পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


\ჯe বিভূতি-রচনাবলী অভয় আবার সেইরূপ সারা ঘরটি কাপাইয়া হাসিতে লাগিল। তার পর বলিল, ও । দুষবে তো তোমায় ? , তা যত খুশি দোষ দিক। তুমি তো আর শুনতে যাচ্ছ না। তাতে .আর কোন ক্ষতি নেই। দুই মাস অভয়ের সহিত ঘর করিয়া বকুল বেশ বুঝিয়াছিল যে তাহার স্বামীর হাতটানট বেশই আছে। হাতের আঙ্গুল নাকি তাহার ফাক হয় না! বিবাহের পর এই সুযোগে সে বন্ধু-বান্ধবকে ফাকি দিয়া বসিল । সাবান স্কো কিনিয়া দিতে বলিলে সে হাসিয়া উড়াইয়া দিত, সেকালের দোহাই পাড়িয়া স্ত্রীকে আধুনিকতার বিশেষণে জর্জরিত করিতে কুষ্ঠিত হইত না। সেই হারানো যুগের সোনার দিনের বৰ্ম্মে নিজেকে আবৃত করিয়া সে আত্মরক্ষা করিত। বকুলের মুখে আর কোন কথা সরিত না। আর তাহার বলিবারই বা কি থাকিত ? তখন তাহার সবেমাত্র বিবাহ হইয়াছে। ধীরে ধীরে দীর্ঘ তিনটি বৎসর কোন ফাকে কাটিয়া গিয়াছে তাহার হিসাব নাই। অকস্মাৎ একদিন বকুলের সামান্ত অমুখের সামান্তভাবেই স্বত্রপাত হইল। বুধবার রাত্রি দুইটায় সে অভয়কে সহসা ডাকিতে লাগিল । অভয় জিজ্ঞাসা করিল, ব্যাপার কি ? বকুল বলিল, আমার বডড শীত করছে । উঃ হু: হু: ! জানলা দরজা সব বন্ধ করে দাও । আমার ঘাড়ের ওপর লেপ দাও, গায়ের কাপড় দাও, তোশক দাও, গদি দাও, যা কিছু আছে সব দাও । অভয় লেপ দিল, গায়ের কাপড় দিল। বকুলের শীত তবুও তিলাৰ্দ্ধ কমিল না। সে হিহি করিয়া কঁাপিতে লাগিল, চীৎকার করিতে লাগিল—আরও দাও, আরও দাও । দিবার আর কিছুই অবশিষ্ট রহিল না, তথাপি বকুল কাপিতে লাগিল। অভয় তার কপালে হাত দিয়া দেখিল গা যেন পুড়িয়া যাইতেছে। স্ত্রীর অবস্থা দেখিয়া সে মাথায় হাত দিয়া বসিল । এখন এই গভীর রাত্রে সে কি করিবে, করিবার তাহার কিই বা আছে ? সে কি ডাক্তার ডাকিবে ? ডাক্তারের কথা স্মরণ হইলে তাহার মনে শিহরণ জাগিল। ডাক্তার কবিরাজ ডাকা তো বিলাসিতার নামান্তর। আর রাত্রে নাকি ডাক্তারের ডবল ভিজিট । না, এ সামান্ত জরে মানুষের কোন ক্ষতি হয় না। একবার ভাবিল মাথায় আইসব্যাগ দিবে বা কপালে জলপটি দিবে। কিন্তু ক্লোথায় আইসব্যাগ, কোথায় ওভিকোলন ! এদিকে বকুল চীৎকার করিতে লাগিল-আমার মাথা জলে গেল, পুড়ে গেল। অভয় বলিল, বেশ তো ভালমামুব খাওয়া-দাওয়া করে শুলে। হঠাৎ এমন কিই বা অসুখ করল বল দিকি ? এ নিশ্চয়ই ম্যালেরিয়া। আমি হলফ করে বলতে পারি এ ম্যালেরিয়া ছাড়া আর কিছু নয়। বকুল তথন গান জুড়িয়া দিয়াছে, অনর্গল এলোমেলো বকিয়া চলিয়াছ, সজনি, কি পুছলি--- ঐ যমুনারি কুলে-“শুাম কালে, তার কালো মাথার চুড়, তার মোহন বাশি. অভয় বিপদ গণিল । সারারাত্রি স্ত্রীর মাথায় পাখার বাতাস করিতে লাগিল। নিজের