পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিধু মাষ্টার Wo> শরীরের উপর দিয়া যাহা কিছু করা যায় তাহ সে করিতে প্রস্তুত। শুধু এই রাত্রে অযথা সে থামোক পয়সা খরচ করিতে পারিবে না। পয়সা তাহার বুকের বত্রিশখন হাড়ের সামিল। বকুল সারারাত্রি হাসিয়া-কাদিয়া-গাহিয়া চীৎকার করিয়া কাটাইয়া দিল। জর, কমিল না। ভোর হইলে বাড়ীর অন্তান্ত লোকজন আসিয়া হাজির হইল। যথাসময়ে পাড়ার একজন ডাক্তার ডাকিয়া আনা হইল । ডাক্তার অনেকক্ষণ পরীক্ষা করিয়া ভাবিয়া চিন্তিয়া বলিল, টাইফয়েড। রোগ বড় শক্ত হয়ে দাডিয়েছে । এখন রীতিমত চিকিৎসার প্রয়োজন । অভয় প্রমাদ গণিল। বিপদ কি মানুষের এমনি করিয়াই হয় ? তাহার বড় ইচ্ছা হইল সে ডাক ছাড়িয়া চীৎকার করিয়া কঁদে । কিন্তু সে কাদিল না, বরং স্ত্রীর চিকিৎসার জন্ত জলের মত না বলিয়া না কহিয়া দশটি টাকা খরচ করিয়া বসিল । হিসাবের খাতায় খরচের অঙ্কটা হয়তো আরও বড় হুইবে ; কিন্তু স্ত্রী তাহার ভাগ্যবতী, স্বামী-সোহাগিনী, পতি পরম গুরু কে অযথা ব্যয়ের হাত হইতে নিষ্কৃতি দিল। পরের দিনই সে ইহজগতের ময় কাটাইয়া গোলোকধামে চলিয়া গেল, কেহ তাহাকে বাধা দিতে পারিল না। অভয় পত্নীশোকে ধুলিতলে আছডাইয়া পড়িল। সে আৰ্ত্তকণ্ঠে বিনাইয়া বিনাইয় রমণীর স্তায় কাদিতে লাগিল । তাহার অত সাধের তাসের ঘর মরণের তীব্র আঘাতে ভাঙিয়া চুরিয়া লণ্ডভণ্ড হইয়া গেল। সে প্রতিরোধ করিতে পারিল না, কেবল তীব্র মুরে শোকপ্রকাশ করিয়া চলিল। সেইসব পুরনো দিনের হারানো বন্ধুরা আজ বিপদ দেখিয়া আসিয়া জুটিল। সেই হাবু, পটল, রমেন, ভূপেশ, বিপিন—সকলেই একে একে দেখা দিল। দীর্ঘ তিন বৎসর যাহারা অভয়ের ছায়া পর্যন্ত মাড়াইত না, সকালে যাহার মুখ দেখিলে অযাত্রা বলিয়া ঘোষণা করিত, অযথা ইডি ফাটিবার সুশঙ্কায় সারাদিন সচকিত থাকিত, আজ সেই অভয়ের বিপদে আর তাহার, বেচারার হাত দিয়া জল গলে না বলিয়া, দূরে সরিয়া রহিল না । অভয় তাহাদের দেখিয়া যেন হাতে স্বৰ্গ পাইল । তাহার। অভয়ের কান্ন দেখিয়া নিজেরাই কাদিয়া, ফেলিল। তাহারা জানে অভয় তাহার স্ত্রীকে কি দারুণ ভালবাসে, স্ত্রীর অভাবে তাহার জীবন কিরূপ বিষময় হইয়া যাইবে । অগত্যা তাহারা তাহাকে সাম্ভুনা দিতে লাগিল । সন্ধ্যায় শবদ৷হ শেষ করিয়া সকলে গৃহে ফিরল। সত্যই নাকি অভয় তাহার স্ত্রীকে নিবিড়ভাবে ভালবাসিত। সে ভালবাসায় নার্কি এতটুকু গলদ ছিল না। উঠিতে বসিতে সব সময়ে সে বকুল” “বকুল’ বলিয়া অস্থির হইত। বকুল হাসিয়া বলিত, আমি মলে তুমি কি করবে বল ত ? —শুভ্র তাজমহল। , , বকুল হাসিমুখেই বলিত, ওগো, তোমার দুটি পায়ে পড়ি তুমি অত খরচ করে না। অভয় কহিত, পয়সা-কড়ি তো সবই তোমার। তোমার পয়সা.তোমার জন্তে খরচ করব,