব মুখু, নো ওয়ান ইজ ইভান ম্যাটিক পাস্ড, । দুটো ভাল কথা বলি এমন মানুষ নেই। মন যেন কেমন ইপিয়ে উঠেছে। —সময় কটাও কি করে ? -বাড়ীর কাজ করি। বাজারে যাই, নবীনদের বাড়ী এসে মাঝে মাঝে বসি। তা নবীন বরং ভাল, দুটো ভাল কথা শুনতে চায়। ওকে সেদিন বললাম, তোরা এখানে কেমন করে থাকিস ? আমি দেখেছি কলকাতায় বড় বড় লোকের বাড়ী আলাদা নাইবার ঘর আছে, তাকে বাথরুম বলে। গরম জল, ঠাণ্ডা জল। মেদিনীপুরের জমিদারের রডন স্ত্রীটে যে বড় বাড়ী আছে দেখেছেন ? একবার আমি তাদের বাড়ী গিয়েছিলাম আমার এক বন্ধুর সঙ্গে। দোতলায় বার্থ-রুম। বাড়ীখানা কি ! ! বাৰ্থ-ক্রমে একখানা আয়ুন আছে, সমস্ত শরীর একসঙ্গে দেখা যায় । মেঝেতে আপনি কেন মুখ দেখুন না, এমনিই সুন্দর করে পালিশ করা। সকালবেলা গিয়েছিলুম, বাৰুর জন্তে খাবার গেল—চেয়ে চেয়ে দেখলাম, ডিম সেদ্ধ টেস্ট আর দুটি রসগোর, দুটাে কলা। আমাদের একমুঠ চাল ভাজ, তাও সবদিন জোটে না সকালে উঠে । তাই নবীনকে বললাম—তোরা বেঁচে আছিল ভূতের মত ।