পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


○や বিভূতি-রচনাবলী ছোকরা আমার কাছ ঘেষিয়া বসিয়া উৎফুল্ল মুখে বলিল—আপনি বললে বিশ্বাস করবেন না, দাদাবাবুর মামাড়ো ভাই তো সেই অফিসে কাজ করেন, আমি একবার চিঠি নিয়ে গিয়েছিলাম তার কাছে ! ঢুকতেই বা দিকের যে বড় ঘর, মাইকার পর্দা বসানো কাট দরজা ঠেলুন, এমন প্রিং লাগানো আছে, তখনই বন্ধ হয়ে যাবে—সেই ঘরে মর্গ্যান সাহেব বলেন। আমি ফাক দিয়ে দেখি এমনি মোট চুরুট খাচ্ছে! আচ্ছা ওসব চুরুটের দাম কত ? - —অনেক। আচ্ছ, তুমি স্কুল কর আমি আসি বেড়িয়ে । যাহা আশঙ্কা করিয়াছিলাম তাহাই ঘটিল। স্কুল উঠিয়া গেল ফু মাসের মধ্যে। যতদিন টিকিবে ভাবিয়াছিলাম, ততদিনও টিকিল না । একদিন দেখি সুরেশ বেলা একটার সময় বাড়ীর পাশের কাচকলার ঝাড়ে কোপ মারিয়া গাছ কাটিতেছে । বলিলাম—স্কুলে যাও নি ? —ইয়ে—স্কুল উঠে গেল । —সে কি ! কেন ? —ছাত্র হল না। দু মাস দেখলাম, তার পর কেউ মাইনে দেয় না। ভূতের বেগার আর কতদিন খাটি বলুন । চাষার ছেলে, ওরা স্কুল-কলেজের মৰ্ম্ম কি বুঝবে বলুন দেথি । নিউটন বলেছেন—আমি সমুদ্রের ধারে মুড়ি কুড়িয়ে বেড়াচ্ছি। সার আইজাক নিউটন—একজন কত বড়ম্বরের সাহেব, ভাবুন তো—এদের সেসব কথা বুঝিয়ে লাভ কি। মরুক গে, আমার ও ভূতের বেগার না থেটে— রামু মুখুজ্যে আমায় একদিন বলিলেন—ছোড়াটা একেবারে ওয়ার্থলেস। একটা কাজে পাঠাও, তিন ঘণ্টা দেরি করে আসবে। ও হয়েছে আমার একটা বোঝা । —একটা কিছু চাকরিতে ঢুকিয়ে দিন না ওকে। এ রকম ঘরে বসিয়ে রেখে— —বসিয়ে রেখেছি কি সাধে! ম্যাটিক থার্ড ডিভিসনে পাশ–ওকে কোথায় ঢুকুই বল তো ? বি. এ. এম. এ, এ বাজারে আমার ঘাড়েই যত— 拳 —কেন, এখানেও খাটে তো কম নয়। হাটে বাজারে যাচ্ছে, জিনিসপত্র বয়ে আনছে— রামু মুখুখ্যে অপ্রসন্ন মুখে বলিলেন—ওইটেই সবাই দেখে। আমি কি তবে অত বড় ছেলেকে বসিয়ে বসিয়ে খেতে দেব ? অামার তো সে অবস্থা নয়। আমি নিজে কত খাটি দেখ তো—সকাল থেকে সন্ধ্যে পৰ্য্যন্ত— সুতরাং ছোকরার আবার চাকরের জীবন শুরু হইল । গরুর জাব কাট, গরু মাঠে দিয়া আসা, হাট বাজার করা, আরও সংসারের যাবতীয় পরিশ্রমের কাজ। অথচ আশ্চৰ্য্য এই যে, ছোকরার স্বপ্ন তেমনি মায়াময়, কল্পনা তেমনি রঙিন রহিয়া গেল। বাস্তবকে সে স্বীকার করিতে আদেী রাজী হইল না। to e গ্রীষ্মকাল কাটিয়া আষাঢ় মাসের প্রথম সেই যে ভীষণ বর্ষা পড়িল, শ্রাবণ মাস যায় যায় সে বর্ষার বিরাম বিশ্রাম নাই। চারিধার জলে ডুবুডুবু রাস্তাঘাট কাদায়, হাবড়, বন জঙ্গলে