পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী —সেই কথাটা বলবার সুযোগ পেলুম এতকাল পরে। বিস্মরে আমার মুখে কথা যোগাইল না। শাস্তি বলে কি ! এমন ভুলও মানুষের হয় ? সমস্ত কথাটা বেশ করিয়া ভাবিয়া দেখিবার সময় নয় এটা—তবুও এক চমকে ইহার মনের অনেকখানিই দেখিতে পাইলাম । সভা করিতে আসিয়াছি বিদেশে, আমাকে ডাকিয়া পাঠাইরা এতখানি দরদ দেখাইবার ঠিকমত কারণ আমি অনেক হাতড়াইয়া খুজিয়া পাইতেছিলাম না—অনেকখানি পরিষ্কার হইয়া গেল এবার । কিন্তু মেয়েটি কি ভুলই নিজের বুকের মধ্যে এই ষোল বছর পুষিয়া রাখিয়াছে! আমার অত্যন্ত কৌতুহল হইল কতকগুলি কথা জানিবার। বলিলাম—আজ যখন এখানে এলাম, তুমি কি করে আমায় চিনলে এতকাল পরে ? —সভার জন্তে কাগজ ছাপিয়ে বিলি করেছিল—আপনার নাম দেখলাম । তা ছাড়া স্মরজিৎবাবুর ছেলে আপনার পরিচয় সেদিন দিচ্ছিল ওঁর কাছে আমাদের বাড়ী বসে। আমি তখনই ওঁকে বললাম, যতীনদ আমার বাপের বাড়ীর দেশের শ্লোক। উনি বললেন, রায় বাহাদুরের বাড়ী আপনাদের চা খাওয়ার আয়োজন হয়েছে—তাই শুনে জানলায় দাড়িয়ে ছিলাম । —দেখেই চিনলে এতকাল পরে ? —ওমা, কেন চিনব না! আপনারা আমাদের ভাবেন কি ? এখন ইহাকে ভাল করিয়াই মনে পড়িয়াছে—আমার কিছুদিনের বাল্যসঙ্গিনী একটি অত্যন্ত মুখর, চঞ্চল বালিকার ছবি। আবছায়াভাবে ইহার দু-একটি বাল্যলীলাও মনে পড়িতেছে। বলিলাম—শান্তি, নিতাইয়ের মা সেই বুড়ে গিল্পীর শিব চুরির কথা মনে পড়ে ? শাস্তি হাসিয়া বলিল—খুউ-ব । চুরি করলেন আপনি আর ধনী—ধনাকে মনে আছে ? —সে আজকাল পাটের কলে কাজ করে নৈহাটিতে, মধ্যে একদিন এখানে এসেছিল আজ বছর তিন চার আগে—আর গাল খেয়ে মলুম আমি আর ছোড়দি । —কেন, তোমরা তে সাহায্য করেছিলে, কর নি ? পূজোর ঘরের শেকল তুলে দিতে বলেছিল বুড়ে গিল্পী—শেকল তুলে না দিয়ে বলেছিলে, দিয়েছ। আর একদিন তুমি জাতি দিয়ে অণ্ডিল কেটে ফেলেছিলে মনে আছে ? কেঁদেছিলে খুব । শান্তি ছেলেমানুষের মত মুখ ভ্যাচাইয়া বলিল—স্থ্য, কেঁদেছিলে খুব । ছাই মনে আছে। কাদবার মেয়েই আমি ছিলাম কিনা। —তবু যদি আমার মনে না থাকত । —কি মনে আছে শুনি ? —মনে আছে তুমি কেঁদে ভাসিয়ে দিয়েছিলে । শাত্তি অবাক হইয়া গালে হাত দিয়া বলিল—ওম, কি মিথ্যেবাদ ! আমার হাসি পাইল। বলিলাম—ছেলেবেলার মত ঝগড়া পাকিয়ে তুলছ শান্তি। অভেদ কি কখনও স্বায় ।