পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিধু মাষ্টার WoO অকস্মাৎ আবার সেই পূর্বের স্কার দ্বারে শব্দ ছইল। বাহির হইতে মানুষে যেন দ্বার ঠেলিতেছে। অভয় ছুটির দ্বারপ্রাস্তে গিয়া সেই ফুটা দিয়া বাহিরে তাকাইল। কিন্তু আশ্চৰ্য্য, স্কুল দৃষ্টিতে দেখিল একটি হৃষ্টপুষ্ট ভিটামিনের মাপকাঠির চিহ্নস্বরূপ পাঞ্জাবী ইদ্রর’হনহন করিয়া তাহার রুদ্ধস্বারে মাথা খুড়িয়া পলাইয়া গেল। বিপুল বিস্ময়ে অভয়ের মুখে কোন কথা সরিল না, কেবল তৃপ্তি ও প্রশাস্তির হাসি খেলিয়া গেল। যাহা হউক, যদি ডাকাতই পডিত বা চোরই আসিত । কতদিন হইতে সে ভাবিয়াছে গহনাপত্র পয়সা-কড়ি অন্তত্র সাবধানে রাথিয়া দিবে, কিন্তু ফুরসত পায় নাই। তাই আজ গুপ্তস্থান হইতে চাবি বাহির করিয়া সিন্দুক খুলিয়া দেখিবে তাহার সবকিছু মজুত আছে কিনা। ধীরে ধীরে সে সিন্দুক খুলিয়া ফর্দ মিলাইয় তাহার সম্পত্তি দেখিতে লাগিল। ফৰ্দ্দ মিলাইতে মিলাইতে তাহার তৃষ্ণ পাইয়া গেল। ভাবিল বকুলকে জল আনিতে বলে, হয়তো বলিতও তাহাকে, যদি-না তৎক্ষণাৎ মনে পড়িত তাহার মৃত্যুর কথা। না, একটা চাকর ও একটা ঝি ন! রাখিলে চলিবে না। বকুল আসিয়া পৰ্য্যস্ত সে উহাদের বিদায় করিয়াছিল ; কিন্তু আজ তো তাহদের না হইলে অভয়ের আদৌ চলে না। কম করিয়াও খাওয়া-পরা বাদে তাহাদের জন্ত অভয়কে মাসে অস্তত দশটা টাকা ব্যয় করিতে হইবে, বৎসর শেযে এই দশটি টাকা আবার এক শ কুডি টাকায় পরিণত হইবে । বাৎসরিক মোট অঙ্কট দেখিয়া সে শিহরিয়া উঠিল। যথাসময়ে রাত্রি দুইটা বাজিল। অভয় তখন বাক্স হাতডাইতেছে। তাহার চুল উস্কোখুস্কো হইয়া গিয়াছে, চক্ষু যেন ঠিকরাইয়া পড়িবার উপক্রম হইয়াছে, ঘন ঘন অস্বস্তির নিশ্বাস পড়িতেছে। গভীর রাত্রেই সে স্ত্রীর শুষ্ঠ শয্যায় আসিয়া আছড়াইয়া পড়িল । আবার সে বিনাইয়া বিনাইয়া চাপা-কণ্ঠে কঁদিতে লাগিল। দেওয়ালে টাঙানো স্ত্রীর ফটোখানার দিকে একদৃষ্টিতে চাহিয়া রহিল। ফটাে দেখিয়া বকুলকে চেনা মুশকিল। কোন মান্ধাতার আমলে ঐখানি তোলা হইয়াছিল। তার পর ফটো তুলিবার প্রয়োজন বা সদিচ্ছা আর তাহার হয় নাই । 藝 দুইটা তিনটা করিয়া রাত্রি ধীরে ধীরে কাটিয়া যাইতে লাগিল। অভয়ের চোখে তখনও ঘুম নাই। তখনও সে তাহার দীর্ঘ চুলের মধ্যে অঙ্গুলিচালনা করিয়া কি যেন আকাশ-পাতাল ভাবিতে লাগিল। হয়তো সে পত্নীশোকে বিবশ হইয়া গিয়াছে। শয্যা হইতে উঠিয়া অভয় ঘরুময় পায়চারী করিতে লাগিল । খোলা জানাল দিয়া বাহিরে আকাশের পানে অনিমেষে চাহিয়া রহিল। চাদ অনেকটা হেলিয়া পডিয়াছে, তারায় তারায় সারা আকাশ ছাইয়া গিয়াছে। তাহার বুঝুের, ভিতর সহসা হু হু করিয়া উঠিল। কয়েক বিন্দু অশ্রু তাহার গও বাহিয়া ঝরিয়া পড়িল। কিছুতেই সে ঘুমাইতে পারিল না। ঘুম ঘুরের কথা, সে তাহার বিছানায় গুইতেই পারিল না। শয্যা তাহাকে কাটার স্তায় বিধিতে লাগিল ৷ ”